ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
পুলিশের দুর্নীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবকে দায়ী করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বলেছিলেন পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই মূলত দুর্নীতির জন্ম হয় এবং এই বাধ্যবাধকতা দূর করতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গুরুতর মামলার তদন্তে সরকারি বরাদ্দ বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তিনি জানান, খুন ও ডাকাতির মতো বড় মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দিয়ে বছরের পর বছর চলা তদন্তের ব্যয় মেটানো অসম্ভব।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, হাজার হাজার কোটি টাকার ‘মানি লন্ডারিং’ বা অর্থ পাচার মামলার তদন্তে বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা। একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের পকেট থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই আর্থিক টানাপোড়েনই মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ জোগাড়ে বা দুর্নীতিতে বাধ্য করে।

পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা থাকলেও পুলিশের ক্ষেত্রে তা নেই। তারা দিনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদে এই বিষয়ে কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন দ্রুত এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এছাড়া মাঠপর্যায়ের সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের প্রাপ্য অধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছেন এই জনপ্রতিনিধি। তিনি মনে করেন, পুলিশকে আইনবহির্ভূত বা অন্যায় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস অর্জন করতে হবে।

তার মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক মহলের চাপের মুখে বেআইনি কাজ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও অজান্তেই এই সংস্কৃতির অংশ হয়ে যান। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, পুলিশ অবশ্যই আইনসম্মত নির্দেশ পালন করবে, কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

বেআইনি আদেশ প্রত্যাখ্যান করার কারণে পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির দাবিও জানান তিনি।

সবশেষে একটি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সংসদ ও সরকার যেভাবে পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, পুলিশ বাহিনী নিজেও কি সেই স্বাধীনতা অর্জনে মানসিকভাবে প্রস্তুত?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম: হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় ০৬:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
পুলিশের দুর্নীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবকে দায়ী করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বলেছিলেন পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই মূলত দুর্নীতির জন্ম হয় এবং এই বাধ্যবাধকতা দূর করতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গুরুতর মামলার তদন্তে সরকারি বরাদ্দ বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তিনি জানান, খুন ও ডাকাতির মতো বড় মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দিয়ে বছরের পর বছর চলা তদন্তের ব্যয় মেটানো অসম্ভব।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, হাজার হাজার কোটি টাকার ‘মানি লন্ডারিং’ বা অর্থ পাচার মামলার তদন্তে বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা। একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের পকেট থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই আর্থিক টানাপোড়েনই মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ জোগাড়ে বা দুর্নীতিতে বাধ্য করে।

পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা থাকলেও পুলিশের ক্ষেত্রে তা নেই। তারা দিনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদে এই বিষয়ে কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এখন দ্রুত এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এছাড়া মাঠপর্যায়ের সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের প্রাপ্য অধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছেন এই জনপ্রতিনিধি। তিনি মনে করেন, পুলিশকে আইনবহির্ভূত বা অন্যায় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সাহস অর্জন করতে হবে।

তার মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক মহলের চাপের মুখে বেআইনি কাজ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও অজান্তেই এই সংস্কৃতির অংশ হয়ে যান। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, পুলিশ অবশ্যই আইনসম্মত নির্দেশ পালন করবে, কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

বেআইনি আদেশ প্রত্যাখ্যান করার কারণে পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির দাবিও জানান তিনি।

সবশেষে একটি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সংসদ ও সরকার যেভাবে পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, পুলিশ বাহিনী নিজেও কি সেই স্বাধীনতা অর্জনে মানসিকভাবে প্রস্তুত?