ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

অনলাইনে বিনিয়োগের ফাঁদ, কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর নিজ বাসা থেকে নাদিম নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সিআইডির ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের হোয়াটসঅ্যাপে অজ্ঞাত নম্বর থেকে একটি বার্তা আসে। বার্তা পাঠানো ব্যক্তি নিজেকে ‘নাজনীন’ নামে পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে তিনি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘আপওয়ার্ক’-এর প্রতিনিধি।

বাসায় বসে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে আয় করার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।
ইউটিউব সাবস্ক্রিপশনসহ কয়েকটি ছোট অনলাইন টাস্ক করিয়ে ভুক্তভোগীকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে ১৫০ টাকা এবং পরে ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়, যেখানে ভুয়া সদস্যরা দাবি করেন, তারা নিয়মিত কাজ করে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন। এতে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস বেড়ে যায়।

পরের ধাপে বড় টাস্কের কথা বলে প্রতারকরা ‘ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলে। এরপর জানানো হয়, আরো ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তার ব্যালেন্স ৭ হাজার টাকা দেখাবে এবং তিনি অর্থ তুলতে পারবেন। ভুক্তভোগী টাকা পাঠানোর পর তাকে ‘ভিআইপি টাস্ক গ্রুপে’ যুক্ত করা হয়, যার অ্যাডমিন ছিলেন হামজা নামে একজন। গ্রুপে দেখানো হয় যে সবার অ্যাকাউন্টে ৭ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

সিআইডি জানায়, টাকা তুলতে চাইলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে জানানো হয়, ক্যাশ আউটের জন্য আরো ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। সরল বিশ্বাসে তিনি টাকা দেন। তবে ব্যালেন্স প্রদর্শনে অসঙ্গতি দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে নতুন টাস্ক ও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়। এভাবে একের পর এক টাস্ক, বড় লাভের প্রলোভন এবং ভুয়া হিসাব দেখিয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী লালবাগ থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার নিয়ে সিআইডির সিপিসি ইউনিটের একটি দল প্রতারক চক্রের সদস্য নাদিমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এনআইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

অনলাইনে বিনিয়োগের ফাঁদ, কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর নিজ বাসা থেকে নাদিম নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সিআইডির ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের হোয়াটসঅ্যাপে অজ্ঞাত নম্বর থেকে একটি বার্তা আসে। বার্তা পাঠানো ব্যক্তি নিজেকে ‘নাজনীন’ নামে পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে তিনি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘আপওয়ার্ক’-এর প্রতিনিধি।

বাসায় বসে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে আয় করার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।
ইউটিউব সাবস্ক্রিপশনসহ কয়েকটি ছোট অনলাইন টাস্ক করিয়ে ভুক্তভোগীকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে ১৫০ টাকা এবং পরে ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়, যেখানে ভুয়া সদস্যরা দাবি করেন, তারা নিয়মিত কাজ করে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন। এতে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস বেড়ে যায়।

পরের ধাপে বড় টাস্কের কথা বলে প্রতারকরা ‘ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলে। এরপর জানানো হয়, আরো ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তার ব্যালেন্স ৭ হাজার টাকা দেখাবে এবং তিনি অর্থ তুলতে পারবেন। ভুক্তভোগী টাকা পাঠানোর পর তাকে ‘ভিআইপি টাস্ক গ্রুপে’ যুক্ত করা হয়, যার অ্যাডমিন ছিলেন হামজা নামে একজন। গ্রুপে দেখানো হয় যে সবার অ্যাকাউন্টে ৭ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

সিআইডি জানায়, টাকা তুলতে চাইলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে জানানো হয়, ক্যাশ আউটের জন্য আরো ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। সরল বিশ্বাসে তিনি টাকা দেন। তবে ব্যালেন্স প্রদর্শনে অসঙ্গতি দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে নতুন টাস্ক ও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়। এভাবে একের পর এক টাস্ক, বড় লাভের প্রলোভন এবং ভুয়া হিসাব দেখিয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী লালবাগ থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার নিয়ে সিআইডির সিপিসি ইউনিটের একটি দল প্রতারক চক্রের সদস্য নাদিমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এনআইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।