জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। ভৌগোলিক ও জনমিতিক অবস্থানের কারণে এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের উচ্চশিক্ষার একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, নার্সিং, মেডিকেল শিক্ষা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট যুক্ত করে একটি আধুনিক ও বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিমুখী চিন্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু বিসিএস ক্যাডার তৈরির মাধ্যমে নয়, বরং গবেষণা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমেও পরিমাপ করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জহির রায়হান মিলনায়তনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ বি এম আজিজুর রহমান নবাগত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও ইনস্টিটিউট পরিচালকদের কাছে পাঠদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি, গবেষণা, সংস্কৃতি ও আত্ম-আবিষ্কারের এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
উপাচার্য বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ভর্তিকৃত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আবাসিক জীবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অর্জন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি নবীনদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

নিজস্ব সংবাদ : 



























