ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

‘ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬০ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি জীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার ছেলে কাসিম খান। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার বাবা টানা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে আছেন এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেলে’ রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবার, আইনজীবী— কাউকেই সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

কাসিম বলেন, তার বাবার বোনদেরও জেলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি ও তার ভাইদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং ইমরান খান জীবিত আছেন— এমন প্রমাণও পরিবারকে দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, “এটি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং তার অবস্থা গোপন করার চেষ্টা।” তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি দাবি করেছেন, পাকিস্তানে ভয়ংকর সেন্সরশিপ চলছে। এএনআই–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হচ্ছে, অনেক পরিচিত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার ভাষায়, “হিটলারের সময়ের মতো পরিস্থিতি এখন পাকিস্তানে।”

পিটিআই নেতৃত্বও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি টানা অষ্টমবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন। ২৭ নভেম্বর আদিয়ালা জেলের সামনে ধর্ণা দিলে পুলিশ তাকে ও পিটিআই কর্মীদের জেলগেটে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আফ্রিদির অভিযোগ— আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে না, খানের বোন ও আইনজীবীদেরও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

পিটিআই নেতারা— জুলফি বুখারি ও মেহর বানো কুরেশি— সরকারের কাছে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে স্বচ্ছ বিবৃতি ও পরিবারের সঙ্গে অবিলম্বে সাক্ষাতের অনুমতি দাবি করেছেন।

তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’। ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তাকে কোথাও সরানো হয়নি। কোনো জরুরি চিকিৎসা বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সম্প্রতি কিছু বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি। এ নিয়ে আরও বিতর্ক ছড়ায় যখন খানের তিন বোন অভিযোগ করেন, তারা জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন; কিন্তু পুলিশ স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে ‘নৃশংস’ হামলা চালায়। তাদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নুরিন নিয়াজি আহত হন।

এদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ দাবি করেছেন, ইমরান খানের সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত বিষয়ে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে ইমরান খান আগেই অভিযোগ করেছিলেন, জেলের নিয়ন্ত্রণ একজন সেনা কর্মকর্তা পরিচালনা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

‘ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’

আপডেট সময় ০৩:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি জীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার ছেলে কাসিম খান। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার বাবা টানা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে আছেন এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেলে’ রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবার, আইনজীবী— কাউকেই সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

কাসিম বলেন, তার বাবার বোনদেরও জেলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি ও তার ভাইদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই এবং ইমরান খান জীবিত আছেন— এমন প্রমাণও পরিবারকে দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, “এটি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং তার অবস্থা গোপন করার চেষ্টা।” তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি দাবি করেছেন, পাকিস্তানে ভয়ংকর সেন্সরশিপ চলছে। এএনআই–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হচ্ছে, অনেক পরিচিত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার ভাষায়, “হিটলারের সময়ের মতো পরিস্থিতি এখন পাকিস্তানে।”

পিটিআই নেতৃত্বও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি টানা অষ্টমবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন। ২৭ নভেম্বর আদিয়ালা জেলের সামনে ধর্ণা দিলে পুলিশ তাকে ও পিটিআই কর্মীদের জেলগেটে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আফ্রিদির অভিযোগ— আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে না, খানের বোন ও আইনজীবীদেরও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

পিটিআই নেতারা— জুলফি বুখারি ও মেহর বানো কুরেশি— সরকারের কাছে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে স্বচ্ছ বিবৃতি ও পরিবারের সঙ্গে অবিলম্বে সাক্ষাতের অনুমতি দাবি করেছেন।

তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’। ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তাকে কোথাও সরানো হয়নি। কোনো জরুরি চিকিৎসা বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সম্প্রতি কিছু বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি। এ নিয়ে আরও বিতর্ক ছড়ায় যখন খানের তিন বোন অভিযোগ করেন, তারা জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন; কিন্তু পুলিশ স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে ‘নৃশংস’ হামলা চালায়। তাদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নুরিন নিয়াজি আহত হন।

এদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ দাবি করেছেন, ইমরান খানের সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত বিষয়ে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে ইমরান খান আগেই অভিযোগ করেছিলেন, জেলের নিয়ন্ত্রণ একজন সেনা কর্মকর্তা পরিচালনা করছেন।