ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রণক্ষেত্র কি ভেনিজুয়েলা?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথাকথিত মাদকের স্রোত থামাতে ভেনিজুয়েলাকে আবারও হুমকি দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে প্রয়োজনে স্থল অভিযান পরিচালনা করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, এরপর ভেনিজুয়েলার ‘ভূখণ্ড হবে পরবর্তী’ অভিযানের ‘লক্ষ্য’।

এর আগে, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো মার্কিন হুমকি অগ্রাহ্য করে বলেছিলেন, ‘এই ভূমিকে কেউ ছুঁতে পারবে না।’ ফলে, এই আশঙ্কা দানা বাঁধছে যে, ভেনিজুয়েলা কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রণক্ষেত্র হতে যাচ্ছে!

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করব। কিন্তু যারা আমাদের দেশে মাদকদ্রব্যের চালান দিচ্ছে তাদের আমরা ছাড়ব না। তাদের আমরা হত্যা করব, ঠিকাছে?। এরপর স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন মাদকদ্রব্যগুলো স্থলপথে প্রবেশ করছে। এই স্থলপথই হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য।’

এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে ফিরে তিনি যোগ করেন, ‘পিট, তুমি কংগ্রেসে যাও, তাদের এটা জানাও। তারা কী করবে? বলবে আমরা চাই না যে আমাদের দেশে মাদক ঢোকা বন্ধ হোক?’

ট্রাম্প বলেন, ‘স্থলভাগের মাদকচক্রের জন্য এটা হবে আরও বিপজ্জনক। খুব শিগ্গিরই আপনারা সেটা দেখবেন। এভাবেই ব্যাপারটা এগোচ্ছে।’ স্থলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার উত্তেজনা আরও বাড়বে। গত সেপ্টেম্বরেই ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ১৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পর আরও পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়ে অনির্দিষ্টকাল মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৌ-হামলার প্রতিক্রিয়া।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আফগানিস্তানে দুই দশক যুদ্ধ চালিয়েছে। ইরাকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ আছে এই অভিযোগে হামলা চালিয়েছিল। এবার ভেনিজুয়েলার তথাকথিত মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নামে দেশটিতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।

‘দয়া করে কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’: মাদুরো

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন এবং কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে একটি আবেদন করেছেন, ‘দয়া করে, কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’ ইউনিয়ন নেতার সঙ্গে জোটবদ্ধ ইউনিয়নগুলোর এক বৈঠকে মাদুরো বলেছেন, ‘হ্যাঁ শান্তি, হ্যাঁ চিরকাল শান্তি, চিরকাল শান্তি। দয়া করে কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’ ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় এর আগে বুধবার মাদুরো নিজেদের সমরশক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তাদের কাছে ৫,০০০ রাশিয়ান বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

ভেনিজুয়েলার টেলিভিশন (ভিটিভি) সম্প্রচারিত সামরিক কর্মীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে মাদুরো বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো সামরিক বাহিনী ইগলা-এস-এর শক্তি জানে এবং ভেনিজুয়েলার কাছে কমপক্ষে ৫,০০০টি রয়েছে’।

উল্লেখ্য, রাশিয়ান ইগলা-এস ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমেরিকান স্টিংগারের মতো। এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ড্রোনের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তু, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নরত বিমানগুলোকে গুলি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রণক্ষেত্র কি ভেনিজুয়েলা?

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথাকথিত মাদকের স্রোত থামাতে ভেনিজুয়েলাকে আবারও হুমকি দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে প্রয়োজনে স্থল অভিযান পরিচালনা করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, এরপর ভেনিজুয়েলার ‘ভূখণ্ড হবে পরবর্তী’ অভিযানের ‘লক্ষ্য’।

এর আগে, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো মার্কিন হুমকি অগ্রাহ্য করে বলেছিলেন, ‘এই ভূমিকে কেউ ছুঁতে পারবে না।’ ফলে, এই আশঙ্কা দানা বাঁধছে যে, ভেনিজুয়েলা কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রণক্ষেত্র হতে যাচ্ছে!

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করব। কিন্তু যারা আমাদের দেশে মাদকদ্রব্যের চালান দিচ্ছে তাদের আমরা ছাড়ব না। তাদের আমরা হত্যা করব, ঠিকাছে?। এরপর স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন মাদকদ্রব্যগুলো স্থলপথে প্রবেশ করছে। এই স্থলপথই হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য।’

এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে ফিরে তিনি যোগ করেন, ‘পিট, তুমি কংগ্রেসে যাও, তাদের এটা জানাও। তারা কী করবে? বলবে আমরা চাই না যে আমাদের দেশে মাদক ঢোকা বন্ধ হোক?’

ট্রাম্প বলেন, ‘স্থলভাগের মাদকচক্রের জন্য এটা হবে আরও বিপজ্জনক। খুব শিগ্গিরই আপনারা সেটা দেখবেন। এভাবেই ব্যাপারটা এগোচ্ছে।’ স্থলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনিজুয়েলার উত্তেজনা আরও বাড়বে। গত সেপ্টেম্বরেই ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ১৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পর আরও পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়ে অনির্দিষ্টকাল মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৌ-হামলার প্রতিক্রিয়া।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আফগানিস্তানে দুই দশক যুদ্ধ চালিয়েছে। ইরাকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ আছে এই অভিযোগে হামলা চালিয়েছিল। এবার ভেনিজুয়েলার তথাকথিত মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নামে দেশটিতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।

‘দয়া করে কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’: মাদুরো

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন এবং কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে একটি আবেদন করেছেন, ‘দয়া করে, কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’ ইউনিয়ন নেতার সঙ্গে জোটবদ্ধ ইউনিয়নগুলোর এক বৈঠকে মাদুরো বলেছেন, ‘হ্যাঁ শান্তি, হ্যাঁ চিরকাল শান্তি, চিরকাল শান্তি। দয়া করে কোনো পাগলাটে যুদ্ধ নয়!’ ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় এর আগে বুধবার মাদুরো নিজেদের সমরশক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তাদের কাছে ৫,০০০ রাশিয়ান বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

ভেনিজুয়েলার টেলিভিশন (ভিটিভি) সম্প্রচারিত সামরিক কর্মীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে মাদুরো বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো সামরিক বাহিনী ইগলা-এস-এর শক্তি জানে এবং ভেনিজুয়েলার কাছে কমপক্ষে ৫,০০০টি রয়েছে’।

উল্লেখ্য, রাশিয়ান ইগলা-এস ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমেরিকান স্টিংগারের মতো। এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ড্রোনের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তু, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নরত বিমানগুলোকে গুলি করতে পারে।