ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo ইরান চুক্তিতে বিশ্ববাজারে উচ্ছ্বাস: ট্রাম্প Logo ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে Logo বিভ্রান্তি ছড়াতেই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী Logo হ্যাটট্রিকের পর মেসির স্ত্রী বললেন, ‘তুমি অবিশ্বাস্য’ Logo চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo এস আলমের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যে তদন্ত জোরদার, নজরে এবার মালয়েশিয়ার দুই বিলাসবহুল হোটেল Logo প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রেফারি

বিশ্বকাপে চোখ স্পেনের, ‘বাজির ঘোড়া’ ইয়ামাল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ফুটবলের ইতিহাসে হঠাৎ এমন কিছু ‘বিস্ময় বালকের’ আবির্ভাব ঘটে, যারা পায়ের জাদুতে জয় করেন কোটি মানুষের হৃদয়। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসিদের পর সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরেকটি নাম লামিন ইয়ামাল।

২০২৪ সালে স্পেন যখন ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব জেতে, তখন ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র ১৬। ফ্রান্সের বিপক্ষে ইউরোর সেমিফাইনালে তার সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার গোল এখনও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ভাসে। প্রশ্ন উঠছে, ২০১০ সালের পর আবারও কি বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের হাতে তুলে দিতে পারবেন ১৯ বছর বয়সি এই বিস্ময় বালক?

লুই দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন আর পুরনো ধীরগতির ‘টিকিটাকা’র দল নয়। তারা বল দখলে রাখে ঠিকই, কিন্তু আক্রমণ করে দ্রুত, ধারালো এবং ভয়ঙ্কর গতিতে। স্পেনের ৪-৩-৩ ফরমেশনের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তাদের চলমান কাঠামোয়। বিল্ডআপে তিন ডিফেন্ডার, সঙ্গে রদ্রি বা জুবিমেন্দির মতো ডিপ মিডফিল্ডার। এরপর ক্রমাগত রোটেশন, পজিশন পরিবর্তন আর ওয়ান টাচ পাসিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল জায়গায় টেনে নিয়ে যাওয়া। যেন দাবার বোর্ডে ধীরে ধীরে সাজানো এক নিখুঁত চেকমেট!

মিডফিল্ডে রদ্রি, পেদ্রি, জুবিমেন্দি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, গাভি, মিকেল মেরিনো, দানি ওলমোর মতো প্রতিভার সঙ্গে রয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ডিফেন্ডারদের কাছে তিনি যেন এক অসমাপ্ত ধাঁধা! ডান প্রান্তে শুরু করলেও কখনো টাচলাইনে থাকেন, কখনো হাফ স্পেসে ঢুকে পড়েন, কখনো হঠাৎ ভেতরে কাটিয়ে শট নেন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ ম্যাচে ৬ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট তার সামর্থ্যেরই প্রমাণ।

পরিসংখ্যানের বাইরে বড় বিষয় হলো, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকেই বদলে দেয় ইয়ামালের উপস্থিতি। ড্রিবলিং ছাড়াও তাকে আলাদা করে তুলেছে তার বুদ্ধিমত্তা। ২০১০ বিশ্বকাপের পর গত তিন বিশ্বকাপে স্পেনের টিকিটাকা প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে খেই হারিয়েছে। পাসের পরও পাসেও তারা ভাঙতে পারেনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে ইয়ামাল হতে পারেন ‘বাজির ঘোড়া’। ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার যে দক্ষতা তার আছে, সেটিই স্পেনকে অন্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা করতে পারে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের মাঝমাঠ যখন পথ খুঁজে পাবে না, তখন একক কোনো জাদুকরী মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন ইয়ামাল।

ফুটবল কখনও একজনের খেলা নয়। ইতিহাস বলে, প্রতিটি বিশ্বকাপজয়ী দলেরই একজন ‘এক্স ফ্যাক্টর’ থাকে, থাকে একজন ‘বাজির ঘোড়া’। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের সেই ‘বাজির ঘোড়া’ হবেন লামিন ইয়ামাল?

উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা থাক। তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোটি কোটি ভক্তের চোখ যে এই খুদে জাদুকরকে খুঁজবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশ্বকাপে চোখ স্পেনের, ‘বাজির ঘোড়া’ ইয়ামাল

আপডেট সময় ০১:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফুটবলের ইতিহাসে হঠাৎ এমন কিছু ‘বিস্ময় বালকের’ আবির্ভাব ঘটে, যারা পায়ের জাদুতে জয় করেন কোটি মানুষের হৃদয়। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসিদের পর সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরেকটি নাম লামিন ইয়ামাল।

২০২৪ সালে স্পেন যখন ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব জেতে, তখন ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র ১৬। ফ্রান্সের বিপক্ষে ইউরোর সেমিফাইনালে তার সেই অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার গোল এখনও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ভাসে। প্রশ্ন উঠছে, ২০১০ সালের পর আবারও কি বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের হাতে তুলে দিতে পারবেন ১৯ বছর বয়সি এই বিস্ময় বালক?

লুই দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন আর পুরনো ধীরগতির ‘টিকিটাকা’র দল নয়। তারা বল দখলে রাখে ঠিকই, কিন্তু আক্রমণ করে দ্রুত, ধারালো এবং ভয়ঙ্কর গতিতে। স্পেনের ৪-৩-৩ ফরমেশনের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তাদের চলমান কাঠামোয়। বিল্ডআপে তিন ডিফেন্ডার, সঙ্গে রদ্রি বা জুবিমেন্দির মতো ডিপ মিডফিল্ডার। এরপর ক্রমাগত রোটেশন, পজিশন পরিবর্তন আর ওয়ান টাচ পাসিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল জায়গায় টেনে নিয়ে যাওয়া। যেন দাবার বোর্ডে ধীরে ধীরে সাজানো এক নিখুঁত চেকমেট!

মিডফিল্ডে রদ্রি, পেদ্রি, জুবিমেন্দি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, গাভি, মিকেল মেরিনো, দানি ওলমোর মতো প্রতিভার সঙ্গে রয়েছেন লামিন ইয়ামাল। ডিফেন্ডারদের কাছে তিনি যেন এক অসমাপ্ত ধাঁধা! ডান প্রান্তে শুরু করলেও কখনো টাচলাইনে থাকেন, কখনো হাফ স্পেসে ঢুকে পড়েন, কখনো হঠাৎ ভেতরে কাটিয়ে শট নেন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ ম্যাচে ৬ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট তার সামর্থ্যেরই প্রমাণ।

পরিসংখ্যানের বাইরে বড় বিষয় হলো, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকেই বদলে দেয় ইয়ামালের উপস্থিতি। ড্রিবলিং ছাড়াও তাকে আলাদা করে তুলেছে তার বুদ্ধিমত্তা। ২০১০ বিশ্বকাপের পর গত তিন বিশ্বকাপে স্পেনের টিকিটাকা প্রতিপক্ষের ডি বক্সের সামনে খেই হারিয়েছে। পাসের পরও পাসেও তারা ভাঙতে পারেনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে ইয়ামাল হতে পারেন ‘বাজির ঘোড়া’। ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার যে দক্ষতা তার আছে, সেটিই স্পেনকে অন্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা করতে পারে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের মাঝমাঠ যখন পথ খুঁজে পাবে না, তখন একক কোনো জাদুকরী মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন ইয়ামাল।

ফুটবল কখনও একজনের খেলা নয়। ইতিহাস বলে, প্রতিটি বিশ্বকাপজয়ী দলেরই একজন ‘এক্স ফ্যাক্টর’ থাকে, থাকে একজন ‘বাজির ঘোড়া’। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের সেই ‘বাজির ঘোড়া’ হবেন লামিন ইয়ামাল?

উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা থাক। তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোটি কোটি ভক্তের চোখ যে এই খুদে জাদুকরকে খুঁজবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।