ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মধ্যপ্রাচ্যে জুনের মধ্যে ৪৫ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে Logo বিশ্বকাপে খেলতে না পারার কারণ খুঁজতে তদন্ত হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না: ট্রাম্প Logo সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি Logo যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মোজতবা খামেনি: ইরানি কর্মকর্তা Logo ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলা Logo ইরান কিছুতেই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান Logo ইসরায়েলের অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় ইরানের হামলা Logo চীনের উপহার হাইজ্যাক করে বাপের নাম বসানো হয়েছিল: জামায়াত আমির Logo ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী রাষ্ট্র’ ঘোষণা আলবেনিয়ার

এখনো আলমাছের ইশারায় চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ও সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিন ঘুস বাণিজ্যের আখড়া গড়ে তোলেন। এ বছরের ৮ জানুয়ারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজশাহী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ১০ মাসেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেনি। অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এখনো আলমাছের ইশারায় চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর।

এদিকে, মাউশির রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চার মাসেও শেষ হয়নি। অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে মাউশির মহাপরিচালককে (ডিজি) নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২৫ মে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ জুন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন মাউশির ডিজি। মাউশির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের কোনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দাপট দেখিয়ে মাউশির তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ও সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিন ঘুস বাণিজ্যের আখড়া গড়ে তোলেন। এমপিওভুক্ত করতে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে তারা ঘুস আদায় করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্বজিৎকে মাউশি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন দায়িত্ব পেয়ে পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামানও ওই সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধেও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন।

সহকারী পরিচালক আলমাছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা মাউশিতে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে যোগদানের পর থেকে আলমাছ উদ্দিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করার সময় ঘুসের বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহু নাম এমপিওভুক্ত করা হয়। কাউকে দেওয়া হয় ইনক্রিমেন্ট অথবা পদোন্নতি। তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে আলমাছ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটা প্রমাণের জন্য অভিযোগপত্রের সঙ্গে একটি স্ক্রিনশটও দাখিল করা হয়। এখনো নিজের জায়গাতেই আলমাছ আছেন। অভিযোগ-সাবেক পরিচালককে হাত করে যেমন কার্যহাসিল করতেন তেমনি বর্তমান পরিচালককেও হাত করেছেন আলমাছ। আলমাছের ইশারাতেই চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর। এর আগে শিক্ষকদের ফাইল আটকে ঘুস আদায়কারী উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেনকে বদলি করা হয়। তদন্তের নির্দেশ আসে তার বিরুদ্ধেও। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধেই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে জুনের মধ্যে ৪৫ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে

এখনো আলমাছের ইশারায় চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর

আপডেট সময় ১২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ও সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিন ঘুস বাণিজ্যের আখড়া গড়ে তোলেন। এ বছরের ৮ জানুয়ারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজশাহী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ১০ মাসেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেনি। অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এখনো আলমাছের ইশারায় চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর।

এদিকে, মাউশির রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চার মাসেও শেষ হয়নি। অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে মাউশির মহাপরিচালককে (ডিজি) নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২৫ মে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৫ জুন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন মাউশির ডিজি। মাউশির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের কোনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দাপট দেখিয়ে মাউশির তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি ও সহকারী পরিচালক (কলেজ) আলমাছ উদ্দিন ঘুস বাণিজ্যের আখড়া গড়ে তোলেন। এমপিওভুক্ত করতে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে তারা ঘুস আদায় করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্বজিৎকে মাউশি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন দায়িত্ব পেয়ে পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামানও ওই সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধেও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন।

সহকারী পরিচালক আলমাছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা মাউশিতে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে যোগদানের পর থেকে আলমাছ উদ্দিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করার সময় ঘুসের বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহু নাম এমপিওভুক্ত করা হয়। কাউকে দেওয়া হয় ইনক্রিমেন্ট অথবা পদোন্নতি। তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে আলমাছ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটা প্রমাণের জন্য অভিযোগপত্রের সঙ্গে একটি স্ক্রিনশটও দাখিল করা হয়। এখনো নিজের জায়গাতেই আলমাছ আছেন। অভিযোগ-সাবেক পরিচালককে হাত করে যেমন কার্যহাসিল করতেন তেমনি বর্তমান পরিচালককেও হাত করেছেন আলমাছ। আলমাছের ইশারাতেই চলছে রাজশাহী আঞ্চলিক দপ্তর। এর আগে শিক্ষকদের ফাইল আটকে ঘুস আদায়কারী উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেনকে বদলি করা হয়। তদন্তের নির্দেশ আসে তার বিরুদ্ধেও। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধেই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481