ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় করেসপনডেন্ট:

পঞ্চগড়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ভাতের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা নজরুল ইসলামকে (৫৩) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসুদ পারভেজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

আসামি নজরুল ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সাতমেড়া ইউনিয়নের খেঁকিপাড়া এলাকায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ওই শিশুটি অভাবের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছিলো। বাবা মারা যাওয়ায় তার এক চাচা তার মাকে বিয়ে করে। সংসারে অভাবের কারণে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটতো শিশুটির।

২০২২ সালের ১৫ মার্চ শিশুটির বাড়িতে কেউ না থাকায় রাস্তা থেকে তাকে ভাত খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী চাচা নজরুল ইসলাম। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে নজরুল। এ সময় শিশুটির রক্তক্ষরণ হলে তার হাতে ৫০০ টাকার একটি নোট হাতে গুঁজে দেন তিনি। এমনকি বিষয়টি কাউকে জানালে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে একমাস ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে নজরুল। এক পর্যায়ে শিশুটি ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে শিশুটির মা তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সব ঘটনা জানায়।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে নজরুল ইসলামের ছেলে হামিদার রহমান ১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা ও জোর করে স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি সন্তান গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালীরাও সমঝোতার জন্য চাপ দিতে থাকে।

এক পর্যায়ে ন্যায় বিচারের আশায় ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে নজরুল ও তার ছেলে হামিদারকে আসামি করে মামলা করে শিশুটির মা। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত এই রায় প্রদান করেন। তবে রায়ে নজরুলের ছেলে হামিদারকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, আমরা ওই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে। এই রায়ে আমরা এবং বাদী সন্তুষ্ট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

পঞ্চগড় করেসপনডেন্ট:

পঞ্চগড়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ভাতের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা নজরুল ইসলামকে (৫৩) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসুদ পারভেজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

আসামি নজরুল ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সাতমেড়া ইউনিয়নের খেঁকিপাড়া এলাকায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ওই শিশুটি অভাবের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছিলো। বাবা মারা যাওয়ায় তার এক চাচা তার মাকে বিয়ে করে। সংসারে অভাবের কারণে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটতো শিশুটির।

২০২২ সালের ১৫ মার্চ শিশুটির বাড়িতে কেউ না থাকায় রাস্তা থেকে তাকে ভাত খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী চাচা নজরুল ইসলাম। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে নজরুল। এ সময় শিশুটির রক্তক্ষরণ হলে তার হাতে ৫০০ টাকার একটি নোট হাতে গুঁজে দেন তিনি। এমনকি বিষয়টি কাউকে জানালে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে একমাস ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে নজরুল। এক পর্যায়ে শিশুটি ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে শিশুটির মা তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সব ঘটনা জানায়।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে নজরুল ইসলামের ছেলে হামিদার রহমান ১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা ও জোর করে স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি সন্তান গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালীরাও সমঝোতার জন্য চাপ দিতে থাকে।

এক পর্যায়ে ন্যায় বিচারের আশায় ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে নজরুল ও তার ছেলে হামিদারকে আসামি করে মামলা করে শিশুটির মা। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত এই রায় প্রদান করেন। তবে রায়ে নজরুলের ছেলে হামিদারকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, আমরা ওই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে। এই রায়ে আমরা এবং বাদী সন্তুষ্ট।