ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

চীন-পাকিস্তান সীমান্তে শক্তি বাড়াতে শতাধিক রাফাল কিনছে ভারত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়া গতি পেতে শুরু করেছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে আরও ১১৪টি সর্বাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এই কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার এই সফর কেবল প্রথাগত সৌজন্যমূলক নয়, বরং এই মেগা চুক্তির বাস্তবায়নকে দ্রুততর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত ইতোমধ্যেই এই যুদ্ধবিমান কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ফ্রান্সের কাছে পাঠিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফ্রান্স এর মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং রসদ সহায়তার বিশদ বিবরণসহ ফিরতি জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হবে দুই দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা আগামী এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।

ফ্রান্স সফরে বিমানবাহিনী প্রধান রাফালের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডাসো অ্যাভিয়েশন’ এবং মেটিওর ও স্কাল্পের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘এমবিডিএ’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এই আলোচনায় কেবল বিমান কেনাই নয়, বরং ভারতে এর উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়ের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে। একইসঙ্গে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ফ্রান্স সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু পুরো চুক্তিটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি বা ‘গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট’ মডেলে এগোচ্ছে, তাই শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফর চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের ঘাটতি মেটাতে এই চুক্তি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিমানবাহিনীর অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে এখন মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সচল রয়েছে, বিশেষ করে পুরোনো মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলো অবসরে যাওয়ার পর এই শূন্যতা আরও বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে ১১৪টি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে রাফালকেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই সফলভাবে ৩৬টি রাফাল বিমান পরিচালনা করছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। পূর্বপরিচিত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত পাইলট থাকায় নতুন বিমানগুলো বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা বেশ সহজ হবে।

এই প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির প্রতিফলন। ১১৪টি বিমানের মধ্যে মাত্র ২০টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি হয়ে আসবে, আর বাকি ৯৪টি যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ডাসো অ্যাভিয়েশন কোনো ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয়করণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার অর্থ বিমানের অনেক যন্ত্রাংশ ও অস্ত্র তৈরি হবে ভারতেই।

যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে নৌবাহিনীর জন্য চুক্তি হওয়া ২৬টি রাফাল-এম এবং আগের ৩৬টি বিমানসহ ভারতের মোট রাফাল বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টিতে। এর ফলে চীন ও পাকিস্তান—উভয় সীমান্তে ভারতের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এক ধাক্কায় বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

চীন-পাকিস্তান সীমান্তে শক্তি বাড়াতে শতাধিক রাফাল কিনছে ভারত

আপডেট সময় ০৭:০০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়া গতি পেতে শুরু করেছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে আরও ১১৪টি সর্বাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এই কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার এই সফর কেবল প্রথাগত সৌজন্যমূলক নয়, বরং এই মেগা চুক্তির বাস্তবায়নকে দ্রুততর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত ইতোমধ্যেই এই যুদ্ধবিমান কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ফ্রান্সের কাছে পাঠিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফ্রান্স এর মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং রসদ সহায়তার বিশদ বিবরণসহ ফিরতি জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হবে দুই দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা আগামী এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।

ফ্রান্স সফরে বিমানবাহিনী প্রধান রাফালের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডাসো অ্যাভিয়েশন’ এবং মেটিওর ও স্কাল্পের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘এমবিডিএ’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এই আলোচনায় কেবল বিমান কেনাই নয়, বরং ভারতে এর উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়ের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে। একইসঙ্গে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ফ্রান্স সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু পুরো চুক্তিটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি বা ‘গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট’ মডেলে এগোচ্ছে, তাই শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফর চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের ঘাটতি মেটাতে এই চুক্তি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিমানবাহিনীর অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে এখন মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সচল রয়েছে, বিশেষ করে পুরোনো মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলো অবসরে যাওয়ার পর এই শূন্যতা আরও বেড়েছে। এই ঘাটতি পূরণে ১১৪টি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে রাফালকেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনী ইতোমধ্যেই সফলভাবে ৩৬টি রাফাল বিমান পরিচালনা করছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। পূর্বপরিচিত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত পাইলট থাকায় নতুন বিমানগুলো বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা বেশ সহজ হবে।

এই প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির প্রতিফলন। ১১৪টি বিমানের মধ্যে মাত্র ২০টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি হয়ে আসবে, আর বাকি ৯৪টি যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ডাসো অ্যাভিয়েশন কোনো ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয়করণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার অর্থ বিমানের অনেক যন্ত্রাংশ ও অস্ত্র তৈরি হবে ভারতেই।

যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে নৌবাহিনীর জন্য চুক্তি হওয়া ২৬টি রাফাল-এম এবং আগের ৩৬টি বিমানসহ ভারতের মোট রাফাল বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টিতে। এর ফলে চীন ও পাকিস্তান—উভয় সীমান্তে ভারতের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এক ধাক্কায় বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

সূত্র: এনডিটিভি