ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ভরপেট খেয়েও কমবে ওজন, শুধু মেনে চলুন এই বিশেষ টিপস

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

বাঙালির জীবনে ভাত মানেই আবেগ। সকাল, দুপুর বা রাত—দিনের যে কোনো খাবারে ভাত না থাকলে যেন আহারই অপূর্ণ লাগে। ডাল-ভাত, মাছ-ভাত, মাংস-ভাত—যে নামেই বলুন না কেন, এই যুগলবন্দি ছাড়া আমাদের খাবারের টেবিল প্রায় অকল্পনীয়। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, ওজন কমানোর পথে ভাত যেন এক অঘোষিত ‘শত্রু’। অনেকে তাই ডায়েট শুরু করলেই প্রথমে ভাত বাদ দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, ওজন কমাতে ভাত পুরোপুরি ছাড়াই সমাধান নয়, বরং কীভাবে, কতটা ও কার সঙ্গে খাচ্ছেন, সেটিই আসল কৌশল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নিউট্রিশন কোচ জাস্টিন গিচাবা তার এক ভিডিওতে জানিয়ে দিয়েছেন, ভাত একা খেলে শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে ঠিকই, তবে সঠিক খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে ওজন কমানোও সম্ভব।

গিচাবার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত খুব সহজে হজম হয়, ফলে খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার খিদে পেয়ে যায়। এই তাড়াতাড়ি ক্ষুধা লাগার কারণে মানুষ না বুঝেই বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তার ভাষায়, ভাত থেকে পাওয়া এনার্জি দ্রুত ফুরিয়ে যায়, তাই শরীর নিজেই আরও খাবার চায়। এই চক্রটাই আমাদের মেদ বাড়িয়ে দেয়।

অনেক জিমপ্রেমী ভাত ও চিকেনকে আদর্শ কম্বিনেশন মনে করলেও, গিচাবার মতে সেটি ততটা নিখুঁত নয়। বরং যদি এই খাবারের বদলে ফাইবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শরীরে ফ্যাট কমানোর প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

তার মতে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। ফাইবার রক্তের চিনি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ৩০ গ্রাম ফাইবার বা প্রতিমিলে কমপক্ষে ১০ গ্রাম ফাইবার রাখার চেষ্টা করতে। তার সুপারিশ করা খাবারের তালিকায় আছে, বিনস, ছোলা, মসুর ডাল, সবুজ মটর, পালংশাক, ব্রকোলি এবং অ্যাভোকাডো।

গিচাবা বলেন, এই তালিকা থেকে প্রতিদিন কয়েকটি খাবার নিজের ডায়েটে রাখুন। দেখবেন, ভাত বাদ না দিয়েই মেদ কমানো কত সহজ হয়ে যায়। আমি নিজেও মাঝে মাঝে ভাত খাই, তবে বুঝেছি, মিষ্টি আলুর মতো খাবার তুলনামূলকভাবে কম ‘অতিরিক্ত খাওয়ার’ প্রবণতা তৈরি করে।

সংক্ষেপে, ভাতকে দোষারোপ না করে যদি খাবারের ভারসাম্য ও ফাইবারের পরিমাণে নজর রাখা যায়, তাহলে ভরপেট খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। অর্থাৎ, মেদ ঝরানোর যুদ্ধে ভাত নয়, বুদ্ধিদীপ্ত খাদ্যাভ্যাসই আসল অস্ত্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ভরপেট খেয়েও কমবে ওজন, শুধু মেনে চলুন এই বিশেষ টিপস

আপডেট সময় ০৩:০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

বাঙালির জীবনে ভাত মানেই আবেগ। সকাল, দুপুর বা রাত—দিনের যে কোনো খাবারে ভাত না থাকলে যেন আহারই অপূর্ণ লাগে। ডাল-ভাত, মাছ-ভাত, মাংস-ভাত—যে নামেই বলুন না কেন, এই যুগলবন্দি ছাড়া আমাদের খাবারের টেবিল প্রায় অকল্পনীয়। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, ওজন কমানোর পথে ভাত যেন এক অঘোষিত ‘শত্রু’। অনেকে তাই ডায়েট শুরু করলেই প্রথমে ভাত বাদ দেন। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, ওজন কমাতে ভাত পুরোপুরি ছাড়াই সমাধান নয়, বরং কীভাবে, কতটা ও কার সঙ্গে খাচ্ছেন, সেটিই আসল কৌশল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নিউট্রিশন কোচ জাস্টিন গিচাবা তার এক ভিডিওতে জানিয়ে দিয়েছেন, ভাত একা খেলে শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে ঠিকই, তবে সঠিক খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে ওজন কমানোও সম্ভব।

গিচাবার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত খুব সহজে হজম হয়, ফলে খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার খিদে পেয়ে যায়। এই তাড়াতাড়ি ক্ষুধা লাগার কারণে মানুষ না বুঝেই বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তার ভাষায়, ভাত থেকে পাওয়া এনার্জি দ্রুত ফুরিয়ে যায়, তাই শরীর নিজেই আরও খাবার চায়। এই চক্রটাই আমাদের মেদ বাড়িয়ে দেয়।

অনেক জিমপ্রেমী ভাত ও চিকেনকে আদর্শ কম্বিনেশন মনে করলেও, গিচাবার মতে সেটি ততটা নিখুঁত নয়। বরং যদি এই খাবারের বদলে ফাইবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শরীরে ফ্যাট কমানোর প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

তার মতে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। ফাইবার রক্তের চিনি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ৩০ গ্রাম ফাইবার বা প্রতিমিলে কমপক্ষে ১০ গ্রাম ফাইবার রাখার চেষ্টা করতে। তার সুপারিশ করা খাবারের তালিকায় আছে, বিনস, ছোলা, মসুর ডাল, সবুজ মটর, পালংশাক, ব্রকোলি এবং অ্যাভোকাডো।

গিচাবা বলেন, এই তালিকা থেকে প্রতিদিন কয়েকটি খাবার নিজের ডায়েটে রাখুন। দেখবেন, ভাত বাদ না দিয়েই মেদ কমানো কত সহজ হয়ে যায়। আমি নিজেও মাঝে মাঝে ভাত খাই, তবে বুঝেছি, মিষ্টি আলুর মতো খাবার তুলনামূলকভাবে কম ‘অতিরিক্ত খাওয়ার’ প্রবণতা তৈরি করে।

সংক্ষেপে, ভাতকে দোষারোপ না করে যদি খাবারের ভারসাম্য ও ফাইবারের পরিমাণে নজর রাখা যায়, তাহলে ভরপেট খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। অর্থাৎ, মেদ ঝরানোর যুদ্ধে ভাত নয়, বুদ্ধিদীপ্ত খাদ্যাভ্যাসই আসল অস্ত্র।