ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নৌ মন্ত্রণালয়ে ১৬ সংস্থা, তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে: নৌমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শুধু নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে। নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিক, নাবিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এর দায় এককভাবে কারও নয়, বরং সবার। শ্রমিকরা দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আশীর্বাদগুলোর একটি হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ।

অথচ এই বিশাল সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে, আরও ১২০০ কিলোমিটারে ড্রেজিং চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে। তবে নৌযান ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনও জরাজীর্ণতা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাস যেমন মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন শেখায়, তেমনি এই ধরনের আয়োজনও দায়িত্ব ও কর্তব্যে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়। তাই এ ধরনের সপ্তাহ পালন সবাইকে আবার সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

নৌযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উপভোগ্য করতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, সদরঘাটে ঈদের সময় আগের চেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশের নৌ ব্যবস্থাপনার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। শুধু আর্থিক বিনিয়োগে নয়, বরং মেধা, শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের বিনিয়োগের মাধ্যমেই একটি দেশ সমৃদ্ধ হয়।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পরিবার নিরাপদ হওয়ার পরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। তাহলেই দেশের পরিবর্তন সম্ভব হবে।

ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকরা ইতোমধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বজনীন স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌ পরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নৌ মন্ত্রণালয়ে ১৬ সংস্থা, তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে: নৌমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শুধু নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে। নৌ পরিবহন খাতের শ্রমিক, নাবিক, মালিক ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এর দায় এককভাবে কারও নয়, বরং সবার। শ্রমিকরা দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টস শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আশীর্বাদগুলোর একটি হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ।

অথচ এই বিশাল সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে, আরও ১২০০ কিলোমিটারে ড্রেজিং চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে। তবে নৌযান ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনও জরাজীর্ণতা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে।

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাস যেমন মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের অনুশীলন শেখায়, তেমনি এই ধরনের আয়োজনও দায়িত্ব ও কর্তব্যে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়। তাই এ ধরনের সপ্তাহ পালন সবাইকে আবার সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকে বিভিন্ন সমস্যা ও বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

নৌযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উপভোগ্য করতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, সদরঘাটে ঈদের সময় আগের চেয়ে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশের নৌ ব্যবস্থাপনার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। শুধু আর্থিক বিনিয়োগে নয়, বরং মেধা, শ্রম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের বিনিয়োগের মাধ্যমেই একটি দেশ সমৃদ্ধ হয়।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পরিবার নিরাপদ হওয়ার পরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। তাহলেই দেশের পরিবর্তন সম্ভব হবে।

ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকরা ইতোমধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বজনীন স্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌ পরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান প্রমুখ।