ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে Logo বিভ্রান্তি ছড়াতেই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী Logo হ্যাটট্রিকের পর মেসির স্ত্রী বললেন, ‘তুমি অবিশ্বাস্য’ Logo চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo এস আলমের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যে তদন্ত জোরদার, নজরে এবার মালয়েশিয়ার দুই বিলাসবহুল হোটেল Logo প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রেফারি Logo বিশ্বকাপে রেফারিরা কত টাকা আয় করেন? Logo ফ্রান্স ও সেনেগালের চূড়ান্ত একাদশে থাকছেন যারা

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
সাবেক আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।

সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কি না (ডুয়াল ক্রিমিনালিটি), মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।

অতীতের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মোহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। যথাযথ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যর্পণ সফল হওয়া সম্ভব।

সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদের সফল প্রত্যর্পণ নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—নিখুঁত ও শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এই তিন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির

আপডেট সময় ০৬:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
সাবেক আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।

সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কি না (ডুয়াল ক্রিমিনালিটি), মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।

অতীতের একটি সফল উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মোহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। যথাযথ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যর্পণ সফল হওয়া সম্ভব।

সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদের সফল প্রত্যর্পণ নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—নিখুঁত ও শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এই তিন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।