ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ট্রাম্পের হামলার হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও আগ্রাসনের জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটি। ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন পদক্ষেপ নেয়, তবে প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর। এমনকি ইরানের জবাব ‘অনুতাপজনক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এ সতর্কবার্তা দেন। এর আগের দিন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকে আবারও তিনি ইসরায়েলের সুরের সঙ্গে সুর মেলান।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল ইসরায়েলের দাবি। বরং ওয়াশিংটন মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকেই নজর দিয়েছে। ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে পর্যন্ত ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার কোনও প্রশ্নই নেই। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও আগ্রাসনের জবাব হবে ‘কঠোর ও অনুতাপজনক’। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শুনছি, ইরান আবার শক্তি জোগাড়ের চেষ্টা করছে। যদি করে, আমাদের তা ভেঙে ফেলতেই হবে, ঠেকাতে হবে।’

ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘তাৎক্ষণিক’ হামলার পক্ষে তিনি এবং তেহরান দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র তৈরি চালিয়ে গেলে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মূলত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, জুনের সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরান এখন আবার নীরবেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ গড়ছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামাতে কোনও সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে তেহরানের মুখোমুখি হওয়া ‘অপরিহার্য’ হতে পারে।

সংঘাত নজরদারি সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের ২৭টি প্রদেশে প্রায় ৩৬০টি হামলা চালায়। আর এই হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা ও সরকারি ভবন। সে হামলায় প্রায় এক হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিহত হন ৩০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্তত ১১ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী।

প্রতিউত্তরে ইরান ইসরায়েলের দিকে ৫০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬টি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, তেহরানের কাছে গোপনে জমা রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকতে পারে এবং চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই উৎপাদন আবার শুরু করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ট্রাম্পের হামলার হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট সময় ১২:১৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও আগ্রাসনের জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটি। ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন পদক্ষেপ নেয়, তবে প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর। এমনকি ইরানের জবাব ‘অনুতাপজনক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এ সতর্কবার্তা দেন। এর আগের দিন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকে আবারও তিনি ইসরায়েলের সুরের সঙ্গে সুর মেলান।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল ইসরায়েলের দাবি। বরং ওয়াশিংটন মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকেই নজর দিয়েছে। ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে পর্যন্ত ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার কোনও প্রশ্নই নেই। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও আগ্রাসনের জবাব হবে ‘কঠোর ও অনুতাপজনক’। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শুনছি, ইরান আবার শক্তি জোগাড়ের চেষ্টা করছে। যদি করে, আমাদের তা ভেঙে ফেলতেই হবে, ঠেকাতে হবে।’

ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘তাৎক্ষণিক’ হামলার পক্ষে তিনি এবং তেহরান দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র তৈরি চালিয়ে গেলে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মূলত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, জুনের সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরান এখন আবার নীরবেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ গড়ছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামাতে কোনও সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে তেহরানের মুখোমুখি হওয়া ‘অপরিহার্য’ হতে পারে।

সংঘাত নজরদারি সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের ২৭টি প্রদেশে প্রায় ৩৬০টি হামলা চালায়। আর এই হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা ও সরকারি ভবন। সে হামলায় প্রায় এক হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিহত হন ৩০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্তত ১১ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানী।

প্রতিউত্তরে ইরান ইসরায়েলের দিকে ৫০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬টি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, তেহরানের কাছে গোপনে জমা রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকতে পারে এবং চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই উৎপাদন আবার শুরু করা সম্ভব।