ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না : সালাহউদ্দিন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন চায়। নির্বাচন সামনে রেখে দলটি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে আলোচনাকালে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক সমর্থন আপনার প্রতি ছিল, আছে। কিন্তু এটা সীমাহীন নয়, এটা শর্তসাপেক্ষ। আমাদের আপনাকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত থাকবে, তবে আমরা চাই আপনার নেতৃত্বে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন আর এটাই হচ্ছে আমাদের কন্ডিশন।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের সীমারেখা আছে। আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই সীমারেখার মধ্যে আপনাকে সমর্থন দিচ্ছি।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনোরকম ঝামেলার মধ্যে যেতে চাই না, পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের দোসর এই সুযোগ নেওয়ার জন্য বসে থাকবে। প্রতিশ্রুত সময়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে, যার কোনো বিকল্প নেই এই জাতির সামনে।’

বিএনপিনেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এমন একটা পরিবেশ আমাদের বজায় রাখতে হবে, যে পরিবেশে আমরা কথিত স্বৈরাচারকে আর কখনো এখানে সুযোগ নিতে দেব না। দীর্ঘদিন অনির্বাচিত অবস্থায় একটা সরকার পরিচালিত হলে অনেক সমস্যা উৎপত্তি হয়। সেজন্য আমরা বারবার বলছিলাম যত শিগগিরই সম্ভব নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তা না হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ সমস্ত অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে যা কিছু দেখা হয়েছে, সেই সমস্ত পূর্বলক্ষণ এদেশেও উৎপত্তি হবে। তাই এখন নির্বাচন বিলম্বিত হলে আরও বেশি সমস্যার উদ্ভবের সম্ভাবনা বিস্তর।’

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখানে যে সমস্ত বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়গুলোতে মতামত দেওয়ার জন্য তো উপদেষ্টা আপনি ঐকমত্য কমিশনের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদি এখানে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না-ই দেওয়া হতো, কিছু কিছু বিষয় অনৈক্য না-ই হতো তাহলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে যে সমস্ত প্রস্তাব দেওয়া হতো সবাই একমত হয়ে যেতাম। আমরা চাই সনদে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ কারা দিয়েছেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে পারবে সেগুলো সংকলিত হয়ে একটা জাতীয় সনদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ ও কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।

সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এ বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও যোগ দেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৈঠকে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না : সালাহউদ্দিন

আপডেট সময় ১২:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন চায়। নির্বাচন সামনে রেখে দলটি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে আলোচনাকালে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক সমর্থন আপনার প্রতি ছিল, আছে। কিন্তু এটা সীমাহীন নয়, এটা শর্তসাপেক্ষ। আমাদের আপনাকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত থাকবে, তবে আমরা চাই আপনার নেতৃত্বে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন আর এটাই হচ্ছে আমাদের কন্ডিশন।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের সীমারেখা আছে। আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই সীমারেখার মধ্যে আপনাকে সমর্থন দিচ্ছি।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনোরকম ঝামেলার মধ্যে যেতে চাই না, পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের দোসর এই সুযোগ নেওয়ার জন্য বসে থাকবে। প্রতিশ্রুত সময়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে, যার কোনো বিকল্প নেই এই জাতির সামনে।’

বিএনপিনেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এমন একটা পরিবেশ আমাদের বজায় রাখতে হবে, যে পরিবেশে আমরা কথিত স্বৈরাচারকে আর কখনো এখানে সুযোগ নিতে দেব না। দীর্ঘদিন অনির্বাচিত অবস্থায় একটা সরকার পরিচালিত হলে অনেক সমস্যা উৎপত্তি হয়। সেজন্য আমরা বারবার বলছিলাম যত শিগগিরই সম্ভব নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তা না হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ সমস্ত অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে যা কিছু দেখা হয়েছে, সেই সমস্ত পূর্বলক্ষণ এদেশেও উৎপত্তি হবে। তাই এখন নির্বাচন বিলম্বিত হলে আরও বেশি সমস্যার উদ্ভবের সম্ভাবনা বিস্তর।’

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখানে যে সমস্ত বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়গুলোতে মতামত দেওয়ার জন্য তো উপদেষ্টা আপনি ঐকমত্য কমিশনের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদি এখানে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না-ই দেওয়া হতো, কিছু কিছু বিষয় অনৈক্য না-ই হতো তাহলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে যে সমস্ত প্রস্তাব দেওয়া হতো সবাই একমত হয়ে যেতাম। আমরা চাই সনদে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ কারা দিয়েছেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করতে পারবে সেগুলো সংকলিত হয়ে একটা জাতীয় সনদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ ও কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।

সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এ বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও যোগ দেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৈঠকে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।