ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ছয়টি মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন সময় আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেরসহ তাদের পরিবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। ১৯ নভেম্বর (বুধবার) ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি শেষে ক্ষমা চান তিনি। ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, যদিও মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না।

তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা জানতে পারেন। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ মিলে ৬টি মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন বলেও জানান তিনি।

পরিশেষে ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চান। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি।

এর আগে গত ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। সেদিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয় এবং উপস্থিত আট আসামির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়।

গত ১৩ আগস্ট স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়। ওই দিন মামলার আট আসামিকে হাজির করা হয়। পাশাপাশি পলাতক থাকা সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজনকেও হাজির করার কথা ছিল; কিন্তু তারা উপস্থিত না হওয়ায় তাদের পক্ষে সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল এবং কনস্টেবল মুকুল। সাবেক এমপি সাইফুলসহ পলাতক আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ ১৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ দ্বারা জারি করা হয়।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ৬২ জন সাক্ষীর বিবরণ, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর পুলিশ তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো হয়নি; পেট্রোল ঢেলে তাকে জীবন্তই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ছয়টি মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ

আপডেট সময় ০৯:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন সময় আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেরসহ তাদের পরিবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। ১৯ নভেম্বর (বুধবার) ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি শেষে ক্ষমা চান তিনি। ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, যদিও মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না।

তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা জানতে পারেন। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ মিলে ৬টি মরদেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন বলেও জানান তিনি।

পরিশেষে ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চান। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি।

এর আগে গত ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। সেদিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয় এবং উপস্থিত আট আসামির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়।

গত ১৩ আগস্ট স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়। ওই দিন মামলার আট আসামিকে হাজির করা হয়। পাশাপাশি পলাতক থাকা সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজনকেও হাজির করার কথা ছিল; কিন্তু তারা উপস্থিত না হওয়ায় তাদের পক্ষে সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল এবং কনস্টেবল মুকুল। সাবেক এমপি সাইফুলসহ পলাতক আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ ১৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ দ্বারা জারি করা হয়।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ৬২ জন সাক্ষীর বিবরণ, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর পুলিশ তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো হয়নি; পেট্রোল ঢেলে তাকে জীবন্তই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।