ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

সবুজ শালবনের গভীরতা আর প্রকৃতির নীরবতায় ঘেরা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বদনীভাঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে নানা সুবিধা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এই জনপদে এবার পৌঁছেছে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। আর এই কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছেন গ্রামের শতাধিক নারী।

বুধবার (১৭ জুন) বদনীভাঙ্গা গ্রামে আয়োজিত হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তবে কার্ড বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ডিজিটাল সেবার সুফল যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে ভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপকারভোগীদের কার্ড ব্যবহারের বিভিন্ন দিক হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক নারীদের কার্ডের ব্যালেন্স যাচাই, মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য জানার পদ্ধতি এবং নিরাপদে কার্ড ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ জেলা কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি এমন প্রশিক্ষণ পেয়ে গ্রামীণ নারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

উপকারভোগীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক নারী বলেন, আগে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের সরাসরি নির্দেশনা ও সহযোগিতায় তারা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

 

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এ সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বদনীভাঙ্গার মা-বোনদের মুখের হাসিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

প্রত্যন্ত অরণ্যঘেরা বদনীভাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই আয়োজন শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়। বরং এটি ডিজিটাল সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। গ্রামের নারীদের উচ্ছ্বসিত মুখ আর আত্মবিশ্বাসী পদচারণায় যেন ফুটে উঠেছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নতুন এক ছবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা

আপডেট সময় ০১:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সবুজ শালবনের গভীরতা আর প্রকৃতির নীরবতায় ঘেরা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বদনীভাঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে নানা সুবিধা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এই জনপদে এবার পৌঁছেছে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। আর এই কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছেন গ্রামের শতাধিক নারী।

বুধবার (১৭ জুন) বদনীভাঙ্গা গ্রামে আয়োজিত হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে কার্ড তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তবে কার্ড বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ডিজিটাল সেবার সুফল যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে ভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপকারভোগীদের কার্ড ব্যবহারের বিভিন্ন দিক হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক নারীদের কার্ডের ব্যালেন্স যাচাই, মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য জানার পদ্ধতি এবং নিরাপদে কার্ড ব্যবহারের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ জেলা কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি এমন প্রশিক্ষণ পেয়ে গ্রামীণ নারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

উপকারভোগীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক নারী বলেন, আগে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের সরাসরি নির্দেশনা ও সহযোগিতায় তারা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

 

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এ সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বদনীভাঙ্গার মা-বোনদের মুখের হাসিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

প্রত্যন্ত অরণ্যঘেরা বদনীভাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই আয়োজন শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়। বরং এটি ডিজিটাল সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। গ্রামের নারীদের উচ্ছ্বসিত মুখ আর আত্মবিশ্বাসী পদচারণায় যেন ফুটে উঠেছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নতুন এক ছবি।