ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, কর্মীদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান Logo সকালের মধ্যেই ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা Logo সরকারি ছুটির মধ্যেই সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আজ Logo লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরু Logo জেলে না গেলে বুঝতাম না কত বড় জুলুমের শাসন ড. ইউনূস করে দিয়েছে: আনিস আলমগীর Logo ২০ বছর আগে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৩৩০ পুলিশ সদস্যকে চাকরি দিচ্ছে সরকার Logo এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী বাড়ল ১ লাখ ৭৯ হাজার Logo ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারে হামলার দাবি আইআরজিসির Logo ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দায় প্রধানমন্ত্রীর’ Logo কেউ ভোট দিতে পারেননি, এমন অভিযোগ পাননি: সিইসি

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক হচ্ছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৭ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

দেশের তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন সহজ শর্তে তুলনামূলক কম সুদে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩২ শতাংশ। দেশে ৮০ লাখের বেশি সিএমএসএমই শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা নানা সীমাবদ্ধতায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। আর ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণে অনেক বেশি সুদ। ফলে অর্থায়ন সংকটে পড়েছেন অনেক সিএমএসএমই উদ্যোক্তা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানও। কারণ এ খাতই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুচারুরূপে ও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিশেষায়িত ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব ও জামানত না দিতে পারায় ছোট উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চায় না। তাছাড়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ঋণ দেওয়া হলেও সুদহার অনেক বেশি। তাই অনেক দিন থেকেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি আসছিল বিভিন্ন খাত থেকে। সে দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশের আওতায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারও এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তবে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকার মনে করছে এমন প্রতিষ্ঠান হলে সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাবে। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। তবে প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা। এর ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক পরিশোধ করা হবে। বাকি অংশ অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক পরিশোধ করা যাবে। এ বিধান প্রতিপালন করে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা বা আমানতকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হতে পারবেন। অনুমোদিতে মূলধন প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যমানের তিন কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে।

এতে বলা হয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় একটি পৃথক বিভাগ বা দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে এ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিভাগটি একজন প্রধান নির্বাহী দিয়ে পরিচালিত হবে। আর আট সদস্যের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডের তিনজন পরিচালক হবেন ঋণগ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারের মনোনীত। অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার মনোনয়ন করবেন আরও তিন পরিচালক। এ ছয় পরিচালক একজন চেয়ারপারসন নির্বাচন করবেন। পরিচালনা বোর্ডের আরেক সদস্য হবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, এক মেয়াদে পরিচালক তিন বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একজন পরিচালক টানা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো পরিচালকের মনোনয়ন বাতিল করা যাবে। এসব ক্ষেত্রে এমডির ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড সময় সময় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে। এ ব্যাংকগুলো সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসাবে পরিশোধকৃত অর্থের পরিমাণ তাদের মোট বিনিয়োগের অতিরিক্ত হবে না।

ব্যাংকের কার্যাবলি
অধ্যাদেশের খসড়া অনুসারে, ব্যাংক জামানতসহ, জামানত ছাড়া নগদে বা অন্য কোনো প্রকারে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। এ ক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যবসা ও জীবনমান উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের মাশুল দিয়ে বা ছাড়া কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে ব্যাংক। উদ্যোক্তাদের জন্য আয় সৃষ্টিকারী প্রকল্প হতে নেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতাদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে থাকবে সব ধরনের বীমা সুবিধা। উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, বিপণন, কারিগরি এবং প্রশাসনিক পরামর্শও দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।

ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণগ্রহীতা বা অন্য যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করবে ব্যাংক। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যাংক স্থানীয় বা বিদেশি সহায়তা ও অনুদান নিতে পারবে। ঋণ নেওয়া যাবে ব্যাংকের সম্পদ বা অন্য কিছু জামানত রেখে। কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার কিনতে পারবে ব্যাংক। এ ছাড়া সরকারি সিকিউরিটিতে তহবিল বিনিয়োগ করতে পারবে।

খসড়ায় বলা হয়, ব্যাংকের দাবির সম্পূর্ণ বা আংশিক পূরণকল্পে যে কোনোভাবে ব্যাংকের দখলে আসা সব স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ আদায় এবং ব্যাংকের কাছে জামানত বাবদ গচ্ছিত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ অর্জন বা রক্ষণ বা ব্যবস্থাপনা করবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
খসড়ায় আরও বলা হয়, ব্যাংক, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে সরকারের গ্যারান্টিকৃত বিনিয়োগ ইন্সট্রুমেন্টে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আমানত বিনিয়োগ করবে, যাতে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিজনিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিদ্যমান আইন ও মান অনুসরণে ব্যাংক তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করবে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খসড়া অধ্যাদেশে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, কর্মীদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক হচ্ছে

আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:

দেশের তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন সহজ শর্তে তুলনামূলক কম সুদে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩২ শতাংশ। দেশে ৮০ লাখের বেশি সিএমএসএমই শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা নানা সীমাবদ্ধতায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। আর ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণে অনেক বেশি সুদ। ফলে অর্থায়ন সংকটে পড়েছেন অনেক সিএমএসএমই উদ্যোক্তা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানও। কারণ এ খাতই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুচারুরূপে ও কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিশেষায়িত ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব ও জামানত না দিতে পারায় ছোট উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চায় না। তাছাড়া ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ঋণ দেওয়া হলেও সুদহার অনেক বেশি। তাই অনেক দিন থেকেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি আসছিল বিভিন্ন খাত থেকে। সে দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশের আওতায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারও এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তবে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকার মনে করছে এমন প্রতিষ্ঠান হলে সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাবে। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। তবে প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা। এর ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক পরিশোধ করা হবে। বাকি অংশ অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক পরিশোধ করা যাবে। এ বিধান প্রতিপালন করে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা বা আমানতকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হতে পারবেন। অনুমোদিতে মূলধন প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যমানের তিন কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে।

এতে বলা হয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় একটি পৃথক বিভাগ বা দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে এ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিভাগটি একজন প্রধান নির্বাহী দিয়ে পরিচালিত হবে। আর আট সদস্যের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডের তিনজন পরিচালক হবেন ঋণগ্রহীতা ও শেয়ারহোল্ডারের মনোনীত। অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার মনোনয়ন করবেন আরও তিন পরিচালক। এ ছয় পরিচালক একজন চেয়ারপারসন নির্বাচন করবেন। পরিচালনা বোর্ডের আরেক সদস্য হবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, এক মেয়াদে পরিচালক তিন বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একজন পরিচালক টানা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো পরিচালকের মনোনয়ন বাতিল করা যাবে। এসব ক্ষেত্রে এমডির ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না। ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড সময় সময় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে। এ ব্যাংকগুলো সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসাবে পরিশোধকৃত অর্থের পরিমাণ তাদের মোট বিনিয়োগের অতিরিক্ত হবে না।

ব্যাংকের কার্যাবলি
অধ্যাদেশের খসড়া অনুসারে, ব্যাংক জামানতসহ, জামানত ছাড়া নগদে বা অন্য কোনো প্রকারে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। এ ক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যবসা ও জীবনমান উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের মাশুল দিয়ে বা ছাড়া কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে ব্যাংক। উদ্যোক্তাদের জন্য আয় সৃষ্টিকারী প্রকল্প হতে নেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতাদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে থাকবে সব ধরনের বীমা সুবিধা। উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, বিপণন, কারিগরি এবং প্রশাসনিক পরামর্শও দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।

ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঋণগ্রহীতা বা অন্য যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করবে ব্যাংক। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যাংক স্থানীয় বা বিদেশি সহায়তা ও অনুদান নিতে পারবে। ঋণ নেওয়া যাবে ব্যাংকের সম্পদ বা অন্য কিছু জামানত রেখে। কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার কিনতে পারবে ব্যাংক। এ ছাড়া সরকারি সিকিউরিটিতে তহবিল বিনিয়োগ করতে পারবে।

খসড়ায় বলা হয়, ব্যাংকের দাবির সম্পূর্ণ বা আংশিক পূরণকল্পে যে কোনোভাবে ব্যাংকের দখলে আসা সব স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ আদায় এবং ব্যাংকের কাছে জামানত বাবদ গচ্ছিত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ অর্জন বা রক্ষণ বা ব্যবস্থাপনা করবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
খসড়ায় আরও বলা হয়, ব্যাংক, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে সরকারের গ্যারান্টিকৃত বিনিয়োগ ইন্সট্রুমেন্টে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আমানত বিনিয়োগ করবে, যাতে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিজনিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিদ্যমান আইন ও মান অনুসরণে ব্যাংক তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করবে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খসড়া অধ্যাদেশে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481