ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে: ডাকসু ভিপি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নিমূর্ল হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজম দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই এই বাংলাদেশে হবে না।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। কারণ জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি নাই, দুর্নীতির কোনো স্থানও নাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে অন্যদের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করবে না। দেশ হবে সমৃদ্ধ ও উন্নত মানবিক বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, সমাজে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। একধরনের নেতা বলে তারা এটা করবে, ওটা করবে। কিন্তু তাদের কথা আর কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। আরেক ধরনের নেতা আছে যারা কাজ করে এবং আরও কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছর আমরা যাদেরকে আমাদের নেতা বানিয়েছি, যাদেরকে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি তারা আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না। অতীতে যারা আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে তারা এখন আবার নতুন করে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। কার্ডের নামে জনগণকে আবারও ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইনসাফের দল জামায়াতে ইসলামীর আমীরের অতীত কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে দেখুন। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বন্যা, ভূমিকম্প এবং করোনাকালীন দুর্যোগ সহ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রয়োজনে সবার আগে, সবখানে ছুঁটে গিয়েছেন এবং যান। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।

আমরা এমন নেতা চাই না যেই নেতা বিপ্লবের দেড় বছর পর দেশে এসে মানুষকে কার্ডের নামে প্রলোভন দেখায় উলে।লখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, একটি দল বিগত দেড় বছরে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। আর সেই দলের প্রধান বিদেশ থেকে দেশে এসে মানুষকে এটা-ওটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ! নিজ দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি যেই নেতা বন্ধ করতে পারে না সেই নেতা জাতির নেতৃত্ব দিতে পারে না, পারবে না। তিনি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর আমরা আমাদের ৪ মাসের কাজের হিসাব সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছি। অতীতে কোনো নেতারা নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে কিংবা জনগণের সামনে আসেনি। তারা নির্বাচিত হয়ে মালিক সেজে জনগণকে গোলামে পরিণত করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয় সেবক হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, বুকে পাথর চাপা দিয়ে একটি দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেও পর্দার আড়ালে তাদের অবস্থান ‘না’ এর পক্ষে। তারা সংস্কার চায় না, তারা চায় দেশের মালিক হয়ে জনগণকে গোলামে পরিণত করতে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী; ‘না’ মানে গোলামি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন। আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের অফিস গুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এতো জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি, যাবে না। যারা বিদেশে পালিয়ে ছিল তারাই এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। অথচ তাদেরকে ফেসবুক ছাড়া কোথাও বিগত ১৭ বছর দেখা যায়নি। যেই জুলাই যোদ্ধাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা দেশে ফেরত আসার সুযোগ হয়েছে তারা সেই জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছে। তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাচ্ছে না। এর কারণ তারা আবারও দেশে নিজেদের দলীয় কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়। দরীয় কর্তৃত্ব কায়েমের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় হয়।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার মানুষের খেদমতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করার কারণে এখানকার যাবতীয় সমস্যা আমি অবগত আছি। বিদম্যান সমস্যা গুলো সমাধানে আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে রেখেছি। এই সমস্যা গুলো সমাধান কঠিন নয়, প্রয়োজন সততা আর আন্তরিকতা। গ্যাস সংকট, যাতায়াত ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবে এই সমস্যা গুলো সৃষ্টি হয়েছে। এখানে সরকারি কোনো হাসপাতাল নেই। বেসরকারি উন্নতমানের কোনো হাসপাতালের শাখাও এখানে নেই। যার ফলে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবহেলিত ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক উন্নত নগরীতে রূপান্তর করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান সকল সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করা হবে।

ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে: ডাকসু ভিপি

আপডেট সময় ০১:২৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নিমূর্ল হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজম দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই এই বাংলাদেশে হবে না।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। কারণ জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি নাই, দুর্নীতির কোনো স্থানও নাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে অন্যদের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করবে না। দেশ হবে সমৃদ্ধ ও উন্নত মানবিক বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, সমাজে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। একধরনের নেতা বলে তারা এটা করবে, ওটা করবে। কিন্তু তাদের কথা আর কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। আরেক ধরনের নেতা আছে যারা কাজ করে এবং আরও কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছর আমরা যাদেরকে আমাদের নেতা বানিয়েছি, যাদেরকে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি তারা আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না। অতীতে যারা আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে তারা এখন আবার নতুন করে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। কার্ডের নামে জনগণকে আবারও ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দেশবাসীকে ধোঁকায় না পড়ে নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইনসাফের দল জামায়াতে ইসলামীর আমীরের অতীত কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে দেখুন। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বন্যা, ভূমিকম্প এবং করোনাকালীন দুর্যোগ সহ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রয়োজনে সবার আগে, সবখানে ছুঁটে গিয়েছেন এবং যান। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।

আমরা এমন নেতা চাই না যেই নেতা বিপ্লবের দেড় বছর পর দেশে এসে মানুষকে কার্ডের নামে প্রলোভন দেখায় উলে।লখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, একটি দল বিগত দেড় বছরে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। আর সেই দলের প্রধান বিদেশ থেকে দেশে এসে মানুষকে এটা-ওটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ! নিজ দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি যেই নেতা বন্ধ করতে পারে না সেই নেতা জাতির নেতৃত্ব দিতে পারে না, পারবে না। তিনি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর আমরা আমাদের ৪ মাসের কাজের হিসাব সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছি। অতীতে কোনো নেতারা নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে কিংবা জনগণের সামনে আসেনি। তারা নির্বাচিত হয়ে মালিক সেজে জনগণকে গোলামে পরিণত করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয় সেবক হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, বুকে পাথর চাপা দিয়ে একটি দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেও পর্দার আড়ালে তাদের অবস্থান ‘না’ এর পক্ষে। তারা সংস্কার চায় না, তারা চায় দেশের মালিক হয়ে জনগণকে গোলামে পরিণত করতে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী; ‘না’ মানে গোলামি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন। আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের অফিস গুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এতো জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি, যাবে না। যারা বিদেশে পালিয়ে ছিল তারাই এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। অথচ তাদেরকে ফেসবুক ছাড়া কোথাও বিগত ১৭ বছর দেখা যায়নি। যেই জুলাই যোদ্ধাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা দেশে ফেরত আসার সুযোগ হয়েছে তারা সেই জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছে। তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাচ্ছে না। এর কারণ তারা আবারও দেশে নিজেদের দলীয় কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়। দরীয় কর্তৃত্ব কায়েমের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় হয়।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার মানুষের খেদমতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করার কারণে এখানকার যাবতীয় সমস্যা আমি অবগত আছি। বিদম্যান সমস্যা গুলো সমাধানে আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে রেখেছি। এই সমস্যা গুলো সমাধান কঠিন নয়, প্রয়োজন সততা আর আন্তরিকতা। গ্যাস সংকট, যাতায়াত ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবে এই সমস্যা গুলো সৃষ্টি হয়েছে। এখানে সরকারি কোনো হাসপাতাল নেই। বেসরকারি উন্নতমানের কোনো হাসপাতালের শাখাও এখানে নেই। যার ফলে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবহেলিত ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক উন্নত নগরীতে রূপান্তর করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান সকল সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করা হবে।

ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন