ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ট্রাম্পের হুমকির মুখেও মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলাকালে বিশ্বশক্তির চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে… কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। তার এমন হুমকির মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট পালটা ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ওই সতর্কবার্তা এসেছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে ‌‌‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন।

শুক্রবার এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কি ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এতটুকুই বলতে পারি—বিষয়টি বিবেচনা করছি।’

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করে।

জেনেভায় আলোচনার পর তেহরান বলেছে, সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া জমা দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, এটিই হবে পরবর্তী ধাপ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটি প্রস্তুত হবে এবং আমার ঊর্ধ্বতনদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরাঘচি বলেন, মার্কিন আলোচকরা তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেননি। তবে আরাঘচির এই মন্তব্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, আমরা কোনো স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও শূন্য সমৃদ্ধকরণের কথা বলেনি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউয়ে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা এখন যে বিষয়ে কথা বলছি, তা হলো—ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এটি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং চিরকাল শান্তিপূর্ণই থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ট্রাম্পের হুমকির মুখেও মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় ০১:২৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলাকালে বিশ্বশক্তির চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে… কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। তার এমন হুমকির মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট পালটা ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ওই সতর্কবার্তা এসেছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে ‌‌‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। পরে তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন।

শুক্রবার এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কি ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এতটুকুই বলতে পারি—বিষয়টি বিবেচনা করছি।’

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করে।

জেনেভায় আলোচনার পর তেহরান বলেছে, সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া জমা দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, এটিই হবে পরবর্তী ধাপ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটি প্রস্তুত হবে এবং আমার ঊর্ধ্বতনদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরাঘচি বলেন, মার্কিন আলোচকরা তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেননি। তবে আরাঘচির এই মন্তব্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, আমরা কোনো স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও শূন্য সমৃদ্ধকরণের কথা বলেনি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউয়ে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা এখন যে বিষয়ে কথা বলছি, তা হলো—ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এটি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং চিরকাল শান্তিপূর্ণই থাকবে।