ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

কাবা শরীফ তাওয়াফের ইতিহাস

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

একসময় পৃথিবীর স্থলভাগে জিন জাতির বসবাস ছিল। দীর্ঘকাল তারা পৃথিবীতে অবস্থান করলেও আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি ও নানা ধরনের ফিতনা-ফাসাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

তখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে ফেরেশতারা জিনদের পাহাড় ও সমুদ্রাঞ্চলে বিতাড়িত করেন। এরপর পৃথিবীর স্থলভাগে ফেরেশতাদের বিচরণ শুরু হয়।

তবে পৃথিবীতে অবস্থান করেও তারা পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না। কারণ সপ্তম আকাশে তারা নিয়মিত বাইতুল মামুর তাওয়াফ করতেন এবং আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা এই ঘরের তাওয়াফ করেন। মিরাজের রজনীতে নবী করিম (সা.) বাইতুল মামুরে ইবরাহিমকে (আ.) দেয়ালে হেলান দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, …সেখানে ইবরাহিম (আ.)-এর দেখা পেলাম। তিনি বাইতুল মা’মূরে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছেন। বাইতুল মামুরে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা তাওয়াফের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন যারা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পান না। (সহিহ মুসলিম: ৩০০)

পৃথিবীতে এসেও ফেরেশতাদের অন্তরে আল্লাহর ঘর তাওয়াফের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত থাকে। তখন আল্লাহর নির্দেশে তারা বাইতুল মামুরের বরাবর পৃথিবীতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। আর ফেরেশতারাই সর্বপ্রথম সেই ঘরের তাওয়াফ করেন।

পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা যখন মানুষ সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন ফেরেশতাদের জানিয়ে বলেন, আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করব।

পূর্বে জিন জাতির অবাধ্যতা ও ফিতনা-ফাসাদের অভিজ্ঞতার কারণে ফেরেশতারা আরজ করলেন, আপনি কি পৃথিবীতে এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে?

আল্লাহ তাআলা বললেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।

এরপর আদি মানব আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তিনি পুনরায় ইবাদতের জন্য কাবা গৃহ নির্মাণ করেন এবং তাওয়াফ করেন।

 

পৃথিবীতে আগমনের পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে তারা বলেন, “হে আদম! আপনার হজ কবুল হোক। আমরা আপনার আগমনের দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই ঘরের হজ ও তাওয়াফ করে আসছি।

ফেরেশতারা এই ঘরের তাওয়াফ করেছেন। আদম (আ.) তাওয়াফ করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আদম (আ.)-এর সন্তানরাও এই ঘরের তাওয়াফ অব্যাহত রেখেছেন।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র ইসমাইলকে (আ.) সঙ্গে নিয়ে কাবা শরিফের ভিত্তি পুনঃস্থাপন করেন এবং আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।

ইবরাহিম (আ.)-এর পর পৃথিবীর ইতিহাসে বহু চড়াই-উতরাই এসেছে। মূর্তিপূজা, শিরক ও নানা ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিস্তার ঘটেছে। তবুও আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও কাবা গৃহের তাওয়াফ বন্ধ হয়নি।

উল্লেখ্য, উপর্যুক্ত তথ্যসমূহ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিস নয়, বরং ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সাহাবায়ে কিরামের আছারের ভিত্তিতে সংকলিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

কাবা শরীফ তাওয়াফের ইতিহাস

আপডেট সময় ০২:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

একসময় পৃথিবীর স্থলভাগে জিন জাতির বসবাস ছিল। দীর্ঘকাল তারা পৃথিবীতে অবস্থান করলেও আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি ও নানা ধরনের ফিতনা-ফাসাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

তখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে ফেরেশতারা জিনদের পাহাড় ও সমুদ্রাঞ্চলে বিতাড়িত করেন। এরপর পৃথিবীর স্থলভাগে ফেরেশতাদের বিচরণ শুরু হয়।

তবে পৃথিবীতে অবস্থান করেও তারা পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না। কারণ সপ্তম আকাশে তারা নিয়মিত বাইতুল মামুর তাওয়াফ করতেন এবং আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা এই ঘরের তাওয়াফ করেন। মিরাজের রজনীতে নবী করিম (সা.) বাইতুল মামুরে ইবরাহিমকে (আ.) দেয়ালে হেলান দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, …সেখানে ইবরাহিম (আ.)-এর দেখা পেলাম। তিনি বাইতুল মা’মূরে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছেন। বাইতুল মামুরে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা তাওয়াফের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন যারা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পান না। (সহিহ মুসলিম: ৩০০)

পৃথিবীতে এসেও ফেরেশতাদের অন্তরে আল্লাহর ঘর তাওয়াফের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত থাকে। তখন আল্লাহর নির্দেশে তারা বাইতুল মামুরের বরাবর পৃথিবীতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। আর ফেরেশতারাই সর্বপ্রথম সেই ঘরের তাওয়াফ করেন।

পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা যখন মানুষ সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন ফেরেশতাদের জানিয়ে বলেন, আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করব।

পূর্বে জিন জাতির অবাধ্যতা ও ফিতনা-ফাসাদের অভিজ্ঞতার কারণে ফেরেশতারা আরজ করলেন, আপনি কি পৃথিবীতে এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে?

আল্লাহ তাআলা বললেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।

এরপর আদি মানব আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তিনি পুনরায় ইবাদতের জন্য কাবা গৃহ নির্মাণ করেন এবং তাওয়াফ করেন।

 

পৃথিবীতে আগমনের পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে তারা বলেন, “হে আদম! আপনার হজ কবুল হোক। আমরা আপনার আগমনের দুই হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই ঘরের হজ ও তাওয়াফ করে আসছি।

ফেরেশতারা এই ঘরের তাওয়াফ করেছেন। আদম (আ.) তাওয়াফ করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আদম (আ.)-এর সন্তানরাও এই ঘরের তাওয়াফ অব্যাহত রেখেছেন।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র ইসমাইলকে (আ.) সঙ্গে নিয়ে কাবা শরিফের ভিত্তি পুনঃস্থাপন করেন এবং আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।

ইবরাহিম (আ.)-এর পর পৃথিবীর ইতিহাসে বহু চড়াই-উতরাই এসেছে। মূর্তিপূজা, শিরক ও নানা ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিস্তার ঘটেছে। তবুও আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও কাবা গৃহের তাওয়াফ বন্ধ হয়নি।

উল্লেখ্য, উপর্যুক্ত তথ্যসমূহ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিস নয়, বরং ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সাহাবায়ে কিরামের আছারের ভিত্তিতে সংকলিত।