ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে ১০০ জনের বাংলা দ্বিতীয়পত্রের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা জামালপুর শহরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া কয়েক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা শেষে তারা সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বুঝতে পারেন যে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী যে প্রশ্নপত্র করা হয়েছে সেই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাদের।

পরীক্ষার কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের বান্ডিলে ২০২৫ সালের সিলেবাসের ওই সব প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ না থাকায় একটি কক্ষে ১০০টি ওইসব প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি জানালে বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। ১০০টি উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠালে শিক্ষা বোর্ড নমনীয় ও সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে মোট পরীক্ষার্থী ৯৬২ জন। আর অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থী রয়েছে ৬৯ জন। কেন্দ্রে তাদের জন্য রয়েছে পৃথক কক্ষ ও বসার স্থান। কিন্তু আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের ১০০ পরীক্ষার্থীর বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয় নির্ধারিত প্রশ্নে।

নুসরাত জাহান নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, সারাদেশের পরীক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। আর তারা ১০০ জন পরীক্ষা দিয়েছেন ভুল প্রশ্নে।

এক পরীক্ষার্থীর বাবা কাউসার জামালী শামীম জানান, সারাবছর অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন। মেয়েরাও নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিয়েছে। অথচ পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে তাদের মেয়েদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে গেল। এর বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগী কয়েক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার শুরুতেই সিলেবাসের বাইরে এবং ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন টের পেয়ে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরকে জানালে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, ‘যা পার তাই লিখ।’ যে কারণে পরে আর কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমের ভাষ্য, বিষয়টি জানাজানির পর বোর্ডে যোগাযোগ করেন তারা। বোর্ড থেকে বলেছে সেই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী দেখা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আফসানা তাসমিন বলেন, বিষয়টি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তাঁর ভিত্তিতেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. কামাল হাসান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই কথা বিবেচনা করে ওই প্রশ্নপত্রের আলোকেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা

আপডেট সময় ০১:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে ১০০ জনের বাংলা দ্বিতীয়পত্রের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা জামালপুর শহরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া কয়েক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা শেষে তারা সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বুঝতে পারেন যে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী যে প্রশ্নপত্র করা হয়েছে সেই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাদের।

পরীক্ষার কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের বান্ডিলে ২০২৫ সালের সিলেবাসের ওই সব প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ না থাকায় একটি কক্ষে ১০০টি ওইসব প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি জানালে বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়। ১০০টি উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠালে শিক্ষা বোর্ড নমনীয় ও সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে মোট পরীক্ষার্থী ৯৬২ জন। আর অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থী রয়েছে ৬৯ জন। কেন্দ্রে তাদের জন্য রয়েছে পৃথক কক্ষ ও বসার স্থান। কিন্তু আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের ১০০ পরীক্ষার্থীর বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয় নির্ধারিত প্রশ্নে।

নুসরাত জাহান নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, সারাদেশের পরীক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। আর তারা ১০০ জন পরীক্ষা দিয়েছেন ভুল প্রশ্নে।

এক পরীক্ষার্থীর বাবা কাউসার জামালী শামীম জানান, সারাবছর অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন। মেয়েরাও নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিয়েছে। অথচ পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির কারণে তাদের মেয়েদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে গেল। এর বিচার চান তিনি।

ভুক্তভোগী কয়েক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার শুরুতেই সিলেবাসের বাইরে এবং ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন টের পেয়ে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরকে জানালে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, ‘যা পার তাই লিখ।’ যে কারণে পরে আর কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমের ভাষ্য, বিষয়টি জানাজানির পর বোর্ডে যোগাযোগ করেন তারা। বোর্ড থেকে বলেছে সেই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী দেখা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আফসানা তাসমিন বলেন, বিষয়টি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তাঁর ভিত্তিতেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. কামাল হাসান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই কথা বিবেচনা করে ওই প্রশ্নপত্রের আলোকেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।