ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

শুরুতেই হতাশা। একেবারে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে হতাশার গুনগুনানি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেনাল্টি মিসের পর ভেঙে পড়েছিলেন খানিক সময়ের জন্য। তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন এবং জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে নিলেন শেষ ৩২ এ। ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে নকআউটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢোকা মাত্রই শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ।

রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দেননি। পরে ফাউলটি আবার পরীক্ষা করতে ভিএআর স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

অষ্টম মিনিটে মেসি শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন যে তিনিও একজন মানুষ! তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দিলেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।

মেসির সামনে দারুণ সুযোগ ছিল ২১ মিনিটে! তিনি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, কিন্তু আলাবা পেছন থেকে বলটি ছুঁয়ে দেন। তাতে বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে হতাশা আর্জেন্টিনা শিবিরে।

৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসিও কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি গোলে শট নেন। গোলপোস্ট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় আলাবা একেবারে সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিত গোল ব্লক করে দেন।

৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই এবং পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে বলটিকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে ফিনিশিং করেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তো গেলেনই, দলকেও এগিয়ে দিলেন। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।

৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন।

৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়। মেসি বাম দিক থেকে একটি চমৎকার কর্নার কিকে বল ডি-বক্সে বাড়ান এবং গঞ্জালেস দুর্দান্তভাবে এগিয়ে এসে হেড করেন। চেষ্টাটি দারুণ ছিল এবং বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে ঘেঁষে চলে যায়।

দ্বিতীয় গোলের জন্য আর্জেন্টিনা চাপ দিতে থাকে। ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল গঞ্জালেসের সামনে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর তার নেওয়া শটটি ব্লক হয়ে যায় ৮৭ মিনিটে।

মেসি শেষ দিকে করেছেন আরেকটি গোল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে। তার নেওয়া শটটি শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয় শটে তিনি গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় ০১:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শুরুতেই হতাশা। একেবারে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে হতাশার গুনগুনানি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেনাল্টি মিসের পর ভেঙে পড়েছিলেন খানিক সময়ের জন্য। তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন এবং জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে নিলেন শেষ ৩২ এ। ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে নকআউটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢোকা মাত্রই শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ।

রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দেননি। পরে ফাউলটি আবার পরীক্ষা করতে ভিএআর স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

অষ্টম মিনিটে মেসি শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন যে তিনিও একজন মানুষ! তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দিলেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।

মেসির সামনে দারুণ সুযোগ ছিল ২১ মিনিটে! তিনি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, কিন্তু আলাবা পেছন থেকে বলটি ছুঁয়ে দেন। তাতে বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে হতাশা আর্জেন্টিনা শিবিরে।

৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসিও কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি গোলে শট নেন। গোলপোস্ট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় আলাবা একেবারে সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিত গোল ব্লক করে দেন।

৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই এবং পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে বলটিকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে ফিনিশিং করেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তো গেলেনই, দলকেও এগিয়ে দিলেন। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।

৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন।

৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়। মেসি বাম দিক থেকে একটি চমৎকার কর্নার কিকে বল ডি-বক্সে বাড়ান এবং গঞ্জালেস দুর্দান্তভাবে এগিয়ে এসে হেড করেন। চেষ্টাটি দারুণ ছিল এবং বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে ঘেঁষে চলে যায়।

দ্বিতীয় গোলের জন্য আর্জেন্টিনা চাপ দিতে থাকে। ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল গঞ্জালেসের সামনে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর তার নেওয়া শটটি ব্লক হয়ে যায় ৮৭ মিনিটে।

মেসি শেষ দিকে করেছেন আরেকটি গোল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে। তার নেওয়া শটটি শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয় শটে তিনি গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।