ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধপরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তেহরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ। এ অবস্থায় ইরাক, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠক থেকে এ ঘোষণা আসতে পারে।

এই পাইপলাইন মূলত ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুক থেকে সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াসের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করে। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিলে বাগদাদ এই লাইন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সময় পাইপলাইনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, পাইপলাইনটি চালু করতে হলে নতুন স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, পাম্প, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এমনকি পুরো পাইপলাইনটি নতুন করে প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। আর এই কাজ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। ইতোমধ্যে মার্কিন সংস্থাগুলোর একটি কনসোর্টিয়ামকে এই পুনর্গঠন কাজের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ইরাক। দেশটি তার মোট উৎপাদিত তেলের ৯৫ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করে।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা ভোর্টেক্সার মতে, গত মে মাসে ইরাকের সমুদ্রপথে তেল রপ্তানি গত বছরের গড় রপ্তানির মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও ইরাকের রাষ্ট্রীয় বাজেটের ৯০ শতাংশই আসে তেল বিক্রি থেকে। এ অবস্থায় হরমুজ অবরোধ বাগদাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

যুদ্ধকালীন ইরাক ট্যাঙ্কার ট্রাকের মাধ্যমে সিরিয়া হয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করলেও তার পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সারহাং হামাসায়িদের মতে, যুদ্ধের আগের সংশয় কাটিয়ে ইরাক এখন বুঝতে পেরেছে– তাদের সিরিয়াকে প্রয়োজন।

বাশার আল-আসাদ পরবর্তী সিরিয়া

২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন আহমেদ আল-শারার অনুগত মিলিশিয়ারা। শারা ক্ষমতা দখলের পর প্রাথমিকভাবে এই পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা হলেও তা গতি পায়নি। তবে বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে।

যদিও ইরাক সরকার ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া রাজনৈতিক দল ও মিলিশিয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তারা সুন্নি মুসলিম ও আল কায়দার সাবেক সহযোগী আল-নুসরা ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা শারাকে সন্দেহের চোখে দেখে। তবে শারা ক্ষমতা দখলের পর দ্রুত মার্কিন বলয়ে প্রবেশ করেছেন। তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সমর্থন রয়েছে তাঁর ওপর।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সিরিয়া এবং শারার দল হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্প সম্প্রতি আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে শারার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় স্পন্সর তালিকায় রাখা হলেও মার্কিন প্রশাসন তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা 

যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এই পাইপলাইন প্রকল্পে কাজ করা সহজ হবে। চলতি মাসের শুরুতে ইরাক সরকার কিরকুক ও হাদিসা থেকে বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য মার্কিন কোম্পানি ক্যাপিটাল টিআই ও শেভরন এবং একটি কাতারি কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানিও যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্প সফল হলে শুধু মার্কিন জ্বালানি ব্যবসার জন্যই লাভজনক হবে না, বরং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক আধিপত্য কিছুটা হলেও দুর্বল হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা

আপডেট সময় ১২:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধপরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তেহরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ। এ অবস্থায় ইরাক, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠক থেকে এ ঘোষণা আসতে পারে।

এই পাইপলাইন মূলত ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুক থেকে সিরিয়ার উপকূলীয় শহর বানিয়াসের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এই পাইপলাইনটি নির্মাণ করে। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিলে বাগদাদ এই লাইন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সময় পাইপলাইনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, পাইপলাইনটি চালু করতে হলে নতুন স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, পাম্প, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এমনকি পুরো পাইপলাইনটি নতুন করে প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। আর এই কাজ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। ইতোমধ্যে মার্কিন সংস্থাগুলোর একটি কনসোর্টিয়ামকে এই পুনর্গঠন কাজের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ইরাক। দেশটি তার মোট উৎপাদিত তেলের ৯৫ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করে।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা ভোর্টেক্সার মতে, গত মে মাসে ইরাকের সমুদ্রপথে তেল রপ্তানি গত বছরের গড় রপ্তানির মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও ইরাকের রাষ্ট্রীয় বাজেটের ৯০ শতাংশই আসে তেল বিক্রি থেকে। এ অবস্থায় হরমুজ অবরোধ বাগদাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

যুদ্ধকালীন ইরাক ট্যাঙ্কার ট্রাকের মাধ্যমে সিরিয়া হয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করলেও তার পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সারহাং হামাসায়িদের মতে, যুদ্ধের আগের সংশয় কাটিয়ে ইরাক এখন বুঝতে পেরেছে– তাদের সিরিয়াকে প্রয়োজন।

বাশার আল-আসাদ পরবর্তী সিরিয়া

২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন আহমেদ আল-শারার অনুগত মিলিশিয়ারা। শারা ক্ষমতা দখলের পর প্রাথমিকভাবে এই পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা হলেও তা গতি পায়নি। তবে বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে।

যদিও ইরাক সরকার ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া রাজনৈতিক দল ও মিলিশিয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তারা সুন্নি মুসলিম ও আল কায়দার সাবেক সহযোগী আল-নুসরা ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা শারাকে সন্দেহের চোখে দেখে। তবে শারা ক্ষমতা দখলের পর দ্রুত মার্কিন বলয়ে প্রবেশ করেছেন। তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সমর্থন রয়েছে তাঁর ওপর।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সিরিয়া এবং শারার দল হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্প সম্প্রতি আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে শারার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় স্পন্সর তালিকায় রাখা হলেও মার্কিন প্রশাসন তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা 

যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এই পাইপলাইন প্রকল্পে কাজ করা সহজ হবে। চলতি মাসের শুরুতে ইরাক সরকার কিরকুক ও হাদিসা থেকে বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য মার্কিন কোম্পানি ক্যাপিটাল টিআই ও শেভরন এবং একটি কাতারি কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানিও যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্প সফল হলে শুধু মার্কিন জ্বালানি ব্যবসার জন্যই লাভজনক হবে না, বরং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক আধিপত্য কিছুটা হলেও দুর্বল হবে।