ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

আইপিএল ঘিরে ঢাকা-দিল্লির সর্ম্পকে নয়া সংকট, ভারতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীলতার অভাব

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
গত ডিসেম্বরে আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো নিরাপত্তা অজুহাতে তাকে হঠাৎই বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে না খেলার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি।

আইপিএলে মোস্তাফিজের খেলা বাতিলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের যে টানাপোড়েন, এর সমাধান কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এই সঙ্কটে ঢাকা বা দিল্লী কোনো পক্ষেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিদ্যমান অবস্থার চেয়ে আরো বেশি খারাপ হলে তার জন্য ভুগতে হবে দুইপক্ষকেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান বলেছেন, মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে যে সংকটটা তৈরি হয়েছে সেটা মোটেও কাম্য নয় এবং এই ক্ষেত্রে আসলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং ভারতীয় রাজনীতিতে যে ধরনের একটা দায়িত্বশীলত থাকা দরকার ছিল, সেটার অভাব আছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, এটা আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, এটা করার দরকার ছিল না। এটা উসকানিমূলক কাজ হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এখনকার যে বাস্তবতা তাতে খুব সাবধানে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে আমার ধারণা।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ক্রিকেট কি রাজনৈতিক সঙ্কট আরো বাড়াচ্ছে? প্রশ্ন ছিল বিশ্লেষকদের কাছে?

এম হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা ধারণা সম্পর্কটা খারাপ বা আরেকটু নিচে যাক, উত্তেজনা তৈরি হোক, এটা কেউ-ই চায় না। বাংলাদেশের সরকারও চায় না, ভারত সরকারও চাওয়ার কথা না।

ড. সাহাব এনাম খান বলেছেন, আমি মনে করি, রাজনৈতিক বার্তা খুব বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে ভারতের যে রাজনীতিবিদ আছেন, তারা তো সমাজের সাথে জড়িত এবং সমাজে যে ধরনের মতামত তৈরি হচ্ছে সে ব্যাপারে তারা একটি সদিচ্ছা দেখাবেন।

বিসিবির নিরাপত্তা শঙ্কা আরও জটিল করেছে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের দেয়া মেইল। তাই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শুধু ক্রিকেট কূটনীতিতেই নির্ভর করছে না, যোগ হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

আইপিএল ঘিরে ঢাকা-দিল্লির সর্ম্পকে নয়া সংকট, ভারতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীলতার অভাব

আপডেট সময় ০৬:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
গত ডিসেম্বরে আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো নিরাপত্তা অজুহাতে তাকে হঠাৎই বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে না খেলার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি।

আইপিএলে মোস্তাফিজের খেলা বাতিলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের যে টানাপোড়েন, এর সমাধান কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এই সঙ্কটে ঢাকা বা দিল্লী কোনো পক্ষেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিদ্যমান অবস্থার চেয়ে আরো বেশি খারাপ হলে তার জন্য ভুগতে হবে দুইপক্ষকেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান বলেছেন, মোস্তাফিজকে কেন্দ্র করে যে সংকটটা তৈরি হয়েছে সেটা মোটেও কাম্য নয় এবং এই ক্ষেত্রে আসলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং ভারতীয় রাজনীতিতে যে ধরনের একটা দায়িত্বশীলত থাকা দরকার ছিল, সেটার অভাব আছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, এটা আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, এটা করার দরকার ছিল না। এটা উসকানিমূলক কাজ হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এখনকার যে বাস্তবতা তাতে খুব সাবধানে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে আমার ধারণা।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ক্রিকেট কি রাজনৈতিক সঙ্কট আরো বাড়াচ্ছে? প্রশ্ন ছিল বিশ্লেষকদের কাছে?

এম হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা ধারণা সম্পর্কটা খারাপ বা আরেকটু নিচে যাক, উত্তেজনা তৈরি হোক, এটা কেউ-ই চায় না। বাংলাদেশের সরকারও চায় না, ভারত সরকারও চাওয়ার কথা না।

ড. সাহাব এনাম খান বলেছেন, আমি মনে করি, রাজনৈতিক বার্তা খুব বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে ভারতের যে রাজনীতিবিদ আছেন, তারা তো সমাজের সাথে জড়িত এবং সমাজে যে ধরনের মতামত তৈরি হচ্ছে সে ব্যাপারে তারা একটি সদিচ্ছা দেখাবেন।

বিসিবির নিরাপত্তা শঙ্কা আরও জটিল করেছে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের দেয়া মেইল। তাই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শুধু ক্রিকেট কূটনীতিতেই নির্ভর করছে না, যোগ হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ।