ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

১৬৬ ইউএনও বদলি, পরিপত্র মানা হয়নি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা পরিপত্র অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারদের হাতে। কিন্তু গতকাল বুধবার এই পরিপত্র না মেনে সারাদেশে ৮ বিভাগে ১৬৬ কর্মকর্তাকে সরাসরি পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এক দিনে এই বদলি হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কারণ সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর জয়পুরহাটের কালাইয়ের ইউএনও শামিমা আক্তার জাহানকে ময়মনসিংহে বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের অধীন ন্যস্ত করা হয়। এর ১০ দিন পরই সে নিয়ম মানা হলো না। কেন এই ব্যতিক্রম– সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি গতকালের প্রজ্ঞাপনে। বদলি কর্মকর্তারা এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। আগে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মাঠ প্রশাসনের হঠাৎ এই পরিবর্তনে উত্তর খুঁজছেন অনেকে।

গতকাল এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হককে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ঊনি অধিশাখা) মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী সমকালকে বলেন, একসঙ্গে অনেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় তাদের কর্মস্থল সরাসরি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অব্যবস্থাপনা না হয়। ঝুঁকিমুক্ত থাকার জন্য জনপ্রশাসন এভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পরিপত্র না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা লটারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, ভালো নির্বাচনের জন্য যেসব উপজেলায় যে ধরনের কর্মকর্তা প্রয়োজন, লটারির মাধ্যমে সেটা কোনোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে চৌকস ও দক্ষ কর্মকর্তারা কম ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় পদায়ন হতে পারে। আবার কম দক্ষ কর্মকর্তাদের অধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া এমন পদায়নে জনমনে ভুল বার্তা যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নির্বাচনের আগে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ইউএনও মাঠ প্রশাসন সহজে সাজাতে পারবে না। লটারির মাধ্যমে পদায়ন দক্ষ ও ভালো প্রশাসনের লক্ষণ নয়।

ঢাকার বেশির ভাগ কর্মকর্তা এই বিভাগের ইউএনও
ঢাকা বিভাগের ইউএনও হওয়া লোভনীয় পদ। এবারের পদায়ন লটারিতে বলা হলেও ঢাকায় কর্মরতরা এ বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সচিবদের একান্ত সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ২৯ জনের মধ্যে ১৫ জন এই বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। অথচ অন্য সাতটি বিভাগে ঢাকায় কর্মরতরা ততটা পদায়ন পাননি।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, কেন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে আমাদের বিবেচনায় দিতে পারত। নিয়োগ পাওয়াদের প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। প্রত্যাহার করাদের প্রজ্ঞাপন পাইনি।

ইউএনওদের পদায়ন ও বদলির ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনারদের অধীনে দিয়ে ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর লক্ষ্য ছিল মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ কমানো এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। তখন থেকে বিভাগীয় কমিশনাররা বদলি ও পদায়ন করছেন।

ইউএনওদের বদলি পদায়ন-সংক্রান্ত ২০১০ সালের পরিপত্রে বলা হয়, ইউএনওর শূন্য পদ পূরণের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়)। ফিটলিস্টভুক্ত ওইসব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হবে। এসব কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বিভাগীয় কমিশনাররা। এক বিভাগের ইউএনওকে অন্য বিভাগে সরাসরি বদলি করা যাবে না। কেউ অন্য বিভাগে বদলি হতে চাইলে তাঁর নিজ বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহারের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো ইউএনওকে দুই বছরের আগে বদলি করা যাবে না। পাশাপাশি তিন বছরের বেশি কোনো কর্মকর্তাকে একই কর্মস্থলে রাখা যাবে না। তবে পার্বত্য এলাকা এবং সরকার ঘোষিত দুর্গম এলাকায় কোনো কর্মকর্তাকে ইউএনও হিসেবে দুই বছরের বেশি রাখা যাবে না। কোনো ইউএনওকে একই জেলার অন্য উপজেলায় বদলি করা যাবে না। কোনো কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের অধিক ইউএনও পদে রাখা যাবে না। ইউএনও হিসেবে যাদের চাকরি পাঁচ বছর পূর্ণ হবে, তাদের তালিকা বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ত্রিশ কর্মদিবস আগে লিখিতভাবে বিভাগীয় কমিশনারকে জানাবেন।

বুধবার পৃথক ৮টি প্রজ্ঞাপনে ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইউএনও হিসেবে ন্যস্ত কর্মকর্তাদের নিজ অধিক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।

আরও বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলি কর্মস্থলে যোগ দেবেন। অন্যথায় আগামী ৩০ নভেম্বর বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল (প্রশিক্ষণ/কর্মস্থল) থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। বদলি কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

