ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরান যুদ্ধে নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র Logo দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী Logo হরমুজ প্রণালি সচল করতে এবার নামছে ইউরোপ ও জাপান Logo নৌযান-জেটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চে উঠছে যাত্রীরা Logo ইরান যুদ্ধ শক্তিশালী করেছে নেতানিয়াহুকে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাম্প ও উপসাগরীয় দেশগুলো Logo সাবেক কাউন্সিলর ও আ. লীগ নেতা হাসু গ্রেপ্তার Logo যুদ্ধের আবহে ১৭৮ মার্কিন-ইসরায়েলি গুপ্তচর গ্রেফতারের দাবি ইরানের Logo বাবাকে জন্নতে পাঠাতে মসজিদেই গলা টিপে মারার চেষ্টা ছেলের Logo যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা Logo ভুল ধরিয়ে দিন, বিরোধী দলকে পানিসম্পদমন্ত্রী

ইসরায়েলি মডেলে ভারতের বুলডোজার রাজনীতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ‘বুলডোজার বিচার’ বা ‘বুলডোজার রাজনীতি’ নামে এক নতুন এবং উদ্বেগজনক প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি এমন এক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, যেখানে অভিযুক্ত অপরাধী, দাঙ্গাকারী কিংবা সরকারের সমালোচকদের সম্পত্তি, বিশেষত তাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট, বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

এসব ঘটনা নিছক একটি আইনি বিষয় হিসেবে থাকেনি, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এক শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে এবং শাসনব্যবস্থার এক ভয়ংকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মূলত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাদের শাস্তি দেওয়ার এক বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি হিসেবে চর্চাটি বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, যা ভারতের আইন, মানবাধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

একটি সাধারণ নির্মাণ ও ধ্বংসকাজের যন্ত্র হিসেবে পরিচিত বুলডোজার যে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং বিচারবহির্ভূত শাস্তির প্রতীকে রূপান্তরিত হলো, তা রাতারাতি ঘটেনি। বরং এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশলের ফলাফল। এই নীতির প্রচলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
‘বুলডোজার বাবা’, ‘বুলডোজার মামা’

যোগী আদিত্যনাথ গণমাধ্যমে ‘বুলডোজার বাবা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর রাজ্য সরকার কুখ্যাত অপরাধী ও মাফিয়া, যেমন বিকাশ দুবে এবং মুখতার আনসারির অবৈধ সম্পত্তি ধ্বংস করার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করে।

পদক্ষেপটি অপরাধ দমনের এক কঠোর বার্তা হিসেবে প্রশংসিত হয় এবং যোগী আদিত্যনাথের ‘কঠোর প্রশাসক’ ভাবমূর্তি তৈরিতে সহায়তা করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতির প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত হয় এবং সরকারের সমালোচক, বিক্ষোভকারী এবং বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এটি ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত ‘তাৎক্ষণিক বিচার’ সাধারণ মানুষদের একটি শ্রেণির মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় বিজেপি এই আদিম প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছে।

‘বুলডোজার’ ভাবমূর্তিটি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচনী কৌশলে পরিণত হয়। ২০২২ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে সমর্থকেরা প্রায়ই খেলনা বুলডোজার নিয়ে উল্লাস করতেন। আদিত্যনাথের সাফল্যের পর, বিজেপি-শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলোও মডেলটি অনুসরণ করতে শুরু করে।

মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ‘বুলডোজার মামা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর রাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে দিল্লি, গুজরাট ও হরিয়ানার মতো রাজ্যেও দাঙ্গা বা বিক্ষোভের পর মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভেঙে ফেলার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা হয়।
ইসরায়েলি মডেলে অনুপ্রাণিত

শিবাঙ্গীরি মারিয়াম রাজ ও সোমদীপ সেনের মতো বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিয়েছেন, ভারতের সাম্প্রতিক বুলডোজার নীতি কিছুটা হলেও ইসরায়েলি মডেল দ্বারা অনুপ্রাণিত। বাড়িঘর ধ্বংসের এই নীতি ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইসরায়েল উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও, তারা এটিকে পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যাপক আকারে প্রয়োগ করেছে।

ভারত ও ইসরায়েল—উভয় দেশই আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করে না।

১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের যে নীতি ব্যবহার করে আসছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে নির্দিষ্ট ছিটমহলে সীমাবদ্ধ রাখা, তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং চূড়ান্তভাবে মধ্যবিত্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য পরিস্থিতি এতটাই দুর্বিষহ করে তোলা, যাতে তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ইসরায়েলের এই নীতির আনুষ্ঠানিক নাম ‘হাফরাদা’, যার হিব্রু অর্থ ‘বিচ্ছেদ’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’। এই নীতির অধীন ফিলিস্তিনিদের হাজার হাজার বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইসরায়েলের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রায়ই ‘প্রহসনমূলক’ বলে অভিহিত করা হয়।

