ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

জিয়াউল একজন সিরিয়াল কিলার, আমি তার পদোন্নতির পক্ষে ছিলাম না: সাবেক সেনাপ্রধান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
শতাধিক মানুষকে গুম-খুনের আসামি জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার এবং তার পদোন্নতির পক্ষে ছিলেন না বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুম ও খুনের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো তাকে জেরা করেন। জেরার এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন ইকবাল করিম। এর আগে তিনি এই আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এই ট্রাইবুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ইকবাল করিমের উদ্দেশ্যে আইনজীবী টিটো বলেন, আপনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন ২০১২-১৫ সালের সময়ে কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন জিয়াউল আহসান। জবাবে একটি পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। আর তা হলো লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি।

আরেক প্রশ্নে পদোন্নতির বিষয়ে কতজন সুপারিশ করেছেন, তা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, অধিকাংশই মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছেন।

তবে পরে তিনি বলেন, আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় এভাবেই উপস্থাপন করবে। সভায় এভাবেই উপস্থাপন করেন মোমেন। তবুও জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন অধিকাংশ সদস্য।

এ প্রসঙ্গে ইকবাল করিম আরো বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। তিনি স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনও অর্জন করেননি। এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেননি। এজন্য কোন অবস্থাতেই তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।

পদোন্নতি সভায় জিয়াউলকে নিয়ে এসব কথা বলায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। এ ধরনের পোস্টিংকে ডাম্পিং পোস্ট বলা হয় যা অপমানজনক।

আরেক প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, আপনার সময়ে কোনো পদোন্নতি আপনার অগোচরে হয়েছে কি-না? জবাবে তিনি বলেন, না। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদোন্নতির তালিকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাক্ষর করেছি।

পরে আইনজীবী প্রশ্ন করেন, সুপার চিফ হিসেবে তারেক সিদ্দিকীকে মান্য করেছেন কি-না? জবাবে তিনি বলেন, সব সময় মান্য করতাম না।

টিটো প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক তথা শারীরিক সক্ষমতা, কোর্সের ফলাফল, বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদন, পার্সোনাল সার্ভিসের রিপোর্ট, ও এমআই ক্লিয়ারেন্স দেখে বিবেচনা করা হয়, একথা সত্য কি-না? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ তবে সব সময় মানা হয় না।

জেরা অসম্পন্ন থাকায় পরবর্তী জেরার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

জিয়াউল একজন সিরিয়াল কিলার, আমি তার পদোন্নতির পক্ষে ছিলাম না: সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট সময় ০৭:০০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
শতাধিক মানুষকে গুম-খুনের আসামি জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার এবং তার পদোন্নতির পক্ষে ছিলেন না বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুম ও খুনের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো তাকে জেরা করেন। জেরার এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন ইকবাল করিম। এর আগে তিনি এই আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এই ট্রাইবুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ইকবাল করিমের উদ্দেশ্যে আইনজীবী টিটো বলেন, আপনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন ২০১২-১৫ সালের সময়ে কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন জিয়াউল আহসান। জবাবে একটি পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। আর তা হলো লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি।

আরেক প্রশ্নে পদোন্নতির বিষয়ে কতজন সুপারিশ করেছেন, তা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, অধিকাংশই মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছেন।

তবে পরে তিনি বলেন, আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় এভাবেই উপস্থাপন করবে। সভায় এভাবেই উপস্থাপন করেন মোমেন। তবুও জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন অধিকাংশ সদস্য।

এ প্রসঙ্গে ইকবাল করিম আরো বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। তিনি স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনও অর্জন করেননি। এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করেননি। এজন্য কোন অবস্থাতেই তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।

পদোন্নতি সভায় জিয়াউলকে নিয়ে এসব কথা বলায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। এ ধরনের পোস্টিংকে ডাম্পিং পোস্ট বলা হয় যা অপমানজনক।

আরেক প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, আপনার সময়ে কোনো পদোন্নতি আপনার অগোচরে হয়েছে কি-না? জবাবে তিনি বলেন, না। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদোন্নতির তালিকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাক্ষর করেছি।

পরে আইনজীবী প্রশ্ন করেন, সুপার চিফ হিসেবে তারেক সিদ্দিকীকে মান্য করেছেন কি-না? জবাবে তিনি বলেন, সব সময় মান্য করতাম না।

টিটো প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক তথা শারীরিক সক্ষমতা, কোর্সের ফলাফল, বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদন, পার্সোনাল সার্ভিসের রিপোর্ট, ও এমআই ক্লিয়ারেন্স দেখে বিবেচনা করা হয়, একথা সত্য কি-না? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ তবে সব সময় মানা হয় না।

জেরা অসম্পন্ন থাকায় পরবর্তী জেরার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।