ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

দেশে না ফিরলে আ.লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে: গোলাম মাওলা রনি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতা হারানোর পর বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে দলটির নেতাকর্মীদের বিদেশে বসে রাজনীতি না করে দেশে ফিরে আসতে হবে।

তা না হলে আওয়ামী লীগ একসময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে ‘মুসলিম লীগ’-এ পরিণত হবে বলে বন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি কিংবা বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় এসেছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু, এরশাদ সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুতি কিংবা এক-এগারোর (১/১১) পটপরিবর্তনের সময়ও বিএনপি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বিএনপির তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দলের শীর্ষ নেতারা দেশেই ছিলেন, অনেকে জেল খেটেছেন। কিন্তু দলটির তৃণমূল ও নেতৃত্ব মাঠ ছাড়েনি। একইভাবে জাসদ, সর্বহারা পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোও চরম বিপদে কৌশলগত কারণে নেতৃত্ব বদল করলেও তাদের বড় একটি অংশ মাঠেই ছিল।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে প্রায় দু বছর হতে চলল।

কিন্তু এই সময়ে দলটির ভেতর কোনো ইতিবাচক বিবর্তন বা নেতৃত্বের পরিমার্জন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির সিংহভাগ নেতাই এখন ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দিল্লি, কলকাতা, নিউইয়র্ক বা কানাডায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে দূর দেশে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ফাঁকা আওয়াজ বা হুমকি দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করা হলো কি না—সেটি বড় বিষয় নয়।

মূল সংকট হলো দলটির মাঠপর্যায়ের অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, সব পরিণতি মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে না আসে, তবে দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘মুসলিম লীগ’-এর মতো বিলুপ্তির পথে হেঁটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীপু মনি, শাহজাহান খান বা আনিসুল হকদের মতো নেতাদেরও ভবিষ্যতে জামিন হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, যারা স্রেফ আতঙ্কের কারণে দেশ ছেড়েছেন, তাদের ভয় ও দুর্নাম দিন দিন বাড়তেই থাকবে। বিদেশে বসে থাকলে একসময় রাজনৈতিক অস্তিত্বের পাশাপাশি তাদের অর্জিত সম্পদও শেষ হয়ে যাবে। তাই এ দেশে রাজনীতি করতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ফিরে আসতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

দেশে না ফিরলে আ.লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে: গোলাম মাওলা রনি

আপডেট সময় ০২:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ক্ষমতা হারানোর পর বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হলে দলটির নেতাকর্মীদের বিদেশে বসে রাজনীতি না করে দেশে ফিরে আসতে হবে।

তা না হলে আওয়ামী লীগ একসময় রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে ‘মুসলিম লীগ’-এ পরিণত হবে বলে বন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি কিংবা বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় এসেছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু, এরশাদ সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুতি কিংবা এক-এগারোর (১/১১) পটপরিবর্তনের সময়ও বিএনপি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বিএনপির তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও দলের শীর্ষ নেতারা দেশেই ছিলেন, অনেকে জেল খেটেছেন। কিন্তু দলটির তৃণমূল ও নেতৃত্ব মাঠ ছাড়েনি। একইভাবে জাসদ, সর্বহারা পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোও চরম বিপদে কৌশলগত কারণে নেতৃত্ব বদল করলেও তাদের বড় একটি অংশ মাঠেই ছিল।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে প্রায় দু বছর হতে চলল।

কিন্তু এই সময়ে দলটির ভেতর কোনো ইতিবাচক বিবর্তন বা নেতৃত্বের পরিমার্জন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির সিংহভাগ নেতাই এখন ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দিল্লি, কলকাতা, নিউইয়র্ক বা কানাডায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে দূর দেশে বসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ফাঁকা আওয়াজ বা হুমকি দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করা হলো কি না—সেটি বড় বিষয় নয়।

মূল সংকট হলো দলটির মাঠপর্যায়ের অনুপস্থিতি। তিনি বলেন, সব পরিণতি মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি সাহস করে বাংলাদেশে ফিরে না আসে, তবে দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘মুসলিম লীগ’-এর মতো বিলুপ্তির পথে হেঁটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীপু মনি, শাহজাহান খান বা আনিসুল হকদের মতো নেতাদেরও ভবিষ্যতে জামিন হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, যারা স্রেফ আতঙ্কের কারণে দেশ ছেড়েছেন, তাদের ভয় ও দুর্নাম দিন দিন বাড়তেই থাকবে। বিদেশে বসে থাকলে একসময় রাজনৈতিক অস্তিত্বের পাশাপাশি তাদের অর্জিত সম্পদও শেষ হয়ে যাবে। তাই এ দেশে রাজনীতি করতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ফিরে আসতে হবে।