১৬৬ ইউএনও বদলি, পরিপত্র মানা হয়নি

আপডেট সময় ১১:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেস্ক:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা পরিপত্র অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারদের হাতে। কিন্তু গতকাল বুধবার এই পরিপত্র না মেনে সারাদেশে ৮ বিভাগে ১৬৬ কর্মকর্তাকে সরাসরি পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এক দিনে এই বদলি হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কারণ সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর জয়পুরহাটের কালাইয়ের ইউএনও শামিমা আক্তার জাহানকে ময়মনসিংহে বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের অধীন ন্যস্ত করা হয়। এর ১০ দিন পরই সে নিয়ম মানা হলো না। কেন এই ব্যতিক্রম– সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি গতকালের প্রজ্ঞাপনে। বদলি কর্মকর্তারা এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। আগে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মাঠ প্রশাসনের হঠাৎ এই পরিবর্তনে উত্তর খুঁজছেন অনেকে।

গতকাল এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হককে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ঊনি অধিশাখা) মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী সমকালকে বলেন, একসঙ্গে অনেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় তাদের কর্মস্থল সরাসরি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অব্যবস্থাপনা না হয়। ঝুঁকিমুক্ত থাকার জন্য জনপ্রশাসন এভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পরিপত্র না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা লটারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, ভালো নির্বাচনের জন্য যেসব উপজেলায় যে ধরনের কর্মকর্তা প্রয়োজন, লটারির মাধ্যমে সেটা কোনোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে চৌকস ও দক্ষ কর্মকর্তারা কম ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় পদায়ন হতে পারে। আবার কম দক্ষ কর্মকর্তাদের অধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া এমন পদায়নে জনমনে ভুল বার্তা যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নির্বাচনের আগে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ইউএনও মাঠ প্রশাসন সহজে সাজাতে পারবে না। লটারির মাধ্যমে পদায়ন দক্ষ ও ভালো প্রশাসনের লক্ষণ নয়।

ঢাকার বেশির ভাগ কর্মকর্তা এই বিভাগের ইউএনও
ঢাকা বিভাগের ইউএনও হওয়া লোভনীয় পদ। এবারের পদায়ন লটারিতে বলা হলেও ঢাকায় কর্মরতরা এ বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সচিবদের একান্ত সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ২৯ জনের মধ্যে ১৫ জন এই বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। অথচ অন্য সাতটি বিভাগে ঢাকায় কর্মরতরা ততটা পদায়ন পাননি।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, কেন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে আমাদের বিবেচনায় দিতে পারত। নিয়োগ পাওয়াদের প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। প্রত্যাহার করাদের প্রজ্ঞাপন পাইনি।

ইউএনওদের পদায়ন ও বদলির ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনারদের অধীনে দিয়ে ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর লক্ষ্য ছিল মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ কমানো এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। তখন থেকে বিভাগীয় কমিশনাররা বদলি ও পদায়ন করছেন।

ইউএনওদের বদলি পদায়ন-সংক্রান্ত ২০১০ সালের পরিপত্রে বলা হয়, ইউএনওর শূন্য পদ পূরণের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়)। ফিটলিস্টভুক্ত ওইসব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হবে। এসব কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বিভাগীয় কমিশনাররা। এক বিভাগের ইউএনওকে অন্য বিভাগে সরাসরি বদলি করা যাবে না। কেউ অন্য বিভাগে বদলি হতে চাইলে তাঁর নিজ বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহারের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো ইউএনওকে দুই বছরের আগে বদলি করা যাবে না। পাশাপাশি তিন বছরের বেশি কোনো কর্মকর্তাকে একই কর্মস্থলে রাখা যাবে না। তবে পার্বত্য এলাকা এবং সরকার ঘোষিত দুর্গম এলাকায় কোনো কর্মকর্তাকে ইউএনও হিসেবে দুই বছরের বেশি রাখা যাবে না। কোনো ইউএনওকে একই জেলার অন্য উপজেলায় বদলি করা যাবে না। কোনো কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের অধিক ইউএনও পদে রাখা যাবে না। ইউএনও হিসেবে যাদের চাকরি পাঁচ বছর পূর্ণ হবে, তাদের তালিকা বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ত্রিশ কর্মদিবস আগে লিখিতভাবে বিভাগীয় কমিশনারকে জানাবেন।

বুধবার পৃথক ৮টি প্রজ্ঞাপনে ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইউএনও হিসেবে ন্যস্ত কর্মকর্তাদের নিজ অধিক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।

আরও বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলি কর্মস্থলে যোগ দেবেন। অন্যথায় আগামী ৩০ নভেম্বর বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল (প্রশিক্ষণ/কর্মস্থল) থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। বদলি কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।