ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী Logo খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এক সুপরিকল্পিত ছক Logo দেশে এখন ‘মামলা বাণিজ্য’ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে: রুমিন ফারহানা Logo অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন Logo কক্সবাজারে আসামী ধরতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু Logo ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোনকল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর, যে কথা হলো Logo প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে মনোযোগ দিতে বিএনপির পদ ছাড়লেন শাহে আলম Logo আমিনুল, জাইমা এবং আমাদের সংকীর্ণতার আয়না Logo ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ৭৭তম বারের মতো হামলা ইরানের Logo বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার

অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন অবসরের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো সরকারি বাংলো ছাড়েননি। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে বাসা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজধানীর বেইলি রোডের ৪০ নম্বর সরকারি বাড়িটির দিকে নজর পড়ে তার। সে সময় সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তদারকির পাশাপাশি পরিবারসহ বসবাস করতেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িটি নিজের দখলে নেন ওয়াছি উদ্দিন।

বাড়িটিকে আধুনিক ও নান্দনিক করতে সিভিল ও ইএম বিভাগ থেকে কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। এরপর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং মাসিক ভাড়া হিসেবে মাত্র ৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। একই সময় পাশের সচিব নিবাস খালি রেখে তিনি বাংলোতেই থাকতেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে যান গোপালগঞ্জের এই বাসিন্দা। তবে অবসরের পরও বাড়িটি ছাড়েননি। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আরও ছয় মাস থাকার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো বাংলোতে অবস্থান করছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহার এক চিঠিতে বেইলি রোডের দোতলা বাড়িটি কাজী ওয়াছি উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে। এত বড় একটি বাড়ির জন্য মাত্র ৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সচিবদের জন্য ইস্কাটনে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের দখলে রয়েছে।

ফাঁকা আছে এমন অজুহাতে ১১৪টি ফ্ল্যাটের প্রায় অর্ধেকের বাসিন্দা এখন অতিরিক্ত সচিব।

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫২ কাঠা জমিতে নির্মিত সচিবদের আবাসন প্রকল্পে সুইমিংপুল, জিম, পার্কিংসহ নানা আধুনিক সুবিধা থাকলেও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো বাংলো বাড়িকেই বেশি পছন্দ করছেন। এতে সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন

আপডেট সময় ০২:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন অবসরের প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো সরকারি বাংলো ছাড়েননি। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে বাসা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজধানীর বেইলি রোডের ৪০ নম্বর সরকারি বাড়িটির দিকে নজর পড়ে তার। সে সময় সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তদারকির পাশাপাশি পরিবারসহ বসবাস করতেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িটি নিজের দখলে নেন ওয়াছি উদ্দিন।

বাড়িটিকে আধুনিক ও নান্দনিক করতে সিভিল ও ইএম বিভাগ থেকে কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। এরপর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং মাসিক ভাড়া হিসেবে মাত্র ৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। একই সময় পাশের সচিব নিবাস খালি রেখে তিনি বাংলোতেই থাকতেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে যান গোপালগঞ্জের এই বাসিন্দা। তবে অবসরের পরও বাড়িটি ছাড়েননি। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আরও ছয় মাস থাকার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো বাংলোতে অবস্থান করছেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রাণী সাহার এক চিঠিতে বেইলি রোডের দোতলা বাড়িটি কাজী ওয়াছি উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে। এত বড় একটি বাড়ির জন্য মাত্র ৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সচিবদের জন্য ইস্কাটনে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবদের দখলে রয়েছে।

ফাঁকা আছে এমন অজুহাতে ১১৪টি ফ্ল্যাটের প্রায় অর্ধেকের বাসিন্দা এখন অতিরিক্ত সচিব।

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫২ কাঠা জমিতে নির্মিত সচিবদের আবাসন প্রকল্পে সুইমিংপুল, জিম, পার্কিংসহ নানা আধুনিক সুবিধা থাকলেও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো বাংলো বাড়িকেই বেশি পছন্দ করছেন। এতে সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481