ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বাঁশির অপেক্ষায় মেটলাইফ স্টেডিয়াম

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

চার বছর পরপর পৃথিবী যেন কিছুদিনের জন্য ভুলে যায় দেশের সীমানা, ভাষা আর সংস্কৃতির পার্থক্য। একটি জয় কিংবা একটি পরাজয়—একই আবেগে কাঁদায় ও হাসায় কোটি কোটি মানুষকে। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনটিকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।

চলমান আসরের আগে ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপের ২২টি আসরের প্রতিটিই উপহার দিয়েছে নতুন গল্প, নতুন ইতিহাস আর স্মরণীয় সব মুহূর্ত। প্রতিটি আসরের সব উত্তেজনা ও নাটকীয়তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ফাইনালের মঞ্চে।

এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৩তম আসর, যা অতীতের যেকোনো আয়োজনের চেয়েও বড় ও জমজমাট। এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচ জন্ম দিয়েছে সমর্থকদের আনন্দ, উত্তেজনা আর প্রিয় দলের হার-জিতের নানা অনুভূতির গল্প।

এই ফুটবল মহাযজ্ঞের শেষ অধ্যায় লেখা হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিশ্বখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, এখানেই হতে যাচ্ছে ফাইনাল ম্যাচ। ইতিমধ্যে সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ভেন্যুতে।

বাইরে থেকে দেখলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে আধুনিক আর ১০টি স্টেডিয়ামের মতোই মনে হতে পারে। তবে ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধু একটি মাঠই নয়, যেন বিশাল এক ‘সাম্রাজ্য’।

প্রায় ২১ লাখ বর্গফুট আয়তনের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসতে পারেন ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক। অর্থাৎ ফাইনালের দিন গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের গর্জনে কেঁপে উঠবে পুরো নিউ জার্সি!

তবে শুধু বিশ্বকাপই নয়, বড় বড় আয়োজনের সঙ্গে মেটলাইফের পরিচয় বহু পুরোনো। কোপা আমেরিকার ফাইনাল, এনএফএলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ এবং রেসলম্যানিয়ার জমকালো লড়াই—সবই দেখেছে এই স্টেডিয়াম।

খেলার বাইরেও এটি বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা। টেইলর সুইফট, বিটিএস, বিয়ন্সে ও ব্রুনো মার্সের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের কনসার্টে আলো, সংগীত আর দর্শকদের উন্মাদনায় বহুবার রঙিন হয়েছে মেটলাইফের রাত।

২০১১ সালে ২৫ বছরের নামকরণ-স্বত্ব চুক্তির মাধ্যমে ভেন্যুটির নাম রাখা হয় ‘মেটলাইফ স্টেডিয়াম’। তবে মেটলাইফের পরিচয় শুধু স্টেডিয়ামের নামেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও ৭৪ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এবারের বিশ্বকাপ আসরে খেলতে আসা ৪৮টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশেই উপস্থিতি আছে মেটলাইফের।
১৯ জুলাই এই স্টেডিয়ামেই রচিত হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে এক দলের হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, আরেক দলের বুকে সুর তুলবে স্বপ্নছোঁয়ার এক কদম দূরত্বে থাকা হাহাকারের গান।

গ্যালারিতে একদল মাতবে আনন্দ–উল্লাসে, আরেক দলের বেদনার অশ্রুতে ভাসবে চোখ। মাঠে কেউ হয়ে উঠবে জাতীয় বীর, আবার কেউ হয়তো একটি ভুলের জন্য সেই রাতটিকে ভুলতে পারবে না আজীবন। সব আলো থাকবে বিশ্বজয়ী দলের ওপর। আর এত সব ঘটনা ও নতুন ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বাঁশির অপেক্ষায় মেটলাইফ স্টেডিয়াম

আপডেট সময় ০৪:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

চার বছর পরপর পৃথিবী যেন কিছুদিনের জন্য ভুলে যায় দেশের সীমানা, ভাষা আর সংস্কৃতির পার্থক্য। একটি জয় কিংবা একটি পরাজয়—একই আবেগে কাঁদায় ও হাসায় কোটি কোটি মানুষকে। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনটিকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।

চলমান আসরের আগে ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপের ২২টি আসরের প্রতিটিই উপহার দিয়েছে নতুন গল্প, নতুন ইতিহাস আর স্মরণীয় সব মুহূর্ত। প্রতিটি আসরের সব উত্তেজনা ও নাটকীয়তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ফাইনালের মঞ্চে।

এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৩তম আসর, যা অতীতের যেকোনো আয়োজনের চেয়েও বড় ও জমজমাট। এবারই প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচ জন্ম দিয়েছে সমর্থকদের আনন্দ, উত্তেজনা আর প্রিয় দলের হার-জিতের নানা অনুভূতির গল্প।

এই ফুটবল মহাযজ্ঞের শেষ অধ্যায় লেখা হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিশ্বখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, এখানেই হতে যাচ্ছে ফাইনাল ম্যাচ। ইতিমধ্যে সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ভেন্যুতে।

বাইরে থেকে দেখলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে আধুনিক আর ১০টি স্টেডিয়ামের মতোই মনে হতে পারে। তবে ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধু একটি মাঠই নয়, যেন বিশাল এক ‘সাম্রাজ্য’।

প্রায় ২১ লাখ বর্গফুট আয়তনের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসতে পারেন ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক। অর্থাৎ ফাইনালের দিন গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের গর্জনে কেঁপে উঠবে পুরো নিউ জার্সি!

তবে শুধু বিশ্বকাপই নয়, বড় বড় আয়োজনের সঙ্গে মেটলাইফের পরিচয় বহু পুরোনো। কোপা আমেরিকার ফাইনাল, এনএফএলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ এবং রেসলম্যানিয়ার জমকালো লড়াই—সবই দেখেছে এই স্টেডিয়াম।

খেলার বাইরেও এটি বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা। টেইলর সুইফট, বিটিএস, বিয়ন্সে ও ব্রুনো মার্সের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের কনসার্টে আলো, সংগীত আর দর্শকদের উন্মাদনায় বহুবার রঙিন হয়েছে মেটলাইফের রাত।

২০১১ সালে ২৫ বছরের নামকরণ-স্বত্ব চুক্তির মাধ্যমে ভেন্যুটির নাম রাখা হয় ‘মেটলাইফ স্টেডিয়াম’। তবে মেটলাইফের পরিচয় শুধু স্টেডিয়ামের নামেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও ৭৪ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এবারের বিশ্বকাপ আসরে খেলতে আসা ৪৮টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশেই উপস্থিতি আছে মেটলাইফের।
১৯ জুলাই এই স্টেডিয়ামেই রচিত হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে এক দলের হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, আরেক দলের বুকে সুর তুলবে স্বপ্নছোঁয়ার এক কদম দূরত্বে থাকা হাহাকারের গান।

গ্যালারিতে একদল মাতবে আনন্দ–উল্লাসে, আরেক দলের বেদনার অশ্রুতে ভাসবে চোখ। মাঠে কেউ হয়ে উঠবে জাতীয় বীর, আবার কেউ হয়তো একটি ভুলের জন্য সেই রাতটিকে ভুলতে পারবে না আজীবন। সব আলো থাকবে বিশ্বজয়ী দলের ওপর। আর এত সব ঘটনা ও নতুন ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম।