ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বিশ্বের মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে তাদের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন অপতৎপরতা চালানো বন্ধ না করে, তবে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে তা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শনিবার (১৬ মে) নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতি এমনই নজিরবিহীন ও কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক এক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ইসলামাবাদের উদ্দেশে এই কড়া বার্তা দেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে দেওয়া তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্য দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গত বছর সংঘটিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি যদি সীমান্তে আবার তৈরি হয়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী তার কেমন জবাব দেবে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে গিয়ে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনারা যদি আগে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, তবে জানেন আমি কী বলেছিলাম… পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের লালন-পালন করতে থাকে এবং ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নিজেদের ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখবে নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন করে দেবে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীরের পাহালগামে একটি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা। সেই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং সন্ত্রাসবাদের সমূলে উৎপাটন করতে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে নিখুঁত বিমান ও সামরিক হামলা বা প্রিসিশন স্ট্রাইক চালায়, যা সামরিক ইতিহাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।

ভারতের সেই আকস্মিক হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার জবাবে ভারতের পরবর্তী সমস্ত কাউন্টার-অফেনসিভ বা প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযানগুলোও এই অপারেশন সিন্দুরের অধীনেই পরিচালিত হয়েছিল। দুই দেশের এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও আকাশ যুদ্ধ টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে।

পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার পর ১০ মে সন্ধ্যায় একটি গোপন ও পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে প্রথম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই নতুন হুমকি প্রমাণ করে, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বিশ্বের মানচিত্র থেকে পাকিস্তানকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের

আপডেট সময় ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে তাদের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন অপতৎপরতা চালানো বন্ধ না করে, তবে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে তা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শনিবার (১৬ মে) নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতি এমনই নজিরবিহীন ও কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।

‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক এক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ইসলামাবাদের উদ্দেশে এই কড়া বার্তা দেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে দেওয়া তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্য দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, গত বছর সংঘটিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি যদি সীমান্তে আবার তৈরি হয়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী তার কেমন জবাব দেবে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে গিয়ে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনারা যদি আগে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, তবে জানেন আমি কী বলেছিলাম… পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের লালন-পালন করতে থাকে এবং ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নিজেদের ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখবে নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন করে দেবে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীরের পাহালগামে একটি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা। সেই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং সন্ত্রাসবাদের সমূলে উৎপাটন করতে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে নিখুঁত বিমান ও সামরিক হামলা বা প্রিসিশন স্ট্রাইক চালায়, যা সামরিক ইতিহাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।

ভারতের সেই আকস্মিক হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার জবাবে ভারতের পরবর্তী সমস্ত কাউন্টার-অফেনসিভ বা প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযানগুলোও এই অপারেশন সিন্দুরের অধীনেই পরিচালিত হয়েছিল। দুই দেশের এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও আকাশ যুদ্ধ টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে।

পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার পর ১০ মে সন্ধ্যায় একটি গোপন ও পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে প্রথম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই নতুন হুমকি প্রমাণ করে, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।

সূত্র: এনডিটিভি