ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে: ডা. জাহেদ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলোকে প্রবলভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই দাবি করেন।

ডা. জাহেদ বলেন, অতীতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে নজিরবিহীনভাবে ছাড় দেওয়ার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান, কোনো অবস্থাতেই মব জাস্টিস বা আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন হাতে তুলে নিতে পারে না।

ডা. জাহেদ উর রহমানের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। অতীতে এই অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে তারা চাইলেই কাউকে শাস্তি দিতে পারে, যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা জরুরি।

ডা. জাহেদ আরও উল্লেখ করেন, কেউ যদি গুরুতর কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হয়, তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়। তিনি স্বীকার করেন যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সরকার সেই ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি ব্রিফিংয়ে জানান।

পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করার অঙ্গীকার করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার প্রকৃত অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনবে, তবে তা কোনোভাবেই গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।

তিনি দেশের নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার অনুরোধ করেন। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে: ডা. জাহেদ

আপডেট সময় ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাগুলোকে প্রবলভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই দাবি করেন।

ডা. জাহেদ বলেন, অতীতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে নজিরবিহীনভাবে ছাড় দেওয়ার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান, কোনো অবস্থাতেই মব জাস্টিস বা আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন হাতে তুলে নিতে পারে না।

ডা. জাহেদ উর রহমানের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। অতীতে এই অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে তারা চাইলেই কাউকে শাস্তি দিতে পারে, যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা জরুরি।

ডা. জাহেদ আরও উল্লেখ করেন, কেউ যদি গুরুতর কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হয়, তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়। তিনি স্বীকার করেন যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সরকার সেই ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি ব্রিফিংয়ে জানান।

পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করার অঙ্গীকার করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার প্রকৃত অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনবে, তবে তা কোনোভাবেই গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।

তিনি দেশের নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার অনুরোধ করেন। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।