ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘আমি যেই লোকের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তার নাম বললে অনেকেই বিস্মিত হবেন’ Logo হাওয়ার ওপর দিয়ে আসেনি, এ সরকারের বৈধতা জুলাই গণঅভ্যুত্থান: নাহিদ ইসলাম Logo জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘আপনাদের মহব্বতকে শ্রদ্ধা করি, তবে তার চেয়েও আমার কাছে মসজিদের আদব ও শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ’ Logo হাদি হত্যাকারীদের ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে যা বলছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ Logo বাবার মতো ইসরায়েলের ঔদ্ধত্য ভাঙার লড়াই চালিয়ে যাবেন: কিম জং উন Logo আমরা বেঁচে থাকতে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ Logo ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর ভাই নিহতের দাবি Logo কাতারের আমিরের সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ Logo পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপ, ইরান সংঘাত নিয়ে আলোচনা

জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ—বিশ্বব্যাংকের নতুন সতর্কবার্তা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি, আর এর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাবের মুখে পড়বে এবং প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ মারাত্মক বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। এ ছাড়া উপকূল এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকায় তীব্র প্রভাব ফেলছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু অভিযোজনের মূল দায়িত্ব এখন পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেমে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ধারণা করছে, আগামী এক দশকে তারা কোনো না কোনো ধরনের আবহাওজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। যদিও ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কিছু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তার বেশিরভাগই স্বল্প ব্যয় ও প্রাথমিক ধরনের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোর ঘাটতি এখানকার সবচেয়ে বড় সংকট। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছে, আর ৫৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অভিযোজন করতে আর্থিক সামর্থ্যের অভাব সবচেয়ে বড় বাধা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট কেবল পরিবেশগত নয়, মানুষের মৌলিক জীবন ও জীবিকা এতে সরাসরি প্রভাবিত—বিশেষ করে দরিদ্র এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি উদ্যোগ জনজীবন রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ দেখায়—সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দ্রুত তথ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে ত্বরিত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারি সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতকে অভিযোজনে আরও সক্রিয় করার মতো নীতিগত সহায়তা এখন জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ–ভুটান অঞ্চলের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, “বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জে পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিযোজন ঘটছে বটে, কিন্তু বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তিনি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন এবং নগর অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নতকরণ

আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা প্রসার

বেসরকারি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা

পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন

লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা বাড়ানো

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা মনে করেন, জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন মূল্যবান, তেমনি এটি একটি বড় পরীক্ষা। তার মতে, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান যে নিজস্ব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়—এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত, দ্রুত পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। সাইক্লোন শেল্টার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে—যা প্রমাণ করে সঠিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারত্ব জোরদার হলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও মজবুত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমি যেই লোকের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তার নাম বললে অনেকেই বিস্মিত হবেন’

জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ—বিশ্বব্যাংকের নতুন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ১২:০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি, আর এর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রভাবের মুখে পড়বে এবং প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ মারাত্মক বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। এ ছাড়া উপকূল এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকায় তীব্র প্রভাব ফেলছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু অভিযোজনের মূল দায়িত্ব এখন পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেমে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ধারণা করছে, আগামী এক দশকে তারা কোনো না কোনো ধরনের আবহাওজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। যদিও ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কিছু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তার বেশিরভাগই স্বল্প ব্যয় ও প্রাথমিক ধরনের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোর ঘাটতি এখানকার সবচেয়ে বড় সংকট। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছে, আর ৫৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অভিযোজন করতে আর্থিক সামর্থ্যের অভাব সবচেয়ে বড় বাধা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট কেবল পরিবেশগত নয়, মানুষের মৌলিক জীবন ও জীবিকা এতে সরাসরি প্রভাবিত—বিশেষ করে দরিদ্র এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি উদ্যোগ জনজীবন রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ দেখায়—সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দ্রুত তথ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে ত্বরিত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারি সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতকে অভিযোজনে আরও সক্রিয় করার মতো নীতিগত সহায়তা এখন জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ–ভুটান অঞ্চলের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, “বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জে পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিযোজন ঘটছে বটে, কিন্তু বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তিনি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন এবং নগর অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নতকরণ

আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা প্রসার

বেসরকারি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা

পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন

লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা বাড়ানো

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা মনে করেন, জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন মূল্যবান, তেমনি এটি একটি বড় পরীক্ষা। তার মতে, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান যে নিজস্ব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়—এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত, দ্রুত পদক্ষেপ অত্যাবশ্যক।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অভিযোজন সক্ষমতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। সাইক্লোন শেল্টার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে—যা প্রমাণ করে সঠিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারত্ব জোরদার হলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও মজবুত করবে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481