সৌদি আরবের মদিনার মসজিদে নববীতে ঘটে গেল অভাবনীয় ঘটনা। (Nabawi Medina)হজ বা ওমরাহ পালন করতে আসা এক ব্যাক্তি তার অসুস্থ বাবাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেছে। তার দাবি ছিল, মদিনায় মারা গেলে বাবা সরাসরি জন্নতে চলে যাবেন। এই ঘটনায় সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে ছেলেকে গ্রেফতার করেছে এবং বাবাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদের ভিতরে নামাজের সময় বা তার আশেপাশে এই ঘটনা ঘটে।
ছেলেটি তার বাবার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। উপস্থিত মুসল্লিরা চিৎকার করে উঠলে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে আসায় বাবা প্রাণে বেঁচে যান। ছেলেকে অভিযুক্ত করে আটক করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা যাচাই করা হবে। কারণ এমন অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে হত্যার চেষ্টা সাধারণত মানসিক অসুস্থতা বা ভুল ধর্মীয় ব্যাখ্যার ফল হতে পারে।
এই ঘটনা শুনে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখের সঞ্চার হয়েছে। মসজিদে নববী বিশ্বের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান, যেখানে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা শরীফ অবস্থিত। এখানে শান্তি, ইবাদত এবং ভালোবাসার পরিবেশ থাকার কথা। কিন্তু একজন ছেলের এমন কাজ সকলকে হতবাক করেছে। অনেকে বলছেন, এটা ধর্মের নামে অপব্যবহার। ইসলামে পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও সেবা ফরজ।
কুরআনে বারবার বলা হয়েছে, “তোমাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে উপাসনা করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনী ইসরাইল: ২৩)। হত্যা তো দূরের কথা, পিতা-মাতাকে কষ্ট দেওয়াও বড় গুনাহ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাবা অসুস্থ ছিলেন, সম্ভবত বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ছেলেটি হয়তো ভেবেছিল, পবিত্র স্থানে মৃত্যু হলে জান্নাত নিশ্চিত।
কিন্তু ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, মৃত্যুর স্থান নয়, আমল ও ঈমানের উপর নির্ভর করে জান্নাত-জাহান্নাম। মদিনায় মারা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জান্নাতে যাওয়ার কোনো হাদিস বা কুরআনী নির্দেশ নেই। এমন ভুল ধারণা থেকে এই অপরাধমূলক চিন্তা উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ছেলেটির মানসিক ভারসাম্যহীনতা থাকতে পারে, যা পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। মসজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে। অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ধর্মীয় স্থানে শান্তি বজায় রাখা এবং পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করা। হজ-ওমরাহ করতে আসা লাখো মানুষের মধ্যে এই ঘটনা একটা কালো দাগ হয়ে রয়ে গেছে।

নিজস্ব সংবাদ : 























