ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

গুম নয়, আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান: দাবি আইনজীবীর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান। কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গুম করেনি। টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরার সময় এ দাবি করেন কর্নেল কেএম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।

রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, এবিএম সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

জেরার সময় ব্যারিস্টার আরমানকে আইনজীবী টিটো বলেন, ‘‘আপনি আত্মগোপনে ছিলেন। কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি। এছাড়া আপনার লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ে বর্ণিত সব বিবরণী মিথ্যা বলেছেন।’’

জবাবে আরমান বলেন, ‘‘এসব সত্য নয়।’’

মামলার আলামত নিয়ে আইনজীবী টিটোর প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘‘আমার ঘাড়ের গামছা, পরনের লুঙ্গি ও টি-শার্টটি চেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু সংরক্ষণ না করায় দিতে পারিনি।’’

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ধ্বংস করেছেন বলে জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে আরমান বলেন, ‘‘এটা সত্য নয়, আমার ঘাড়ের গামছা, পরনের লুঙ্গি ও টি-শার্টটি ধ্বংস করেছি।’’

জেরার সময় ট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার আরমানের গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনে প্রদর্শিত ভিডিও’র ১৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে লুঙ্গি-টিশার্ট ও ঘাড়ে গামছা পরায় ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান। যেটি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী টিটো বলেন, ‘‘প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই আপনি এসব পরেছেন।’’ জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘‘এটা সত্য নয় যে প্রামাণ্যচিত্র বানানোর উদ্দেশে এসব পরেছি। এতে পরিহিত পোশাকের ফুটেজটি মূল সিসিটিভি থেকে নেওয়া।’’

এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জেরার জন্য সময় চান আইনজীবী তাবারক হোসেন। এ সময় আপত্তি জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

পরে জেরার জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে সকালে এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন—শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম ‘

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

গুম নয়, আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান: দাবি আইনজীবীর

আপডেট সময় ০৭:০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান। কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গুম করেনি। টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরার সময় এ দাবি করেন কর্নেল কেএম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।

রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, এবিএম সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

জেরার সময় ব্যারিস্টার আরমানকে আইনজীবী টিটো বলেন, ‘‘আপনি আত্মগোপনে ছিলেন। কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি। এছাড়া আপনার লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ে বর্ণিত সব বিবরণী মিথ্যা বলেছেন।’’

জবাবে আরমান বলেন, ‘‘এসব সত্য নয়।’’

মামলার আলামত নিয়ে আইনজীবী টিটোর প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘‘আমার ঘাড়ের গামছা, পরনের লুঙ্গি ও টি-শার্টটি চেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু সংরক্ষণ না করায় দিতে পারিনি।’’

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ধ্বংস করেছেন বলে জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে আরমান বলেন, ‘‘এটা সত্য নয়, আমার ঘাড়ের গামছা, পরনের লুঙ্গি ও টি-শার্টটি ধ্বংস করেছি।’’

জেরার সময় ট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার আরমানের গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনে প্রদর্শিত ভিডিও’র ১৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে লুঙ্গি-টিশার্ট ও ঘাড়ে গামছা পরায় ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান। যেটি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী টিটো বলেন, ‘‘প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্দেশ্যেই আপনি এসব পরেছেন।’’ জবাবে সাক্ষী বলেন, ‘‘এটা সত্য নয় যে প্রামাণ্যচিত্র বানানোর উদ্দেশে এসব পরেছি। এতে পরিহিত পোশাকের ফুটেজটি মূল সিসিটিভি থেকে নেওয়া।’’

এরপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জেরার জন্য সময় চান আইনজীবী তাবারক হোসেন। এ সময় আপত্তি জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

পরে জেরার জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে সকালে এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন—শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম ‘