ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের আহ্বান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্ক প্রচলন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো হলে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ দুটোই সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা এ আহ্বান জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে (সাময়িক) জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত।

অথচ সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখলে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা শলাকা প্রতি মাত্র ২০ পয়সা। মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

 

করহার অপরিবর্তিত রেখে কেবল দাম বাড়ানোর ফলে বর্ধিত মূল্যের একটি অংশ তামাক কোম্পানির পকেটে চলে যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ২৫ টাকা বাড়ানো হলেও এরমধ্যে ৪ দশমিক ২৫ টাকা কোম্পানি পেয়ে যাবে।
কর বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হলে পুরো ২৫ টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা হতো। বাজেটে বিড়ি, জর্দা, গুলের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর শুল্কায়নের মাধ্যমে নতুন আপদকে কার্যত আইনসিদ্ধ করা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য অধিক সহজলভ্য ও সস্তা হয়ে পড়বে। সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, সরকার বর্ধিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে এবং তামাক কোম্পানি লাভবান হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সাথে সবস্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামাকবিরোধীদের কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ধূমপান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশের হেড অফ অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ এবং দাবি তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের আহ্বান

আপডেট সময় ০১:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্ক প্রচলন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো হলে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ দুটোই সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা এ আহ্বান জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে (সাময়িক) জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত।

অথচ সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখলে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা শলাকা প্রতি মাত্র ২০ পয়সা। মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

 

করহার অপরিবর্তিত রেখে কেবল দাম বাড়ানোর ফলে বর্ধিত মূল্যের একটি অংশ তামাক কোম্পানির পকেটে চলে যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ২৫ টাকা বাড়ানো হলেও এরমধ্যে ৪ দশমিক ২৫ টাকা কোম্পানি পেয়ে যাবে।
কর বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হলে পুরো ২৫ টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা হতো। বাজেটে বিড়ি, জর্দা, গুলের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর শুল্কায়নের মাধ্যমে নতুন আপদকে কার্যত আইনসিদ্ধ করা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য অধিক সহজলভ্য ও সস্তা হয়ে পড়বে। সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, সরকার বর্ধিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে এবং তামাক কোম্পানি লাভবান হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সাথে সবস্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তামাকবিরোধীদের কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ধূমপান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশের হেড অফ অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ এবং দাবি তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।