ভারত ও ইসরায়েল—উভয় দেশই আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করে না। তবে এটা প্রয়োগের সময় ও ধরন থেকে এর শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভারতে বুলডোজার অভিযানের পদ্ধতি এবং এর পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এর লক্ষ্য কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। এই ধ্বংসযজ্ঞগুলো প্রায়ই দাঙ্গা বা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর দ্রুত চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য থাকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়ার আগেই শাস্তি দেওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুসারে, এই অভিযানগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়ি, ব্যবসা ও উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করেছে। শুধু ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে আসাম, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতে পরিচালিত এসব অভিযানে কমপক্ষে ১২৮টি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে অন্তত ৬১৭ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং তাদের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলি মডেলে ভারতের বুলডোজার রাজনীতি

আপডেট সময় ০৩:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ‘বুলডোজার বিচার’ বা ‘বুলডোজার রাজনীতি’ নামে এক নতুন এবং উদ্বেগজনক প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি এমন এক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, যেখানে অভিযুক্ত অপরাধী, দাঙ্গাকারী কিংবা সরকারের সমালোচকদের সম্পত্তি, বিশেষত তাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট, বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

এসব ঘটনা নিছক একটি আইনি বিষয় হিসেবে থাকেনি, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এক শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে এবং শাসনব্যবস্থার এক ভয়ংকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মূলত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাদের শাস্তি দেওয়ার এক বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি হিসেবে চর্চাটি বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়েছে, যা ভারতের আইন, মানবাধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

একটি সাধারণ নির্মাণ ও ধ্বংসকাজের যন্ত্র হিসেবে পরিচিত বুলডোজার যে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং বিচারবহির্ভূত শাস্তির প্রতীকে রূপান্তরিত হলো, তা রাতারাতি ঘটেনি। বরং এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশলের ফলাফল। এই নীতির প্রচলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
‘বুলডোজার বাবা’, ‘বুলডোজার মামা’

যোগী আদিত্যনাথ গণমাধ্যমে ‘বুলডোজার বাবা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর রাজ্য সরকার কুখ্যাত অপরাধী ও মাফিয়া, যেমন বিকাশ দুবে এবং মুখতার আনসারির অবৈধ সম্পত্তি ধ্বংস করার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করে।

পদক্ষেপটি অপরাধ দমনের এক কঠোর বার্তা হিসেবে প্রশংসিত হয় এবং যোগী আদিত্যনাথের ‘কঠোর প্রশাসক’ ভাবমূর্তি তৈরিতে সহায়তা করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতির প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত হয় এবং সরকারের সমালোচক, বিক্ষোভকারী এবং বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এটি ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত ‘তাৎক্ষণিক বিচার’ সাধারণ মানুষদের একটি শ্রেণির মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় বিজেপি এই আদিম প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছে।

‘বুলডোজার’ ভাবমূর্তিটি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচনী কৌশলে পরিণত হয়। ২০২২ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে সমর্থকেরা প্রায়ই খেলনা বুলডোজার নিয়ে উল্লাস করতেন। আদিত্যনাথের সাফল্যের পর, বিজেপি-শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলোও মডেলটি অনুসরণ করতে শুরু করে।

মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ‘বুলডোজার মামা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর রাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে দিল্লি, গুজরাট ও হরিয়ানার মতো রাজ্যেও দাঙ্গা বা বিক্ষোভের পর মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভেঙে ফেলার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা হয়।
ইসরায়েলি মডেলে অনুপ্রাণিত

শিবাঙ্গীরি মারিয়াম রাজ ও সোমদীপ সেনের মতো বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিয়েছেন, ভারতের সাম্প্রতিক বুলডোজার নীতি কিছুটা হলেও ইসরায়েলি মডেল দ্বারা অনুপ্রাণিত। বাড়িঘর ধ্বংসের এই নীতি ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইসরায়েল উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও, তারা এটিকে পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যাপক আকারে প্রয়োগ করেছে।

ভারত ও ইসরায়েল—উভয় দেশই আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করে না।

১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের যে নীতি ব্যবহার করে আসছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে নির্দিষ্ট ছিটমহলে সীমাবদ্ধ রাখা, তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং চূড়ান্তভাবে মধ্যবিত্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য পরিস্থিতি এতটাই দুর্বিষহ করে তোলা, যাতে তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ইসরায়েলের এই নীতির আনুষ্ঠানিক নাম ‘হাফরাদা’, যার হিব্রু অর্থ ‘বিচ্ছেদ’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’। এই নীতির অধীন ফিলিস্তিনিদের হাজার হাজার বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইসরায়েলের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রায়ই ‘প্রহসনমূলক’ বলে অভিহিত করা হয়।

ভারত ও ইসরায়েল—উভয় দেশই আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করে না। তবে এটা প্রয়োগের সময় ও ধরন থেকে এর শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভারতে বুলডোজার অভিযানের পদ্ধতি এবং এর পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এর লক্ষ্য কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। এই ধ্বংসযজ্ঞগুলো প্রায়ই দাঙ্গা বা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর দ্রুত চালানো হয়, যার মূল উদ্দেশ্য থাকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়ার আগেই শাস্তি দেওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুসারে, এই অভিযানগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়ি, ব্যবসা ও উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করেছে। শুধু ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে আসাম, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতে পরিচালিত এসব অভিযানে কমপক্ষে ১২৮টি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে অন্তত ৬১৭ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং তাদের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481