ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, রেললাইনে অভিযুক্তের মৃতদেহ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রামে ১২ বছরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে হাফিজুল ইসলামকে (২০) আড়াই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। শুধু তাই নয় সালিশ বৈঠকে তাকে মারধরও করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পাওয়া গেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাফিজুল একই এলাকার মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাফিজুল তার বাড়িতে প্রতিবেশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চাচি টের পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে হাফিজুলকে ধরে ফেলে এবং বাড়ির একটি কক্ষে বন্দি করে। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর বরাত আলী, মোন্নাফ কসাই, রবিউলসহ কয়েকজনের মধ্যস্থতায় সালিশ বসে। সালিশে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে আড়াই লাখ টাকায় নামানো হয়।

এ সময় সালিশে উপস্থিত কয়েকজন হাফিজুলকে মারধরও করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে স্পর্শকাতর ঘটনায় এ ধরনের সালিশ ও শারীরিক নির্যাতনের বৈধতা নিয়েও এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সালিশকারী বরাত কমিশনারের মোবাইল ফোনে না পেয়ে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নাই। অপর সালিশকারী মোন্নাফ কসাই বলেন, আমরা কোনো সালিশ করি নাই। এর পরে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

শুক্রবার সকালে ভাঙ্গুড়ার পার্শ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া এলাকায় রেললাইনের ওপর হাফিজুলের কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

চাটমোহর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ রেল পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে বলে জেনেছি। ঘটনাস্থল আমাদের থানা এলাকার বাইরে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, রেললাইনে অভিযুক্তের মৃতদেহ

আপডেট সময় ০২:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রামে ১২ বছরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে হাফিজুল ইসলামকে (২০) আড়াই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। শুধু তাই নয় সালিশ বৈঠকে তাকে মারধরও করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পাওয়া গেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাফিজুল একই এলাকার মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাফিজুল তার বাড়িতে প্রতিবেশী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চাচি টের পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে হাফিজুলকে ধরে ফেলে এবং বাড়ির একটি কক্ষে বন্দি করে। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর বরাত আলী, মোন্নাফ কসাই, রবিউলসহ কয়েকজনের মধ্যস্থতায় সালিশ বসে। সালিশে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে আড়াই লাখ টাকায় নামানো হয়।

এ সময় সালিশে উপস্থিত কয়েকজন হাফিজুলকে মারধরও করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে স্পর্শকাতর ঘটনায় এ ধরনের সালিশ ও শারীরিক নির্যাতনের বৈধতা নিয়েও এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সালিশকারী বরাত কমিশনারের মোবাইল ফোনে না পেয়ে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নাই। অপর সালিশকারী মোন্নাফ কসাই বলেন, আমরা কোনো সালিশ করি নাই। এর পরে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

শুক্রবার সকালে ভাঙ্গুড়ার পার্শ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া এলাকায় রেললাইনের ওপর হাফিজুলের কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

চাটমোহর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ রেল পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে বলে জেনেছি। ঘটনাস্থল আমাদের থানা এলাকার বাইরে।