ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত আক্রমণভাগ নিয়ে ছুটছে ফরাসিরা। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগও যে সমান ভয়ংকর, তা ভালোভাবেই জানেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। বিশেষ করে স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের প্রভাব কমাতে আলাদা কৌশল নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালকে থামানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দেশম স্বীকার করেন, এক-এক লড়াইয়ে বার্সেলোনার এই তারকাকে সামলানো মোটেও সহজ নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ফ্রান্সের আক্রমণভাগেও এমন সব খেলোয়াড় আছেন, যাদের সামলানো স্পেনের রক্ষণভাগের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
দেশম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে ইয়ামালসহ স্পেনের আক্রমণভাগের প্রভাব যতটা সম্ভব সীমিত রাখা। এজন্য আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামব। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ওকে থামানো কঠিন, কিন্তু আমাদের ফরোয়ার্ডদের বিপক্ষে খেলাও স্পেনের ডিফেন্ডারদের জন্য সহজ হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে খুবই দক্ষ এবং সেই নিয়ন্ত্রণ থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। তারা এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে, কারণ বেশির ভাগ প্রতিপক্ষই বল নিজেদের দখলে রাখতে পারেনি। তবে আমাদেরও এমন সামর্থ্য আছে যে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলতে পারি।’
সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের বিপক্ষে সুখকর স্মৃতি নেই ফ্রান্সের। ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ—দুই সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছিল স্পেন। তবে দেশম এই ম্যাচকে প্রতিশোধের সুযোগ হিসেবে দেখতে নারাজ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফুটবলে প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। আগের দুটি ম্যাচ স্পেন জিতেছে এবং সেই কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। অবশ্য ওই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অনুপ্রেরণা নিতে পারি, কারণ আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় সেই ম্যাচগুলো খেলেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বাজি ধরা আছে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ।’
বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই স্পেনকে অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে দেখে আসছেন দেশম। সেনেগালের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগেও তিনি ফ্রান্সকে নয়, বরং স্পেনকেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ফরাসি কোচের ভাষায়, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি বাদ দিলে স্পেন প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। আমি লুইস দে লা ফুয়েন্তে বা তার দলের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চাই না। তারা আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই অসাধারণ। ছয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করাই তার প্রমাণ। আমি এবং লুইস—দুজনই রক্ষণ নিয়ে অনেক গুরুত্ব দিই। তবে দুই দলের আক্রমণভাগে যেসব বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে, তাতে দর্শকরা দারুণ উপভোগ্য একটি ম্যাচই দেখতে পাবেন।’

নিজস্ব সংবাদ : 
























