ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন বাধা, সফটওয়্যার জটিলতায় পেছাল গেজেট

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। এই কারিগরি সমস্যার কারণেই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা যুক্ত হওয়া এবং অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক ও কারিগরি দিকগুলো সমন্বয় করে গেজেট প্রস্তুত করতে গিয়ে সরকারকে বাড়তি সময় নিতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে এই গেজেট জারি হতে পারে। তবে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হবে বলে জানা গেছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি কার্যকর করতে চাইছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সফটওয়্যার ব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি বা হাতে করা হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক লেনদেন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই অবস্থায় ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের কারিগরি পরিবর্তন আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ তিনি আরও জানান, এতে করে পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই কারিগরি জটিলতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় দুই বা তিন ধাপে অবসর সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে তারা রীতিমতো শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এই কারিগরি সংকট মোকাবিলায় সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন আব্দুল মালেক। তার মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রথম দফাতেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বারবার সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যারের সামঞ্জস্যতা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অবশ্যই সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন বাধা, সফটওয়্যার জটিলতায় পেছাল গেজেট

আপডেট সময় ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা। এই কারিগরি সমস্যার কারণেই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা যুক্ত হওয়া এবং অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক ও কারিগরি দিকগুলো সমন্বয় করে গেজেট প্রস্তুত করতে গিয়ে সরকারকে বাড়তি সময় নিতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে এই গেজেট জারি হতে পারে। তবে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হবে বলে জানা গেছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই এটি কার্যকর করতে চাইছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সফটওয়্যার ব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়ালি বা হাতে করা হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক লেনদেন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই অবস্থায় ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যারে বড় ধরনের কারিগরি পরিবর্তন আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগের মতো হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ এখন নেই। যদি একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।’ তিনি আরও জানান, এতে করে পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই কারিগরি জটিলতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেহেতু পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নসহ অধিকাংশ আর্থিক সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাই বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় দুই বা তিন ধাপে অবসর সুবিধা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে ভবিষ্যৎ প্রাপ্যতা নিয়ে তারা রীতিমতো শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এই কারিগরি সংকট মোকাবিলায় সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন আব্দুল মালেক। তার মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রথম দফাতেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বারবার সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি বর্তমানে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যারের সামঞ্জস্যতা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারকে অবশ্যই সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাকে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।