ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেনে যে, ইরানে দ্রুত একটি অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব হবে এবং সরকার পতন ঘটানো যাবে। গোপন সূত্রের বরাতে রোববার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, সংঘাতের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া জানান, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ইরানে বিদ্রোহ উসকে দিতে পারে এবং হামলা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারকে উৎখাত করতে পারে। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই পরিকল্পনা জানুয়ারিতে নেতানিয়াহু এবং কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার কাছেও উপস্থাপন করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান-এর মধ্যে পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী একটি “আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করেন এবং ইরানের নেতৃত্বকে হত্যা করে শাসন পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
তবে সিআইএ মূল্যায়ন করে, ইরান সরকারের সম্পূর্ণ পতন তুলনামূলকভাবে অসম্ভব। সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তেহরানের কট্টরপন্থী কর্মকর্তারা ক্ষমতায় থেকে যাবেন বলে সতর্ক করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদপত্রটি এমনটি জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানিদের বারবার তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও কমান্ডার, এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হলেও, সরকার ভেঙে পড়েনি এবং তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
টাইমস অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে “হতাশা” প্রকাশ করেছেন যে, মোসাদ তাদের শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং তিনি উদ্বিগ্ন যে, ট্রাম্প যেকোনো সময় যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারেন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মতে, মোসাদের এজেন্টরা ২০২৫ সালের শীতে ইরানে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী দাঙ্গায় জড়িত ছিল, যেখানে তারা বিক্ষোভকারী, সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়।
রাশিয়া ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আরটি

নিজস্ব সংবাদ : 






















