ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এ হিসাব বাস্তবে রূপ নিলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

চার মাস আগে নিহত হওয়া খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হয় ১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্য। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে জানাজার শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত জনতা মরদেহ বহনকারী যাত্রাপথ আটকে দিলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলিও ছোড়ে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেদিন দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরদিন সকাল ৭টায় পুনরায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন বলে জানানো হয়।

পরবর্তীতে **গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস** খোমেনির জানাজাকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময় ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশের সমান।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। টানা ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে তার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, এপি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ

আপডেট সময় ০৭:১১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এ হিসাব বাস্তবে রূপ নিলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

চার মাস আগে নিহত হওয়া খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হয় ১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্য। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে জানাজার শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শোকাহত জনতা মরদেহ বহনকারী যাত্রাপথ আটকে দিলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

প্রচণ্ড ভিড়ে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলিও ছোড়ে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেদিন দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরদিন সকাল ৭টায় পুনরায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন বলে জানানো হয়।

পরবর্তীতে **গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস** খোমেনির জানাজাকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন, যা সে সময় ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশের সমান।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। টানা ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে তার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, এপি।