ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

‘উপদেষ্টারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে এই আগ্রহ দেখিয়েছেন, আবার কারো ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এই আগ্রহের বিষয় প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে উপদেষ্টাদের প্রার্থী হওয়ার বিরোধিতা করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক জোট।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জোটের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে জোটের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, টেকসই জনবান্ধব সংস্কার, নিবর্তনমূলক কালো আইন বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেবে বলে জানিয়েছে।

মানববন্ধনে গ্রীন পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ খাান বলেন, আমরা চাই উপদেষ্টারা একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবে। জনগণের আকাঙিক্ষত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, জনগণের দাবি নিয়ে আমরা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। সেই দাবি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান আপনারা দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। আমরা দেখেছি নির্বাচন এলেই নানা ষড়যন্ত্র কাজ করে। যারা উপদেষ্টা পরিষদে আছে তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এখন সময় এসেছে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

জনতার অধিকার পার্টির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই না এই উপদেষ্টারা পরবর্তী সময় সংসদে যেয়ে আওয়ামী লীগের মতো সংসদকে কলঙ্কিত করুক৷

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, যে উপদেষ্টাদের নির্বাচনের খায়েশ জেগেছে তারা শেখ হাসিনার মতো দুর্নীতিবাজ। আমরা বলছি উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কারণ গত এক বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট-পাট করেছে। তারা এই কালো টাকা নির্বাচনে ব্যবহার করবে। তাদের দুর্নীতির সব তথ্য জনগণের কাছে আছে। এই দাবি ব্যক্তি বা সংগঠনের দাবি না এটি জনগণের দাবি।

আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো.তারেক রহমান বলেন, উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আপনাদের মনে হতে পারে জুলাই অভ্যুত্থাানে ছাত্র উপদেষ্টারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত। কিন্তু আজ যা মনে হচ্ছে কাল তা মনে নাও হতে পারে৷ উপদেষ্টারা সরকারি টাকায় নির্বাচন করার ছক একেছে। তারা নির্বাচন কারার উদ্দেশ্যে এক উপজেলায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি ভাই ব্রাদারের সরকার বানিয়ে ফেলেছেন। নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপদেষ্টা বানিয়ে ফেলেছেন। নির্বাচন করবে ত্যাগীরা। তারা সংসদে যাবে। এই সমস্ত উপদেষ্টাদের নির্বাচনের খায়েশ জন্মেছে তার মানে তারা সেই পরিমাণ আখের গুছিয়েছে। যারা নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের অবিলম্বে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আজ ঐকমত্য কমিশনে স্মারকলিপি দেবো। এই কারণে যে আগামীর সরকার কী কী করবে সেটি নিয়ে কমিশন অনেক গবেষণা করেছে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কী করবে সেটি নিয়ে তাদের কোনো কাজ নেই।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে জোটের নেতারা ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে প্রবেশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

‘উপদেষ্টারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না’

আপডেট সময় ০৩:০০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে এই আগ্রহ দেখিয়েছেন, আবার কারো ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এই আগ্রহের বিষয় প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে উপদেষ্টাদের প্রার্থী হওয়ার বিরোধিতা করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক জোট।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জোটের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে জোটের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, টেকসই জনবান্ধব সংস্কার, নিবর্তনমূলক কালো আইন বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেবে বলে জানিয়েছে।

মানববন্ধনে গ্রীন পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ খাান বলেন, আমরা চাই উপদেষ্টারা একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবে। জনগণের আকাঙিক্ষত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, জনগণের দাবি নিয়ে আমরা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। সেই দাবি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান আপনারা দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। আমরা দেখেছি নির্বাচন এলেই নানা ষড়যন্ত্র কাজ করে। যারা উপদেষ্টা পরিষদে আছে তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এখন সময় এসেছে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

জনতার অধিকার পার্টির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই না এই উপদেষ্টারা পরবর্তী সময় সংসদে যেয়ে আওয়ামী লীগের মতো সংসদকে কলঙ্কিত করুক৷

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, যে উপদেষ্টাদের নির্বাচনের খায়েশ জেগেছে তারা শেখ হাসিনার মতো দুর্নীতিবাজ। আমরা বলছি উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কারণ গত এক বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট-পাট করেছে। তারা এই কালো টাকা নির্বাচনে ব্যবহার করবে। তাদের দুর্নীতির সব তথ্য জনগণের কাছে আছে। এই দাবি ব্যক্তি বা সংগঠনের দাবি না এটি জনগণের দাবি।

আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো.তারেক রহমান বলেন, উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আপনাদের মনে হতে পারে জুলাই অভ্যুত্থাানে ছাত্র উপদেষ্টারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত। কিন্তু আজ যা মনে হচ্ছে কাল তা মনে নাও হতে পারে৷ উপদেষ্টারা সরকারি টাকায় নির্বাচন করার ছক একেছে। তারা নির্বাচন কারার উদ্দেশ্যে এক উপজেলায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি ভাই ব্রাদারের সরকার বানিয়ে ফেলেছেন। নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপদেষ্টা বানিয়ে ফেলেছেন। নির্বাচন করবে ত্যাগীরা। তারা সংসদে যাবে। এই সমস্ত উপদেষ্টাদের নির্বাচনের খায়েশ জন্মেছে তার মানে তারা সেই পরিমাণ আখের গুছিয়েছে। যারা নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের অবিলম্বে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আজ ঐকমত্য কমিশনে স্মারকলিপি দেবো। এই কারণে যে আগামীর সরকার কী কী করবে সেটি নিয়ে কমিশন অনেক গবেষণা করেছে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কী করবে সেটি নিয়ে তাদের কোনো কাজ নেই।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে জোটের নেতারা ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে প্রবেশ করেন।