ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বেলিংহামের চড় খাওয়া কে এই আর্জেন্টাইন তরুণ ফুটবলার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়। কিন্তু মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন যার ওপর, তিনি আর্জেন্টিনার তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্তিন ‘এল কলো’ বার্কো।

তবে এবার কেবল মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণে নয়, ম্যাচ শেষে ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহামের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতিই তাকে সংবাদ শিরোনামের শীর্ষে নিয়ে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই ক্যামেরায় ধরা পড়ে বার্কো ও বেলিংহামের সেই নাটকীয় মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বার্কো ঠিক কী বলেছিলেন তা স্পষ্ট না হলেও, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহামের প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষীপ্র—তিনি বার্কোর মাথার পেছনে একটি চড় মারেন।

তরুণ বার্কোও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বেলিংহামকে ধাক্কা মারেন, যা দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই নিকোলাস ওতামেন্দি এবং আর্জেন্টিনার অন্য সতীর্থরা এসে দুজনকে আলাদা করেন এবং বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা করেন।

এই ঘটনাটি বার্কোর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চলে আসা সেই চিরচেনা রূপটিকেই আবার মনে করিয়ে দিল: তিনি যেমন প্রচণ্ড প্রতিভাবান, তেমনই মাঠে তার নির্ভীক ও লড়াকু মানসিকতা কাউকেই সহজে ছেড়ে দেওয়ার নয়।

ফুটসাল থেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দল 

বার্কোর এই লড়াকু মানসিকতার পেছনে রয়েছে এক চরম আত্মত্যাগের গল্প। বুয়েনস আইরেস প্রদেশের এক ছোট শহর ‘২৫ দে মেয়ো’-তে জন্ম নেওয়া বার্কো প্রথমে ফুটসাল খেলে তার পায়ের জাদু রপ্ত করেন, যা পরবর্তীতে তাকে মূল ফুটবলে নিয়ে আসে।

তার প্রতিভা আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের নজর কাড়তে বেশি সময় নেয়নি। ২০১৩ সালে তারা বার্কোকে তাদের একাডেমিতে যুক্ত করে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার এক কঠিন রুটিন: ভোর ৬টায় উঠে স্কুল, আর স্কুল শেষেই বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমিতে অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) আসা-যাওয়ার ক্লান্তিহীন যাত্রা।

২০২০ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম পেশাদার চুক্তি সই করেন এবং এর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৎকালীন ম্যানেজার মিগুয়েল আনহেল রুসো মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বার্কোর সিনিয়র দলে অভিষেক করান।

ক্যারিয়ারের সঙ্গে সঙ্গে বার্কোর খেলার পজিশনেও পরিবর্তন এসেছে। ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে শুরু করলেও, পরবর্তীতে তিনি মাঝমাঠে খেলেন এবং একপর্যায়ে একজন অ্যাটাকিং লেফটব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে বাম প্রান্তের যেকোনো পজিশনেই খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ এক বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে তার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বেলিংহামের চড় খাওয়া কে এই আর্জেন্টাইন তরুণ ফুটবলার

আপডেট সময় ০৩:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়। কিন্তু মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন যার ওপর, তিনি আর্জেন্টিনার তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্তিন ‘এল কলো’ বার্কো।

তবে এবার কেবল মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণে নয়, ম্যাচ শেষে ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহামের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতিই তাকে সংবাদ শিরোনামের শীর্ষে নিয়ে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই ক্যামেরায় ধরা পড়ে বার্কো ও বেলিংহামের সেই নাটকীয় মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বার্কো ঠিক কী বলেছিলেন তা স্পষ্ট না হলেও, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহামের প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষীপ্র—তিনি বার্কোর মাথার পেছনে একটি চড় মারেন।

তরুণ বার্কোও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বেলিংহামকে ধাক্কা মারেন, যা দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই নিকোলাস ওতামেন্দি এবং আর্জেন্টিনার অন্য সতীর্থরা এসে দুজনকে আলাদা করেন এবং বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা করেন।

এই ঘটনাটি বার্কোর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চলে আসা সেই চিরচেনা রূপটিকেই আবার মনে করিয়ে দিল: তিনি যেমন প্রচণ্ড প্রতিভাবান, তেমনই মাঠে তার নির্ভীক ও লড়াকু মানসিকতা কাউকেই সহজে ছেড়ে দেওয়ার নয়।

ফুটসাল থেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দল 

বার্কোর এই লড়াকু মানসিকতার পেছনে রয়েছে এক চরম আত্মত্যাগের গল্প। বুয়েনস আইরেস প্রদেশের এক ছোট শহর ‘২৫ দে মেয়ো’-তে জন্ম নেওয়া বার্কো প্রথমে ফুটসাল খেলে তার পায়ের জাদু রপ্ত করেন, যা পরবর্তীতে তাকে মূল ফুটবলে নিয়ে আসে।

তার প্রতিভা আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের নজর কাড়তে বেশি সময় নেয়নি। ২০১৩ সালে তারা বার্কোকে তাদের একাডেমিতে যুক্ত করে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার এক কঠিন রুটিন: ভোর ৬টায় উঠে স্কুল, আর স্কুল শেষেই বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমিতে অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মাইল) আসা-যাওয়ার ক্লান্তিহীন যাত্রা।

২০২০ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম পেশাদার চুক্তি সই করেন এবং এর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৎকালীন ম্যানেজার মিগুয়েল আনহেল রুসো মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বার্কোর সিনিয়র দলে অভিষেক করান।

ক্যারিয়ারের সঙ্গে সঙ্গে বার্কোর খেলার পজিশনেও পরিবর্তন এসেছে। ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে শুরু করলেও, পরবর্তীতে তিনি মাঝমাঠে খেলেন এবং একপর্যায়ে একজন অ্যাটাকিং লেফটব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে বাম প্রান্তের যেকোনো পজিশনেই খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ এক বহুমুখী প্রতিভা রয়েছে তার।