ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বক্তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মব করা হচ্ছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বক্তারা বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার এখন বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এই সোশ্যাল মিডিয়া (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মব তৈরি করা হচ্ছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়বদ্ধতা নেই। এ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিকালে কর্ম অধিবেশনে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল ও প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক নেতা এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, মুন্সি আবদুল মান্নান, বাকের হোসাইন, বিএফইউজের এরফানুল হক নাহিদসহ সারা দেশের ১৮টি অঙ্গ ইউনিয়নের সভাপতির মধ্যে চট্টগ্রামে মো. শাহ নওয়াজ, রাজশাহীর আবদুল আউয়াল, খুলনার রাশিদুল ইসলাম, বরিশালের আজাদ আলাউদ্দিন, যশোরের আকরামুজ্জামান, বগুড়ার গণেশ দাশ, কক্সবাজারের নুরুল ইসলাম হেলালী, কুমিল্লার শাহিন মির্জা, দিনাজপুরের সাদাকাত আলী, কুষ্টিয়ার আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, ময়মনসিংহের আইয়ুব আলী, গাজীপুরের দেলোয়ার হোসেন, সিলেটের বদরুজ্জামান বদর, ফেনীর সিদ্দিক আল মামুন, রংপুরের সালেকুজ্জামান সালেক, নারায়ণগঞ্জের আবু সাউদ মাসুদ ও মুন্সিগঞ্জের কাজী বিপ্লব হাসান বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমগ্র জাতি আজ নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা সবাই নির্বাচন চাই। আমরা অপেক্ষা করছি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনা অপরাধে জেল জুলুম দমন নিপীড়ন চালানো যাবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা যায়। এখানে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। মব তৈরি করা হচ্ছে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই মিথ্যা অপপ্রচার থেকে সবারই একটু বিরত থাকা উচিত। অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই মুখপাত্র।

নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। ভিন্নতা থাকবেই। আমি আপনার সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে ভিন্নমত মানেই শত্রু। তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি প্রমাণিত রাজনৈতিক দল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা আমাদের পরীক্ষিত প্রতিশ্রুতি। দলের এই মুখপাত্র বলেন, অধিকার আদায়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না। গত ১৫ বছরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে ধ্বংস করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর অনুরোধজ্ঞাপন করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ (লেজুড়ভিত্তি) জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন, ঐক্যবদ্ধ হন। নিজেদের দাবি-দাওয়া, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ- এসব নিয়ে মালিকপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে শক্তভাবে কথা বলা উচিত। কোনো দলের ওপর নির্ভর করলে অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে দমনের মানসিকতা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সত্যিকারের দেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন পরওয়ার। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দুর্দিনে তাদের নিজেদেরই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক; কিন্তু সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সত্যিকারের দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি স্বার্থ ত্যাগ করে জাতির কল্যাণে নতুন দেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্য নির্মাণের কথাও বলেন।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সবাই একমত। কিন্তু দুর্ভাগ্য- সাংবাদিকতা লক্ষ্যতে স্থির থাকতে পারছে না। সাংবাদিকরা অনৈতিকতা ও স্বার্থের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মালিকের পুঁজি রক্ষা, দুর্নীতির পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে সাংবাদিকরা।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনা অপরাধে জেল জুলুম দমন নিপীড়ন চালানো যাবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বক্তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মব করা হচ্ছে

আপডেট সময় ১০:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বক্তারা বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার এখন বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এই সোশ্যাল মিডিয়া (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মব তৈরি করা হচ্ছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়বদ্ধতা নেই। এ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিকালে কর্ম অধিবেশনে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল ও প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক নেতা এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, মুন্সি আবদুল মান্নান, বাকের হোসাইন, বিএফইউজের এরফানুল হক নাহিদসহ সারা দেশের ১৮টি অঙ্গ ইউনিয়নের সভাপতির মধ্যে চট্টগ্রামে মো. শাহ নওয়াজ, রাজশাহীর আবদুল আউয়াল, খুলনার রাশিদুল ইসলাম, বরিশালের আজাদ আলাউদ্দিন, যশোরের আকরামুজ্জামান, বগুড়ার গণেশ দাশ, কক্সবাজারের নুরুল ইসলাম হেলালী, কুমিল্লার শাহিন মির্জা, দিনাজপুরের সাদাকাত আলী, কুষ্টিয়ার আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, ময়মনসিংহের আইয়ুব আলী, গাজীপুরের দেলোয়ার হোসেন, সিলেটের বদরুজ্জামান বদর, ফেনীর সিদ্দিক আল মামুন, রংপুরের সালেকুজ্জামান সালেক, নারায়ণগঞ্জের আবু সাউদ মাসুদ ও মুন্সিগঞ্জের কাজী বিপ্লব হাসান বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমগ্র জাতি আজ নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা সবাই নির্বাচন চাই। আমরা অপেক্ষা করছি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনা অপরাধে জেল জুলুম দমন নিপীড়ন চালানো যাবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা যায়। এখানে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। মব তৈরি করা হচ্ছে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই মিথ্যা অপপ্রচার থেকে সবারই একটু বিরত থাকা উচিত। অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই মুখপাত্র।

নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। ভিন্নতা থাকবেই। আমি আপনার সঙ্গে একমত নাও হতে পারি, কিন্তু আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে ভিন্নমত মানেই শত্রু। তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি প্রমাণিত রাজনৈতিক দল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা আমাদের পরীক্ষিত প্রতিশ্রুতি। দলের এই মুখপাত্র বলেন, অধিকার আদায়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না। গত ১৫ বছরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে ধ্বংস করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর অনুরোধজ্ঞাপন করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ (লেজুড়ভিত্তি) জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন, ঐক্যবদ্ধ হন। নিজেদের দাবি-দাওয়া, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ- এসব নিয়ে মালিকপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে শক্তভাবে কথা বলা উচিত। কোনো দলের ওপর নির্ভর করলে অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে দমনের মানসিকতা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সত্যিকারের দেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন পরওয়ার। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দুর্দিনে তাদের নিজেদেরই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক; কিন্তু সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সত্যিকারের দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি স্বার্থ ত্যাগ করে জাতির কল্যাণে নতুন দেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্য নির্মাণের কথাও বলেন।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সবাই একমত। কিন্তু দুর্ভাগ্য- সাংবাদিকতা লক্ষ্যতে স্থির থাকতে পারছে না। সাংবাদিকরা অনৈতিকতা ও স্বার্থের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মালিকের পুঁজি রক্ষা, দুর্নীতির পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে সাংবাদিকরা।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনা অপরাধে জেল জুলুম দমন নিপীড়ন চালানো যাবে না।