ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

আবু সাঈদ হত্যায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি হাসনাতের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মঙ্গলবার হাসনাত জবানবন্দি দেন। এ মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামি রয়েছেন।

জবানবন্দিতে হাসনাত বলেন, আবু সাঈদ হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে হাসনাতকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিন জবানবন্দিতে সেগুনবাগিচা এলাকায় নতুন একটি সেফ হাউসের সন্ধান দেন এনসিপি নেতা হাসনাত। তিনি বলেন, গত বছরের ১৭ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় মামার বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলমকেও তাঁর মামার বাসা থেকে তুলে নিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই। তাদের রাত আড়াইটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। তাদের নিয়ে যাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে সেখানে তৎকালীন তিন মন্ত্রী আনিসুল হক, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পদ্মায় ঢোকেন। ডিজিএফআই সদস্যরা তিন মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা করতে চাপ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় নানা প্রলোভন, ভীতি ও চাপ দিয়ে শুধু সভা করতে বলেন। অন্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা না বলে তারা কোনো ধরনের বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানান। ডিজিএফআই পীড়াপীড়ি করে তাদের বৈঠকে বসাতে ব্যর্থ হলে তিন মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবন পদ্মা থেকে বের হয়ে যান।

বৈঠক না করায় তাদের ওপর ডিজিএফআই ক্ষুব্ধ হয় উল্লেখ করে জবানবন্দিতে হাসনাত বলেন, ডিজিএফআই সদস্যরা তাদের বাসায় ফেরত না দিয়ে সেদিন রাতে মৎস্য ভবন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মাঝামাঝি জায়গায় সেফ হাউস নামে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যায়। তাদের যে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, তা বাইরে থেকে পরিত্যক্ত মনে হলেও ভেতরে ছিল আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। ১৮ জুলাই ভোরে (ফজরের আজানের সময়) ডিজিএফআইর এক সেনা কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির লাখো জনতার সমাবেশ ১০ মিনিটে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। তাদের আন্দোলনও একইভাবে নষ্ট করতে তাঁর সময় লাগবে না।

এ মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

আবু সাঈদ হত্যায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি হাসনাতের

আপডেট সময় ১০:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মঙ্গলবার হাসনাত জবানবন্দি দেন। এ মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামি রয়েছেন।

জবানবন্দিতে হাসনাত বলেন, আবু সাঈদ হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে হাসনাতকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিন জবানবন্দিতে সেগুনবাগিচা এলাকায় নতুন একটি সেফ হাউসের সন্ধান দেন এনসিপি নেতা হাসনাত। তিনি বলেন, গত বছরের ১৭ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় মামার বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলমকেও তাঁর মামার বাসা থেকে তুলে নিয়েছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই। তাদের রাত আড়াইটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। তাদের নিয়ে যাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে সেখানে তৎকালীন তিন মন্ত্রী আনিসুল হক, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পদ্মায় ঢোকেন। ডিজিএফআই সদস্যরা তিন মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা করতে চাপ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় নানা প্রলোভন, ভীতি ও চাপ দিয়ে শুধু সভা করতে বলেন। অন্য সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা না বলে তারা কোনো ধরনের বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানান। ডিজিএফআই পীড়াপীড়ি করে তাদের বৈঠকে বসাতে ব্যর্থ হলে তিন মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবন পদ্মা থেকে বের হয়ে যান।

বৈঠক না করায় তাদের ওপর ডিজিএফআই ক্ষুব্ধ হয় উল্লেখ করে জবানবন্দিতে হাসনাত বলেন, ডিজিএফআই সদস্যরা তাদের বাসায় ফেরত না দিয়ে সেদিন রাতে মৎস্য ভবন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মাঝামাঝি জায়গায় সেফ হাউস নামে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যায়। তাদের যে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, তা বাইরে থেকে পরিত্যক্ত মনে হলেও ভেতরে ছিল আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। ১৮ জুলাই ভোরে (ফজরের আজানের সময়) ডিজিএফআইর এক সেনা কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির লাখো জনতার সমাবেশ ১০ মিনিটে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। তাদের আন্দোলনও একইভাবে নষ্ট করতে তাঁর সময় লাগবে না।

এ মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।