ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নীরব ঘাতকের হানায় পতনের মুখে ইসরাইল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

দখলদার ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নজিরবিহীন সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন- যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়, গাজায় বেসামরিক জনগণের ওপর গণহত্যার মানসিক চাপ এবং চরম হতাশা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আত্মহত্যার প্রবণতা মূলত গাজা যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত মানসিক চাপ ও নৈতিক পতনের ফল।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ১২৪ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। যাদের ৬৮ শতাংশ ছিলেন বাধ্যতামূলক সেনাসেবায় নিয়োজিত সৈনিক এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিলেন সক্রিয় যুদ্ধ ইউনিটের সদস্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা থেকে ফিরে আসার পর অনেক সৈন্য তীব্র মানসিক বিকার, বেসামরিক হত্যাযজ্ঞের অপরাধবোধ ও আবারও যুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে আত্মহত্যার মতো ভয়ানক পথ বেছে নিচ্ছেন।

অনেক সৈন্য জানিয়েছেন, বেসামরিক মানুষ হত্যা, বিশেষকরে শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণের মতো কর্মকাণ্ডের নৈতিক চাপ তাদের মধ্যে গভীর লজ্জা, শূন্যতা ও হতাশা তৈরি করেছে। যা পর্যাপ্ত মানসিক সহায়তার অভাবে আত্মহত্যার মানসিকতা তৈরি করছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই মানসিক পরামর্শ কেন্দ্র ও হেল্পলাইন চালু করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে- সেনাবাহিনীর কঠোর ও শৃঙ্খলিত সংস্কৃতি কার্যকর চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক সৈন্য সামাজিক বা পেশাগত কলঙ্কের ভয়ে তাদের বিষণ্নতার লক্ষণ গোপন করে রাখছেন।

এই সংকট এখন ইসরাইলি সমাজকেও নাড়া দিচ্ছে। আত্মহত্যায় প্রাণ-হারানো সেনাদের পরিবারগুলো সরকারকে এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে এবং এই মৃত্যুগুলোকে ‘সেবারত অবস্থায় মৃত্যু’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানাচ্ছে।

হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলো এই বলে সতর্ক করেছে যে, এই মানসিক ভাঙন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আজ এমন এক যুদ্ধে লিপ্ত যা গাজা বা লেবাননে নয়, বরং তাদের নিজেদের বিবেকের ভেতরেই চলছে। এই আত্মহত্যার প্রবণতা এখন তাদের অভ্যন্তরীণ পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যা দশকের পর দশক ধরে দখল ও সহিংসতার ভিত্তির ওপর নির্মিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নীরব ঘাতকের হানায় পতনের মুখে ইসরাইল

আপডেট সময় ০১:০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

দখলদার ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নজিরবিহীন সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন- যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়, গাজায় বেসামরিক জনগণের ওপর গণহত্যার মানসিক চাপ এবং চরম হতাশা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আত্মহত্যার প্রবণতা মূলত গাজা যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত মানসিক চাপ ও নৈতিক পতনের ফল।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ১২৪ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। যাদের ৬৮ শতাংশ ছিলেন বাধ্যতামূলক সেনাসেবায় নিয়োজিত সৈনিক এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিলেন সক্রিয় যুদ্ধ ইউনিটের সদস্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা থেকে ফিরে আসার পর অনেক সৈন্য তীব্র মানসিক বিকার, বেসামরিক হত্যাযজ্ঞের অপরাধবোধ ও আবারও যুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে আত্মহত্যার মতো ভয়ানক পথ বেছে নিচ্ছেন।

অনেক সৈন্য জানিয়েছেন, বেসামরিক মানুষ হত্যা, বিশেষকরে শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণের মতো কর্মকাণ্ডের নৈতিক চাপ তাদের মধ্যে গভীর লজ্জা, শূন্যতা ও হতাশা তৈরি করেছে। যা পর্যাপ্ত মানসিক সহায়তার অভাবে আত্মহত্যার মানসিকতা তৈরি করছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই মানসিক পরামর্শ কেন্দ্র ও হেল্পলাইন চালু করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে- সেনাবাহিনীর কঠোর ও শৃঙ্খলিত সংস্কৃতি কার্যকর চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক সৈন্য সামাজিক বা পেশাগত কলঙ্কের ভয়ে তাদের বিষণ্নতার লক্ষণ গোপন করে রাখছেন।

এই সংকট এখন ইসরাইলি সমাজকেও নাড়া দিচ্ছে। আত্মহত্যায় প্রাণ-হারানো সেনাদের পরিবারগুলো সরকারকে এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে এবং এই মৃত্যুগুলোকে ‘সেবারত অবস্থায় মৃত্যু’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানাচ্ছে।

হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলো এই বলে সতর্ক করেছে যে, এই মানসিক ভাঙন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আজ এমন এক যুদ্ধে লিপ্ত যা গাজা বা লেবাননে নয়, বরং তাদের নিজেদের বিবেকের ভেতরেই চলছে। এই আত্মহত্যার প্রবণতা এখন তাদের অভ্যন্তরীণ পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যা দশকের পর দশক ধরে দখল ও সহিংসতার ভিত্তির ওপর নির্মিত।