ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

আনসার বাহিনীতে উপজেলা পর্যায়ে খরচ বহনে হিমশিম খাচ্ছে কর্মকর্তারা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে নানা সময়ের নানা প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উৎসবে ডিউটি পালনসহ সর্বশেষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ এলেও তার একটি অংশ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। এতে প্রকৃত খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে কারো কারো ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতেও বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

যা তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি করছে।
নাম প্রকাশ না করে অনন্ত পাঁচজন উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের প্রায় এক মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত কিছু উপজেলার বরাদ্দ তারা পাননি। বরং তাদের কারো কারো পকেট থেকে ৪০ হাজারের অধিক টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এখন খরচ বাবদ মোট টাকা কবে পাবেন সেটা নিয়েও দুঃচিন্তায় আছেন।

তাদের একজন বলেন, আমাদের যা খরচ হয়, তার পুরো টাকা দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, নির্বাচনের যত কাজ আছে সব কাজই করে উপজেলার কর্মকর্তারা, কিন্তু ভাতা বিতরণ ও নির্বাচন খরচ উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি বড় উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দ আসার পরও ঠিকমতো উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি সেই অর্থ পৌঁছায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে নির্বাচন পরিচালনার সময় মনিহারি সামগ্রী, জ্বালানি ব্যয়, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে উপজেলা ও থানা অফিসারদের অধিকাংশ সময় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাওয়ায় তাদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
তারা বলছেন, নির্বাচন পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান, সদস্য মোতায়েন, মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়সহ প্রায় সকল কার্যক্রমই উপজেলা ও থানা কর্মকর্তারা সম্পন্ন করেন। কিন্তু আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করা হয় জেলা পর্যায়ে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, জেলা থেকে অধিকাংশ সময় প্রকৃত খরচের তুলনায় কম অর্থ উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া হয়।

এমনকি ন্যায্য খরচের হিসাব চাইতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, পূজা ও অন্যান্য দায়িত্বেও একই চিত্র দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও অনেকেই নির্বাচন পরিচালনা বাবদ মনিহারি ও জ্বালানি খরচ পাননি। বিষয়টি আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকে উপজেলা কর্মকর্তারা অবগত করলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে মাঠ পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

সরাসরি উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরের এজকজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলায় সরাপসরি বরাদ্দ যদি দেওয়া হয় এখানে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটো দিকই আছে। একদিকে হয়তো তারা দ্রুত টাকা পেয়ে যাবে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার বিষয়ে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, কেউ যদি প্রয়োজনীয় কেনাকাটা না করে বলেন কেনা হয়েছে? তাই বর্তমানে যেভাবে আছে সেখানে জেলা কমান্ট ক্রস চেক করতে পারে, আবার জেলা কমান্ড এদিক-সেদিক করতে চাইলে উপজেলা কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হতে পারেন। তবে, আমার জানা মতে নির্বাচনের বরাদ্দ পৌঁছেছে, যদি কোথাও বাকী থাকে দ্রুতই পেয়ে যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর যেসকল সদস্য নানা আয়োজনের ডিউটি পালন করেন তাদের বরাদ্দ কিংবা ভাতা দিতে বিলম্ব হয় কেন জানতে চাইলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ও উপপরিচালক মো. আশিকউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতার জন্য অনেক কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করেছি, যেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। তারপরও যদি কারো কোনো বিষয় জানার থাকে যেকোনো সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ তাদের (উপজেলা অফিসার) আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে একটি হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপ করা আছে, সেখানে নির্দিধায় মতামত দিতে পারেন। যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মিনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

আনসার বাহিনীতে উপজেলা পর্যায়ে খরচ বহনে হিমশিম খাচ্ছে কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ০২:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে নানা সময়ের নানা প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উৎসবে ডিউটি পালনসহ সর্বশেষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ এলেও তার একটি অংশ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। এতে প্রকৃত খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে কারো কারো ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতেও বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

যা তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি করছে।
নাম প্রকাশ না করে অনন্ত পাঁচজন উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের প্রায় এক মাস হতে চললেও এখন পর্যন্ত কিছু উপজেলার বরাদ্দ তারা পাননি। বরং তাদের কারো কারো পকেট থেকে ৪০ হাজারের অধিক টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এখন খরচ বাবদ মোট টাকা কবে পাবেন সেটা নিয়েও দুঃচিন্তায় আছেন।

তাদের একজন বলেন, আমাদের যা খরচ হয়, তার পুরো টাকা দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, নির্বাচনের যত কাজ আছে সব কাজই করে উপজেলার কর্মকর্তারা, কিন্তু ভাতা বিতরণ ও নির্বাচন খরচ উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি বড় উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দ আসার পরও ঠিকমতো উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি সেই অর্থ পৌঁছায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে নির্বাচন পরিচালনার সময় মনিহারি সামগ্রী, জ্বালানি ব্যয়, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে উপজেলা ও থানা অফিসারদের অধিকাংশ সময় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাওয়ায় তাদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
তারা বলছেন, নির্বাচন পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান, সদস্য মোতায়েন, মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়সহ প্রায় সকল কার্যক্রমই উপজেলা ও থানা কর্মকর্তারা সম্পন্ন করেন। কিন্তু আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করা হয় জেলা পর্যায়ে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, জেলা থেকে অধিকাংশ সময় প্রকৃত খরচের তুলনায় কম অর্থ উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া হয়।

এমনকি ন্যায্য খরচের হিসাব চাইতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, পূজা ও অন্যান্য দায়িত্বেও একই চিত্র দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাস পার হলেও অনেকেই নির্বাচন পরিচালনা বাবদ মনিহারি ও জ্বালানি খরচ পাননি। বিষয়টি আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকে উপজেলা কর্মকর্তারা অবগত করলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে মাঠ পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

সরাসরি উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরের এজকজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলায় সরাপসরি বরাদ্দ যদি দেওয়া হয় এখানে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটো দিকই আছে। একদিকে হয়তো তারা দ্রুত টাকা পেয়ে যাবে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার বিষয়ে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, কেউ যদি প্রয়োজনীয় কেনাকাটা না করে বলেন কেনা হয়েছে? তাই বর্তমানে যেভাবে আছে সেখানে জেলা কমান্ট ক্রস চেক করতে পারে, আবার জেলা কমান্ড এদিক-সেদিক করতে চাইলে উপজেলা কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হতে পারেন। তবে, আমার জানা মতে নির্বাচনের বরাদ্দ পৌঁছেছে, যদি কোথাও বাকী থাকে দ্রুতই পেয়ে যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর যেসকল সদস্য নানা আয়োজনের ডিউটি পালন করেন তাদের বরাদ্দ কিংবা ভাতা দিতে বিলম্ব হয় কেন জানতে চাইলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ও উপপরিচালক মো. আশিকউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতার জন্য অনেক কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করেছি, যেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। তারপরও যদি কারো কোনো বিষয় জানার থাকে যেকোনো সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ তাদের (উপজেলা অফিসার) আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে একটি হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপ করা আছে, সেখানে নির্দিধায় মতামত দিতে পারেন। যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মিনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।