ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানির জন্য মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা, ঝুঁকছে ইরানের দিকে Logo ইরানের কাছে এখনো হাজারো সক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র: গোয়েন্দা রিপোর্ট Logo সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকা কাজ করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo আলোচনার আগে তেহরানের কঠোর বার্তা, ‘ট্রিগারে থাকবে আঙুল’ Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের Logo হরমুজে পাতা মাইন নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান! Logo চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে : র‍্যাব Logo বিএনপির টিকিট চান বেবী নাজনীন–কনকচাঁপা Logo পাকিস্তানের ব্যাপারে ৯০ শতাংশ ‘নেতিবাচক’ থেকে বিশ্ব এখন ৭০ শতাংশ ‘ইতিবাচক’ Logo যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ, তারা আজকে রাবণ হয়ে গিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ইরানের কাছে এখনো হাজারো সক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র: গোয়েন্দা রিপোর্ট

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ সাইটগুলো থেকে লঞ্চার উদ্ধার বা মেরামত করে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।

ওই মূল্যায়নে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে বলে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন। যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক জলপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন সেনা ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর নতুন হামলা প্রতিরোধ করা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রায় “কার্যত ধ্বংস” হয়ে গেছে এবং লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের অন্তত অর্ধেক লঞ্চার ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূগর্ভস্থ অবস্থায় থাকলেও অনেকগুলো মেরামতযোগ্য অথবা ভূগর্ভ থেকে পুনরুদ্ধারযোগ্য। তাদের মতে, এখনো ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক মাঝারি ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। একই সঙ্গে একমুখী ড্রোন সক্ষমতাও আগের তুলনায় কমেছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, প্রয়োজন হলে ইরান বিদেশি সহায়তা—বিশেষ করে রাশিয়ার প্রযুক্তি—ব্যবহার করে সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ইরানের কাছে এখনো অল্পসংখ্যক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বা আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স , বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা সীমিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান পুরোপুরি দুর্বল হয়নি এবং সীমিত সক্ষমতা নিয়েও তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক বলেন, ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সক্ষমতা রাখে, যা তাদেরকে এখনো একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে রাখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

জ্বালানির জন্য মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা, ঝুঁকছে ইরানের দিকে

ইরানের কাছে এখনো হাজারো সক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র: গোয়েন্দা রিপোর্ট

আপডেট সময় ০৬:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ সাইটগুলো থেকে লঞ্চার উদ্ধার বা মেরামত করে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।

ওই মূল্যায়নে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে বলে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন। যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক জলপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন সেনা ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর নতুন হামলা প্রতিরোধ করা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রায় “কার্যত ধ্বংস” হয়ে গেছে এবং লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের অন্তত অর্ধেক লঞ্চার ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূগর্ভস্থ অবস্থায় থাকলেও অনেকগুলো মেরামতযোগ্য অথবা ভূগর্ভ থেকে পুনরুদ্ধারযোগ্য। তাদের মতে, এখনো ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক মাঝারি ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। একই সঙ্গে একমুখী ড্রোন সক্ষমতাও আগের তুলনায় কমেছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, প্রয়োজন হলে ইরান বিদেশি সহায়তা—বিশেষ করে রাশিয়ার প্রযুক্তি—ব্যবহার করে সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ইরানের কাছে এখনো অল্পসংখ্যক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বা আঞ্চলিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স , বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা সীমিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান পুরোপুরি দুর্বল হয়নি এবং সীমিত সক্ষমতা নিয়েও তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক বলেন, ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সক্ষমতা রাখে, যা তাদেরকে এখনো একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে রাখছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481