ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ:

রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীগণ মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে; মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সকল বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সাথে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

আপডেট সময় ০৬:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ:

রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কোনো জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীগণ মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে। অংশগ্রহণকারীদের শুরুতেই মিছিলে যোগ দিতে হবে; মিছিল শুরুর পর মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

সকল বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।

পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সাথে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।