ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেও বাঁচলেন মামুন! কেন?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেও কম সাজা পেলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালত ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সাবেক আইজিপি মামুনের অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসির যোগ্য। তবে, তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করেন। এই সহযোগিতার কারণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন, যা মামলার চূড়ান্ত রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্বীকারোক্তি এবং আইনি সহায়তার কারণেই ট্রাইব্যুনাল তাকে লঘুদণ্ড দিয়েছেন।

একই রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল পরিকল্পিত ও ব্যাপক পরিসরে।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে: ১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; ২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; ৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; ৪. রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা; ৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেও বাঁচলেন মামুন! কেন?

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করেও কম সাজা পেলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালত ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সাবেক আইজিপি মামুনের অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসির যোগ্য। তবে, তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করেন। এই সহযোগিতার কারণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন, যা মামলার চূড়ান্ত রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্বীকারোক্তি এবং আইনি সহায়তার কারণেই ট্রাইব্যুনাল তাকে লঘুদণ্ড দিয়েছেন।

একই রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল পরিকল্পিত ও ব্যাপক পরিসরে।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে: ১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; ২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; ৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; ৪. রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা; ৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।